img

স্বৈরাচারের মতোই গুপ্তরা এখন নতুন জালিমে পরিণত হয়েছে: তারেক রহমান

প্রকাশিত :  ০৮:২২, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:০০, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্বৈরাচারের মতোই গুপ্তরা এখন নতুন জালিমে পরিণত হয়েছে: তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচারের মতোই গুপ্তরা এখন নতুন জালিমে পরিণত হয়েছে। যাদের কাছে দেশের মা-বোনরা নিরাপদ নয়। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ চলবে জনগণের রায়ের মধ্য দিয়ে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখ জনগণ নির্বাচিত করবে তাদের জবাবদিহির সরকার। কিন্তু ৫ আগস্টের পরে দেখেছি, স্বৈরাচার যে ভাষায় জনগণকে কথা বলতো, গুনিমানি ব্যক্তিকে অপদস্থ করতো, মানুষকে ছোট করতো। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে খেয়াল করলাম, সেই রীতি বন্ধ হয়নি। একটি দল গুপ্ত পরিচয়ে পরিচিত। এই গুপ্তরা এখন নতুন জালেমের ভূমিকায় আবির্ভাব হয়েছে দেশের মানুষের কাছে।’

তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত কষ্ট ও ঘৃণার সঙ্গে দেখছি, এই জালেমদের নেতা প্রকাশ্যে নারীদের অত্যন্ত কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছেন। যেই নেতা ও কর্মীরা মা-বোনদের জন্য সম্মান দেখায় না, শ্রদ্ধা নেই মা-বোনদের প্রতি, তাদের কাছে বাংলাদেশের মানুষ আত্মসম্মানসূচক আচরণ আশা করতে পারে না। তাদের কাছে মানুষের মর্যাদা নেই।’

তারেক রহমান বলেন, গুপ্তদের কুমিল্লা জেলার একজন নেতা বলেছেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরবেন, ১২তারিখের পর জনগণ তাদের পা ধরবে। কোন পর্যায়ের মানুষ তারা, কোন পর্যায়ের মানুষ হলে জনগণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে, মানুষকে কিভাবে তারা ট্রিট করছে, তাদের মানসিকতা কোন পর্যায়ের তা বেরিয়ে এসেছে।

তিনি বলেন, এরা নির্বাচিত হলে জনগণের ভাগ্যে কী দুর্বিষহ জীবন নেমে আসবে, তা বোঝা যাবে। তাই গুপ্তদের উচিৎ শিক্ষা দিতে হবে, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, ‘গুপ্তদের কুমিল্লা জেলার একজন নেতা বলেছেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরবেন, ১২ তারিখের পর জনগণ তাদের পা ধরবে। কোন পর্যায়ের মানুষ তারা, কোন পর্যায়ের মানুষ হলে জনগণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে, মানুষকে কিভাবে তারা ট্রিট করছে, তাদের মানসিকতা কোন পর্যায়ের তা বেরিয়ে এসেছে। এরা নির্বাচিত হলে জনগণের ভাগ্য কি দুর্বিষহ জীবন নেমে আসবে, তা বোঝা যাবে। তাই গুপ্তদের উচিৎ শিক্ষা দিতে হবে, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’

স্বৈরাচার সরকারের সঙ্গে তারা প্রতিবারই একসঙ্গে ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা হলো মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। ৭১, ৮৬, ৯৬সহ বিগত ১৫ বছর তাদের সঙ্গে ছিলেন তারা।’

বরিশালের সমস্যাগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বরিশালে নদী-ভাঙন সবচেয়ে বড় সমস্যা, বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। অনেক কাজ রয়ে গেছে, এই কাজগুলো করতে হলে জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অনেক কাজ বিএনপির আমলে শুরু হয়েছিল। যা শেষ করা যায়নি। অনেক কাজ জমে গেছে, সমাধান করতে হবে। বিএনপি জয়ী হলে এসব সমস্যার সমাধানে কাজ করতে চায়।’

নারীদের ঘরে বন্দী করে রেখে দেশকে সামনে নেয়া যাবে না উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘নারী-পুরুষ এক সঙ্গে মিলে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে তা না হলে প্রত্যাশিত দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।’

তারেক রহমান বলেন, ‘গুপ্ত দলগুলো নারী সমাজকে নিয়ে অপমানজনক ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। গুপ্তরা জনগণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে, তাদের বক্তব্যে তাদের মানসিকতা ফুটে উঠেছে। তারা ক্ষমতায় গেলে জনজীবনে দুর্বিষহ অবস্থা তৈরি হবে। তাই তাদের উচিৎ শিক্ষা দিতে হবে, জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে তাদের বিষয়ে।’

জাতীয় এর আরও খবর

img

চট্টগ্রামে ১২ ঘণ্টায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টি, সড়কে হাঁটুপানি

প্রকাশিত :  ০৭:৪৮, ১২ জুলাই ২০২৬

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে আবারও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। টানা বর্ষণে নগরের বিভিন্ন সড়কে হাঁটুপানি জমে জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ও শ্রেণি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

আজ রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ১২ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৩৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার।

সকাল ১০টার দিকে নগরীর চকবাজার, বাকলিয়া, রাহাত্তারপুল কাতালগঞ্জ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কে হাঁটুপানি জমে গেছে। পানি মাড়িয়ে যানবাহন চলাচল করছে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে অফিসগামী মানুষকে ছাতা ও রেইনকোট পরে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। অনেক এলাকায় রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকট দেখা দেয়। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, যানবাহন মিললেও চালকেরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামে আরও দুই থেকে তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলা ও মহানগরে ৬ লাখ ৬২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছে।

গত কয়েকদিনের অতি বৃষ্টি ও বন্যায় পানিতে ডুবে বাঁশখালীতে তিন, আনোয়ারা, সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও সাতকানিয়া উপজেলায় একজন করে মারা যান। চট্টগ্রাম নগরীতে মারা যান দুইজন।

গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার জুলাই মাসে এক দিনে গত ৪৩ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়। ওই বৃষ্টিতে আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, চকবাজার, কাতালগঞ্জ ও পতেঙ্গাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়ে। দুই দিন বৃষ্টি কিছুটা কম থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নতুন করে ভারী বর্ষণে আবারও জলাবদ্ধতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী শনিবার সবচেয়ে বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছে, সাতকানিয়া উপজেলায়, ৩ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ জন আর বাঁশখালীতে দেড় লাখ মানুষ।

নগরীর আমবাগান আবহাওয়া অফিসের অফিসার্স ইনচার্জ বিজন রায় ঢাকা পোস্টকে বলেন, সকাল ৬টা থেকে ৯টায় পর্যন্ত ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ৯টা থেকে ১২টায় পর্যন্ত ৮ মিলিমিটার এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

জাতীয় এর আরও খবর