img

জামায়াত আমিরের সেই টুইটার স্ট্যাটাস নিয়ে ঢাবি শিক্ষক মোনামির ইনবক্সে ‘সুনামি’

প্রকাশিত :  ০৫:৫৭, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জামায়াত আমিরের সেই টুইটার স্ট্যাটাস নিয়ে ঢাবি শিক্ষক মোনামির ইনবক্সে ‘সুনামি’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক (ঢাবি) ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি) জানিয়েছেন, মাইগ্রেনের ব্যথার কারণে আগের রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ভোরে উঠে তিনি দেখেন, জামায়াত আমিরের সেই টুইটার (এক্স) স্ট্যাটাস নিয়ে তার ইনবক্স বার্তায় ভরে গেছে।

আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করেন।

মোনামিস্ট্যাটাসে শেহরীন আমিন ভূঁইয়া লেখেন, ‘মাইগ্রেনের ব্যথার কারণে কালকে আর্লি ঘুমিয়েছি।

ভোরে উঠে দেখি জামায়াত আমিরের টুইটার স্ট্যাটাস নিয়ে আমার ইনবক্সে ঝড়। কী একটা অবস্থা। আপনারা একটু ধৈর্য ধরেন। আমার তো একটা সন্তান আছে, স্কুলে পাঠালাম।

চাকরি আছে, সেখানে যাওয়ার জন্য রেডি হব। তার আগে, আজকে দিনের রান্না, ঘরের কাজ গুছাব। এর পরে, ফেসবুক নিয়ে বসব—কে কী বললেন, কেন বললেন এসব চর্চা করতে।’

তিনি আরো লেখেন, ‘ততক্ষণ দয়া করে একটু ধৈর্য ধরে বসে থাকেন, যেহেতু আমার কাছে জবাবদিহিতা চাওয়া ছাড়া আপনাদের দিনে রাতে আর কোনো কাজ নাই।

জানা যায়, গতকাল শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে জামায়াত আমিরের এক্স হ্যান্ডেলের একটি পোস্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে সেই পোস্ট সরিয়ে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়ে জামায়াত জানিয়েছে, সাইবার হামলা করে অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে এবং জামায়াত আমিরের নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।

img

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নাদিয়া হত্যার বিচার শেষ হয়নি ১৫ বছরেও

প্রকাশিত :  ০৭:১৪, ২৫ মে ২০২৬

দীর্ঘ ১৫ বছরেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী কামরুন নাহার নাদিয়া হত্যা মামলার বিচার শেষ হয়নি । সেই সময়ের চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি এখনও সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। অনেক দিন ধরে বিচার চলায় বারবার ডেকেও সাক্ষীদের আদালতে হাজির করা যাচ্ছে না। ভুক্তভোগীর স্বজনের অভিযোগ, নানা কারসাজি ও টালবাহানায় সময়ক্ষেপণ করছে আসামিপক্ষ। মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত আদালতের মালখানা থেকে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।  

মামলাটি পরিচালনায় যুক্ত আইনজীবী ফখরুল ইসলাম বলেন, আসামিপক্ষ আবারও সাক্ষীদের জেরা করতে চাওয়ায় নতুন করে তাদের হাজির করতে হচ্ছে। ৪৬ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত পাঁচ-ছয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। বাকিদের হাজির করা যাচ্ছে না। এ জন্য গত বছর আবারও তাদের নামে সমন জারি করা হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ রয়েছে ১১ জুন।

তিনি বলেন, দুবার আদালত বদল, বিচারিক প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত গতি না আসার বড় কারণ বিচারক পরিবর্তন। কারণ, নতুন বিচারকের আবার পুরো ঘটনা জানতে হয়। তাছাড়া মামলার তারিখ হয় দেরি করে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এ মামলার গতি আরও কমে যায়। 

২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল। নাদিয়ার লাশ গুম করার জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজছিলেন তাঁর স্বামী সিকদার শফিকুর রহমান রেজা। কৌশলে স্ত্রীর মৃতদেহ গাড়ির পেছনের আসনে বসে থাকার ভঙ্গিতে রেখে বিভিন্ন সড়কে ঘুরছিলেন তিনি। যাতে কেউ দেখলে নাদিয়াকে মৃত বলে বুঝতে না পারেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। তার গাড়িচালক রবিউল ইসলাম হঠাৎ ঢুকে পড়েন শাহবাগ থানা চত্বরে। ধরা পড়েন রেজা। পরে জানা যায়, এর আগের দিন হাজারীবাগের বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করেন তিনি। 

এ ঘটনায় তখন ‘লাশ বসে আছে গাড়িতে!’ শিরোনামে ছবিসহ খবর প্রকাশ হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হাজারীবাগ থানায় করা মামলাটির তদন্ত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রেজা, তার ভাই সাইফুল ইসলাম সোহেল ও তাদের মা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। তিনজনই এখন জামিনে রয়েছেন।

মামলার বাদী ও নিহতের ভাই শরীফ আহমেদ শাহরিয়ার সিরাজী সুজন বলেন, বোনের হত্যাকারীদের সাজার অপেক্ষায় দেড় দশক কেটে গেল। আমরা হতাশ, কতদিন ধরে একটা মামলা এভাবে চলতে পারে। আসামিপক্ষ নানা কৌশলে আদালতের সময় নষ্ট করে চলেছে। তারা টাকা দিয়ে মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। 

সুজনের অভিযোগ, রেজা মামলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আলামত আদালতের মালখানা থেকে নিয়ে আর ফেরত দেননি। হত্যাকাণ্ডের পর তার প্রাইভেটকার, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, হত্যায় ব্যবহৃত কাঠের বাতি, কাঠের টুকরো ও নাদিয়ার সালোয়ার-কামিজ জব্দ করে পুলিশ। মামলা তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় রেজা এসব আলামত পাওয়ার জন্য আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। ২০১২ সালের ২৫ জুন সেগুলো মালখানা থেকে বুঝে নেন রেজা। সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে আদালত কাঠের বাতি ও টুকরো উপস্থাপনের নির্দেশ দিলেও তা দেয়নি আসামিপক্ষ। ফলে আলামত গায়েবের অভিযোগে ওই সময় রেজার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠান আদালত।

অবশ্য আসামিপক্ষের দাবি, বাদীপক্ষ সাক্ষীদের ঠিকমতো হাজির করতে না পারায় আদালতের সময় নষ্ট হচ্ছে। আর মামলার আলামত কাঠের বাতি ও টুকরো তারা আদালতের কাছে চাননি এবং মালখানা থেকেও নেননি।  

বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, ২০১৭ সালে আদালত পরিবর্তনের আবেদন করেন হত্যায় অভিযুক্ত রেজা। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে মামলাটি স্থানান্তর করা হয় চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে। এর আগেই ১৪-১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। তবে কয়েকজনের সাক্ষ্য আবারও নেওয়ার আবেদন করে আসামিপক্ষ। এর আগে মামলাটি প্রথমে ছিল প্রথম মহানগর দায়রা জজ আদালতে। পরে সেটি স্থানান্তর করা হয় তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ আদালতে। 

শিক্ষা এর আরও খবর