এনবিআরের সিদ্ধান্ত

img

পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশই থাকছে

প্রকাশিত :  ১০:৫৫, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৫৭, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশই থাকছে

পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের মুনাফার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ নয়, ৫ শতাংশ কাটা হবে—এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত মাসে এ ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে নিয়েছিল জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর।

আজ মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সঞ্চয়পত্রে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উৎসে কর ছিল ৫ শতাংশ। পাঁচ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উৎসে কর ছিল ১০ শতাংশ। তবে সর্বশেষ আয়কর আইনে (২০২৩) সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সব ক্ষেত্রেই ১০ শতাংশ উৎসে কর আরোপ করা ছিল। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়। জানুয়ারি থেকে ছাড় প্রত্যাহার করায় সবার ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হচ্ছে। তাই পাঁচ লাখ টাকার কম বিনিয়োগকারী গ্রাহকরা জানুয়ারিতে মুনাফা কিছুটা কম পাচ্ছেন।

তবে এ বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। কোনো রকম ঘোষণা ছাড়াই গোপনে উৎসে করা বাড়ানোয় বিনিয়োগকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা অবিলম্বে আগের হারে উৎসে কর কার্যকর করে কমে যাওয়া মুনাফা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। এ নিয়ে গত ৩০ জানুয়ারি সমকালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। 

আজ জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো এনবিআরের চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগ পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম না করেন, তাহলে অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে করের হার হবে ৫ শতাংশ।

এ ছাড়া কোনো ব্যক্তির কোনো আয়বর্ষে যদি শুধু পেনশনার সঞ্চয়পত্রে পুঞ্জীভূত বিনিয়োগ পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে ওই বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর কোনো উৎসে কর প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে উৎসে করের হার শূন্য শতাংশ থাকবে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আয়কর আইন ২০২৩–এর ১০৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির কোনো আয়বর্ষে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের মোট পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম করলে অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে করের হার হবে ১০ শতাংশ।

এনবিআর স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আগের নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কোনো উৎসে কর কাটা হবে না।

এদিকে গত ৩১ ডিসেম্বর সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হার কমানোর ঘোষণা দিলেও চার দিনের মাথায় সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। ফলে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত যে মুনাফার হার ছিল, তা চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেও বহাল রয়েছে।

বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীদের জন্য দুটি ধাপ বহাল রাখা হয়েছে। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচে বিনিয়োগকারীরা থাকছেন প্রথম ধাপে এবং এর বেশি বিনিয়োগকারীরা থাকছেন দ্বিতীয় ধাপে। স্কিমভেদে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত।


অর্থনীতি এর আরও খবর

img

সপ্তাহজুড়ে ৬ কোম্পানির ইপিএস প্রকাশ, আয় বৃদ্ধিতে মিশ্র চিত্র

প্রকাশিত :  ১০:৫৪, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ছয় কোম্পানি বিদায়ী সপ্তাহে ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কোম্পানিগুলো হলো—লিন্ডে বাংলাদেশ, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ। প্রকাশিত প্রতিবেদনে কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে, আবার কয়েকটির কমেছে। কোম্পানিগুলোর প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

লিন্ডে বাংলাদেশ

২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) লিন্ডে বাংলাদেশের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ২৩ পয়সা। আগের বছরের একই প্রান্তিকে এ আয় ছিল ৬ টাকা ৪৮ পয়সা।

অন্যদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৭ টাকা ৭৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১৮ টাকা ৮০ পয়সা।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২১৮ টাকা ৮০ পয়সা।

ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স

২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ৬০ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৯৩ পয়সা।

তবে নয় মাসের হিসাবে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে। জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৫ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৬১ পয়সা।

এদিকে, আলোচ্য নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ কার্যকরী প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৯৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৭৭ পয়সা।

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির এনএভিপিএস ছিল ৩৭ টাকা ১ পয়সা।

পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ১৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৯০ পয়সা।

জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর—এই নয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ১৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩ টাকা।

একই সময়ে কোম্পানিটির এনওসিএফপিএস হয়েছে ৩ টাকা ১৬ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৪ পয়সা।

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকা ২৮ পয়সা।

লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ

২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের ইপিএস হয়েছে ৫৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১ টাকা ২ পয়সা।

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৪১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৩ টাকা ৬ পয়সা।

এদিকে, জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির এনওসিএফপিএস হয়েছে ঋণাত্মক ২ টাকা ৫০ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ সূচক ছিল ৭৩ পয়সা।

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির এনএভিপিএস ছিল ১৬ টাকা ৪৫ পয়সা।

বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স

বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ৫০ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ের সমান।

তবে নয় মাসের হিসাবে কোম্পানিটির ইপিএসে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ১ টাকা ৭৩ পয়সা।

আলোচ্য নয় মাসে কোম্পানিটির এনওসিএফপিএস হয়েছে ১ টাকা ৯৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১ টাকা ৮০ পয়সা।

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ১৯ পয়সা।

পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ৬২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৪৫ পয়সা।

জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৪৬ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ২৩ পয়সা।

এদিকে, আলোচ্য নয় মাসে কোম্পানিটির এনওসিএফপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৯৩ পয়সা।

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৮ পয়সা।

প্রকাশের আগে দুটি বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন:

1. মূল প্রতিবেদনে লিন্ডে বাংলাদেশ ও ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের এনএভিপিএসের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর পরিবর্তে ৩০ জুন ২০২৬ উল্লেখ আছে। সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিবেদন দেখে তারিখগুলো নিশ্চিত করুন।

2. প্রতিবেদনে সব কোম্পানির হিসাবকাল জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২০২৬ ধরা হয়েছে। কোম্পানিগুলোর প্রকৃত অর্থবছর ও প্রকাশিত প্রতিবেদনের হিসাবকাল মিলিয়ে নেওয়া উচিত।

অর্থনীতি এর আরও খবর