চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় আবারও বাড়িয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। ফরম পূরণের সময় আরো চার দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন সময়সীমা অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীরা আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণ করতে পারবেন।
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের সময় ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীরা এই সময়ের মধ্যে ফরম পূরণ সম্পন্ন করতে পারবেন এবং ‘সোনালী সেবার’ মাধ্যমে ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উল্লিখিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নাদিয়া হত্যার বিচার শেষ হয়নি ১৫ বছরেও
প্রকাশিত :
০৭:১৪, ২৫ মে ২০২৬
দীর্ঘ ১৫ বছরেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী কামরুন নাহার নাদিয়া হত্যা মামলার বিচার শেষ হয়নি । সেই সময়ের চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি এখনও সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। অনেক দিন ধরে বিচার চলায় বারবার ডেকেও সাক্ষীদের আদালতে হাজির করা যাচ্ছে না। ভুক্তভোগীর স্বজনের অভিযোগ, নানা কারসাজি ও টালবাহানায় সময়ক্ষেপণ করছে আসামিপক্ষ। মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত আদালতের মালখানা থেকে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।
মামলাটি পরিচালনায় যুক্ত আইনজীবী ফখরুল ইসলাম বলেন, আসামিপক্ষ আবারও সাক্ষীদের জেরা করতে চাওয়ায় নতুন করে তাদের হাজির করতে হচ্ছে। ৪৬ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত পাঁচ-ছয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। বাকিদের হাজির করা যাচ্ছে না। এ জন্য গত বছর আবারও তাদের নামে সমন জারি করা হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ রয়েছে ১১ জুন।
তিনি বলেন, দুবার আদালত বদল, বিচারিক প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত গতি না আসার বড় কারণ বিচারক পরিবর্তন। কারণ, নতুন বিচারকের আবার পুরো ঘটনা জানতে হয়। তাছাড়া মামলার তারিখ হয় দেরি করে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এ মামলার গতি আরও কমে যায়।
২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল। নাদিয়ার লাশ গুম করার জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজছিলেন তাঁর স্বামী সিকদার শফিকুর রহমান রেজা। কৌশলে স্ত্রীর মৃতদেহ গাড়ির পেছনের আসনে বসে থাকার ভঙ্গিতে রেখে বিভিন্ন সড়কে ঘুরছিলেন তিনি। যাতে কেউ দেখলে নাদিয়াকে মৃত বলে বুঝতে না পারেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। তার গাড়িচালক রবিউল ইসলাম হঠাৎ ঢুকে পড়েন শাহবাগ থানা চত্বরে। ধরা পড়েন রেজা। পরে জানা যায়, এর আগের দিন হাজারীবাগের বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করেন তিনি।
এ ঘটনায় তখন ‘লাশ বসে আছে গাড়িতে!’ শিরোনামে ছবিসহ খবর প্রকাশ হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হাজারীবাগ থানায় করা মামলাটির তদন্ত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রেজা, তার ভাই সাইফুল ইসলাম সোহেল ও তাদের মা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। তিনজনই এখন জামিনে রয়েছেন।
মামলার বাদী ও নিহতের ভাই শরীফ আহমেদ শাহরিয়ার সিরাজী সুজন বলেন, বোনের হত্যাকারীদের সাজার অপেক্ষায় দেড় দশক কেটে গেল। আমরা হতাশ, কতদিন ধরে একটা মামলা এভাবে চলতে পারে। আসামিপক্ষ নানা কৌশলে আদালতের সময় নষ্ট করে চলেছে। তারা টাকা দিয়ে মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সুজনের অভিযোগ, রেজা মামলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আলামত আদালতের মালখানা থেকে নিয়ে আর ফেরত দেননি। হত্যাকাণ্ডের পর তার প্রাইভেটকার, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, হত্যায় ব্যবহৃত কাঠের বাতি, কাঠের টুকরো ও নাদিয়ার সালোয়ার-কামিজ জব্দ করে পুলিশ। মামলা তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় রেজা এসব আলামত পাওয়ার জন্য আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। ২০১২ সালের ২৫ জুন সেগুলো মালখানা থেকে বুঝে নেন রেজা। সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে আদালত কাঠের বাতি ও টুকরো উপস্থাপনের নির্দেশ দিলেও তা দেয়নি আসামিপক্ষ। ফলে আলামত গায়েবের অভিযোগে ওই সময় রেজার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠান আদালত।
অবশ্য আসামিপক্ষের দাবি, বাদীপক্ষ সাক্ষীদের ঠিকমতো হাজির করতে না পারায় আদালতের সময় নষ্ট হচ্ছে। আর মামলার আলামত কাঠের বাতি ও টুকরো তারা আদালতের কাছে চাননি এবং মালখানা থেকেও নেননি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, ২০১৭ সালে আদালত পরিবর্তনের আবেদন করেন হত্যায় অভিযুক্ত রেজা। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে মামলাটি স্থানান্তর করা হয় চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে। এর আগেই ১৪-১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। তবে কয়েকজনের সাক্ষ্য আবারও নেওয়ার আবেদন করে আসামিপক্ষ। এর আগে মামলাটি প্রথমে ছিল প্রথম মহানগর দায়রা জজ আদালতে। পরে সেটি স্থানান্তর করা হয় তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ আদালতে।