img

রিজভীর বক্তব্য 'মিথ্যা', সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন শাবনূর

প্রকাশিত :  ১১:০৬, ০৮ আগষ্ট ২০২৬

রিজভীর বক্তব্য 'মিথ্যা', সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন শাবনূর

চিত্রনায়িকা শাবনূর সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন পর মুখ খুলেছেন। সম্প্রতি সালমান শাহর মৃত্যুকে ঘিরে রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে রিজভীর বক্তব্যকে ‘অসংগতিপূর্ণ, বিভ্রান্তিকর ও অসত্য’ বলে দাবি করেন শাবনূর।

শাবনূর জানান, সালমান শাহর মৃত্যুর পরই প্রথম রিজভী আহমেদের নাম শুনেছিলেন তিনি। তার দাবি, রিজভী একসময় সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে আবার ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেন তিনি। সম্প্রতি দেওয়া সাক্ষাৎকারগুলোতেও রিজভী একই দাবি করেছেন এবং সালমানের মৃত্যুর জন্য তার মা নীলা চৌধুরী ও শাবনূরকে দায়ী করেছেন বলে জানান অভিনেত্রী।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে শাবনূর বলেন, রিজভীর সঙ্গে তার কখনো কোনো যোগাযোগ ছিল না। এমনকি রিজভীর দাবি করা ২০১৬ সালে তাদের বিয়ে এবং ২০১৮ সালে বিচ্ছেদের কথাও সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন তিনি। শাবনূরের ভাষ্য, ওই সময়ের অনেক আগেই তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং রিজভীকে তিনি চেনেনও না।

রিজভীর বক্তব্যকে কটাক্ষ করে শাবনূর বলেন, তার সঙ্গে বিয়ের দাবি শুনে মনে হচ্ছে বাস্তবে কোনো বিয়ে নয়, হয়তো ‘স্বপ্নের বাসর’ হয়েছিল।

সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন শাবনূর। তার দাবি, সালমানের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে রিজভীর বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মানহানিকর।

পাশাপাশি সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শাবনূর। তিনি বলেন, সালমান তার কাছে শুধু জনপ্রিয় নায়কই ছিলেন না, প্রিয় সহশিল্পী ও বড় ভাইয়ের মতো একজন মানুষ ছিলেন। মৃত্যুর ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও চান তিনি।

অবশেষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে শাবনূর বলেন, \'আমি বরাবরের মতোই স্পষ্ট করে বলতে চাই, সালমান শাহর মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র কোনো সংযোগ ছিল না। তিনি কীভাবে মারা গেছেন সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। সালমান শাহ শুধু একজন জনপ্রিয় নায়কই ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমার অত্যন্ত প্রিয় সহশিল্পী এবং বড় ভাইয়ের মতো একজন মানুষ। তাঁর অকাল মৃত্যু আজও আমাকে ব্যথিত করে। আমি আন্তরিকভাবে চাই, একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হোক এবং এই ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।\'


বিনোদন এর আরও খবর

img

বন্যাদুর্গত মানুষদের জন্য ৫০০ ঘর বানিয়ে দিচ্ছেন সালমান খান

প্রকাশিত :  ১০:৫৮, ০৮ আগষ্ট ২০২৬

আসামে ভয়াবহ বন্যায় হাজারো পরিবারের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কঠিন এই সময়ে গৃহহারা মানুষদের জন্য ৫০০টি আধা স্থায়ী ঘর নির্মাণ করে দিতে যাচ্ছেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। এই উদ্যোগ সফল করতে ইতোমধ্যেই একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (এনজিও) সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন তিনি। 

সালমান খানের সংস্থা ‘বিইং হিউম্যান’ এর আগেও বন্যাকবলিত এলাকায় অসহায় মানুষের কাছে খাবার এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দিয়েছে। এবার ত্রাণ কার্যক্রমের দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। গত কয়েক দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হওয়া আসামে এখন গৃহহারা পরিবারগুলোর জন্য ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।

মিড-ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নেপালি খুটি গ্রামে এখন পর্যন্ত প্রায় ২২০টি আধা স্থায়ী ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুনর্বাসনের বিষয়টি শুরু থেকেই ত্রাণ পরিকল্পনার অংশ ছিল। তবে সালমান খান যখন বলিউড তারকা রণদীপ হুদাকে ঘটনাস্থলে গিয়ে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখেন, সবার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ত্রাণকাজ করতে দেখেন, তখন তিনি এ উদ্যোগ আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে দুজনের মধ্যে এ বিষয়ে কথাবার্তা হয়।

খবর অনুযায়ী, রণদীপ সালমানকে জানান যে গ্লোবাল শিখসের ত্রাণ কার্যক্রমে ৭০ জন একসঙ্গে কাজ করছেন। তিনি এ–ও জানান, এই মুহূর্তে তাদের কী কী প্রয়োজন। গ্লোবাল শিখসের প্রতিষ্ঠাতা অমরপ্রীত সিং সালমানকে জানান, তারা বাঁশ ও টিনের ছাদ দিয়ে আধা স্থায়ী ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন, যা বন্যা থেকে নিরাপদ থাকবে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার রুপি খরচ হবে। এরপরই সালমান এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হন এবং যৌথভাবে ৫০০টি ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন।

ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অমরপ্রীত সিং মিড-ডে–কে বলেছেন, ‘কয়েক দিন আগে সালমান খান আমাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, আর উনি চিন্তা করতে বারণ করেছেন। এই মুহূর্তে শিবসাগর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, আর এর কেন্দ্র নেপালি খুটি। নির্মাণের প্রথম ধাপে ২২০টি ঘরের কাজ শেষ হয়েছে এবং আমরা সেগুলো প্রতিটি পরিবারের মধ্যে হস্তান্তর করছি। আমরা প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি ঘর নির্মাণ করতে পারি।’

অন্যদিকে রণদীপ হুদাও ধারাবাহিকভাবে ত্রাণকাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটি শিবসাগর রেলস্টেশন। আশপাশের এলাকা থেকে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তাই আমরা খাবার রান্না করছি, তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি এবং সাত দিন ধরে প্রতিদিনই এই কাজ করছি। মানবতাই সবার আগে। আমি বহু বছর ধরে গ্লোবাল শিখস নামের এই দলের সঙ্গে কাজ করছি। তারা তৃণমূল পর্যায়ে যে কাজ করেছে, তা সত্যিই অসাধারণ। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ান। শুধু এখানে নয়, যেখানেই কোনো সমস্যা হোক না কেন। মানুষ হিসেবে মানুষের সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব। আর সে কারণেই আমরা এখানে আছি।’