img

রাখিবন্ধনে খোলামেলা পোশাক, কৃতি শ্যাননকে বয়কটের ডাক

প্রকাশিত :  ১৪:১৯, ২৪ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:১১, ২৪ আগষ্ট ২০২৬

রাখিবন্ধনে খোলামেলা পোশাক, কৃতি শ্যাননকে বয়কটের ডাক

বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন রাখিবন্ধনের আগে বিতর্কে জড়ালেন। উৎসবকে কেন্দ্র করে একটি জুয়েলারি ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে তাকে। বিজ্ঞাপনটি প্রকাশ্যে আসতেই কৃতির পোশাক ও পোষ্যকে রাখি পরানোর দৃশ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা। এমনটি অভিনেত্রীকে বয়কটের ডাক দিয়েছেন অনেকে।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিজ্ঞাপনচিত্রে ভাইয়ের সঙ্গে রাখিবন্ধন উদযাপন করছেন কৃতি। তবে বিজ্ঞাপনের ভিডিও প্রকাশের পর কৃতির পোশাক নিয়ে বেশি আপত্তি জানিয়েছেন নেটিজেনদের একাংশ।

তাদের দাবি, রাখিবন্ধনের মতো ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক উৎসবের বিজ্ঞাপনে অভিনেত্রীর খোলামেলা পোশাক মোটেই মানানসই নয়। বিশেষ করে ভাইয়ের সামনে এমন পোশাকে আরও বেশি আপত্তিকর। তাকে এভাবে দেখানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সঙ্গে এমন পোশাকের সামঞ্জস্য নেই। তাদের মতে, পারিবারিক উৎসবের বিজ্ঞাপন নির্মাণের ক্ষেত্রে পোশাক নির্বাচনে আরও সচেতন হওয়া উচিত ছিল।

এমনকি কয়েকজন নেটিজেনরা কৃতির পোশাক ও বিজ্ঞাপনের ধারণাকে ‘অশালীন’ বলে মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ অভিনেত্রীকে বয়কটের দাবিও তুলেছেন।

কৃতির পোশাকের সমালোচনা করে একজন লিখেছেন, ‘নতুন একটি গয়নার বিজ্ঞাপনে ভাইকে রাখি পরানোর সময় কৃতি শ্যানন অন্তর্বাস পরেছেন, যা খুবই দৃষ্টিকটু।’

এ ধরনের মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, বিজ্ঞাপনের পোশাকের বিষয়টি অনেকের কাছে নিছক ফ্যাশনের প্রশ্ন হয়ে থাকেনি; বরং তাঁরা এটিকে উৎসবের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করেছেন।

তবে কৃতির সমর্থনেও সরব হয়েছেন অনেকে। তাদের যুক্তি, রাখিবন্ধনের মূল বিষয় ভালোবাসা, যত্ন ও পারস্পরিক সুরক্ষা। পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচিত পোষ্যকে রাখি পরানোর মধ্যে আপত্তিকর কিছু নেই। বরং এর মাধ্যমে মানুষ ও পোষ্য প্রাণীর সম্পর্ককে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

সমালোচনা শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কৃতি শ্যানন এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করা হবে কি না, কিংবা এর কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না, সেটিও জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট গয়না ব্র্যান্ডের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। 

প্রসঙ্গত, চলতি বছর কৃতিকে দেখা গেছে ‘ককটেল ২’ সিনেমায়। শহীদ কাপুর ও রাশমিকা মান্দানার সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। সিনেমাটি ২০১০ সালের জনপ্রিয় ‘ককটেল’-এর পরবর্তী কিস্তি।সূত্র: এনডিটিভি


বিনোদন এর আরও খবর

img

সুযোগটা কাজে লাগিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান তমা মির্জা

প্রকাশিত :  ০৯:১৬, ২০ আগষ্ট ২০২৬

অভিনেত্রী তমা মির্জার জীবনের গণ্ডি শুধু অভিনয়ের মধ্যেই আটকে রাখতে চাননি। অভিনয়ের পাশাপাশি এবার নতুন এক পরিচয়ে নিজেকে যুক্ত করেছেন এই অভিনেত্রী। প্রায় তিন মাস ধরে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি এবি ব্যাংকের ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশনস বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এভিপি) পদে কাজ শুরু করছেন তমা। রুপালি পর্দার এই পরিচিত মুখটি এখন নিয়মিত অফিস করছেন, সামলাচ্ছেন করপোরেট দুনিয়ার নতুন দায়িত্বও। নতুন এই অধ্যায় নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত তমা। তাঁর কাছে বিষয়টি শুধু চাকরি নয়, বরং নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার একটি সুযোগ।

নতুন সহকর্মী, নতুন পরিবেশ, নতুন দায়িত্ব–সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতাটি উপভোগ করছেন তিনি। তমার ভাষায়, ‘নতুন সহকর্মী, নতুন পরিবেশ। নতুন বন্ধুও পেয়েছি। সব মিলিয়ে দারুণ কাটছে।’ অভিনেত্রী থেকে ব্যাংকার। পরিবর্তনটা হয়তো অনেকের কাছে চমকপ্রদ। তবে তমার কাছে এটি জীবনের স্বাভাবিক একটি পর্ব। অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা যেমন আগের মতোই আছে, তেমনি পেশাগত জীবনে নতুন কিছু শেখার আগ্রহও রয়েছে। তাই ব্যাংকের চাকরিকে তিনি দেখছেন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হিসেবে।

সামাজিক মাধ্যমে নতুন এই অধ্যায়ের কথা জানিয়ে তমা লিখেছেন, জীবনের একটি নতুন অধ্যায় সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে যাচ্ছেন তিনি। সেখানে নিজের প্রথম ভালোবাসা হিসেবে অভিনয়ের কথাই আগে উল্লেখ করেছেন। জানিয়েছেন, অভিনয়ে তিনি আছেন, থাকবেন এবং সামনে আরও কাজ করবেন। এরপরই জানিয়েছেন নতুন পরিচয়ের কথা। এবি ব্যাংকের ‘ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন’ বিভাগে যোগ দেওয়ার খবর। অভিনয়ের পাশাপাশি নতুন এই পেশাতেও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

তবে ব্যাংকার তমা মানেই যে অভিনয়ে বিরতি, এমনটা একেবারেই নয়। বরং দুটি পরিচয়কে সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিতে চান তিনি। অভিনয়কে নিজের প্রথম ভালোবাসা উল্লেখ করে তমা বলেন, ‘অভিনয় আমার প্রথম ভালোবাসা আর ভালো লাগার জায়গা। এখানেই আছি, থাকব, আমৃত্যু কাজ করব ইনশাআল্লাহ।’ তাঁর নতুন কর্মস্থল থেকেও অভিনয় চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

আসলে তমার অভিনয়জীবনের ধরনটাই এমন। নিয়মিত পর্দায় দেখা যাওয়ার চেয়ে বেছে বেছে কাজ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। বছরে একটি কিংবা দুটি সিনেমায় কাজ করলেও চরিত্র ও গল্প নির্বাচনে যথেষ্ট সময় নেন। ফলে অভিনয়ের বাইরে অন্য কিছু করার জন্য তাঁর হাতে সময়ও থাকে। সেই সময়কে কাজে লাগিয়েই এবার করপোরেট জগতের অভিজ্ঞতা নিতে চেয়েছেন।

তাঁর কথায়, ‘আমি খুব বেছে বেছে কাজ করি। বছরে একটা কিংবা দুটো সিনেমায় কাজ করি। জীবনের বাকি সময়টা অন্য কিছু এক্সপ্লোর করতে পারাটা দারুণ একটা সুযোগ। সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে আমার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই।’

‘দাগি’ সিনেমার পর তমাকে ঘিরে দর্শকের আগ্রহও বেড়েছে। গত বছর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটিতে অভিনয়ের মাধ্যমে প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। এরপর একাধিক সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব এলেও কোনোটি নিয়ে শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এগোননি। পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, কয়েকটি সিনেমার কাজ চূড়ান্ত পর্যায়েও পৌঁছেছিল। গল্প ও চরিত্র পছন্দ না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

অবশেষে নতুন সিনেমায় কাজের জন্য প্রস্তুত হয়েছেন তমা। চলতি মাসের শেষ দিকে কিংবা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় শুরু হতে পারে ছবিটির শুটিং। ছবিটির প্রাথমিক নাম ‘খলনায়ক’, যদিও পরে নাম পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য এরই মধ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তমা।

‘দাগি’র পর নতুন ছবিতে ফেরার সিদ্ধান্তটিও তাঁর কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গল্প ও চরিত্র–দুটিই তাঁকে আকৃষ্ট করেছে। অর্থাৎ সামনে তমার জীবনে দুটি জগৎ পাশাপাশি চলবে। একদিকে লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন আর অন্যদিকে অফিস, মিটিং, ব্র্যান্ড ও কমিউনিকেশনের করপোরেট জগৎ। অভিনয়ের পরিচিত গণ্ডির বাইরে নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে আরও বিস্তৃত করতেই এই নতুন যাত্রা।