img

সিলেট বিভাগে ৬ স্বতন্ত্র প্রার্থী শক্ত অবস্থানে, চাপে বিএনপি

প্রকাশিত :  ১০:৩৬, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 সিলেট বিভাগে ৬ স্বতন্ত্র প্রার্থী শক্ত অবস্থানে, চাপে বিএনপি

সিলেট বিভাগের কয়েকটি সংসদীয় আসনে এবারের নির্বাচনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিএনপি ও জামায়াত জোটের প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও মূল লড়াইয়ে উঠে এসেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিভাগের অন্তত ছয়টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অবস্থান বর্তমানে বেশ শক্তিশালী, যা নির্বাচনী সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এদের কারণে বিপাকে পড়েছে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই বড় জোট। বিশেষত বিএনপির প্রার্থীরা পড়েছেন চাপে। কারণ শক্ত অবস্থানে থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশিরভাগই বিএনপির বিদ্রোহী।

স্থানীয়রা বলছেন, অতীতের অবস্থান, আঞ্চলিকতা ও প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের প্রার্থীর অবস্থান বিবেচনায় এবং নানা পর্যায়ে সৃষ্ট দলীয় কোন্দলের কারণে স্বতন্ত্র এসব প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।

স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে একাধিকজনের জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে স্বতন্ত্র এসব প্রার্থীকে নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত উভয় জোটে বিরাজ করছে অস্বস্তি। দলীয় নেতাকর্মীরা সরাসরি প্রকাশ না করলেও দল বা জোটের প্রার্থীদের অবস্থান এবং জনমত জরিপে তাদের অবস্থা অনেকটাই স্পষ্ট।

সিলেট বিভাগে নির্বাচনের মাঠে থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন–সিলেট-৫ আসনে বিএনপির সাবেক নেতা মামুনুর রশিদ মামুন (চাকসু মামুন); একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে আনোয়ার হোসেন ও সুনামগঞ্জ-৪ আসনে দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। মৌলভীবাজার-২ আসনে আঞ্জুমানে আল ইসলাহ সমর্থিত, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল হক খান সাহেদ, মৌলভীবাজার-৪ এ বিএনপির সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু ও হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া।

বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন দলের ৯৯ জন প্রার্থী লড়ছেন। এরমধ্যে বিএনপির বিদ্রোহী ৭ জনসহ মোট ১৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এই ১৭ জনের মধ্যে অন্তত ৬ জন প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তাদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি চাপে আছেন দুই জোটের প্রার্থীরা।

জোটের প্রার্থীদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন এই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এমনটাই মন্তব্য সচেতন মহলের। সিলেটের ৬টি আসনে মোট ৩৩ জন প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র চারজন। তাদের মধ্যে আলোচনায় আছেন সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনের মামুনুর রশীদ মামুন (চাকসু মামুন)। বরখাস্ত হওয়া জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মামুনের সঙ্গে রয়েছে বিএনপির বড় একটি অংশ।

এছাড়া স্থানীয় জাপা ও আওয়ামী লীগের একটি অংশও তাঁর পক্ষে সক্রিয় বলে জানা গেছে। সেখানে বিএনপি জোট থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও জামায়াত জোট থেকে মুফতি আবুল হাসান আলোচনায় রয়েছেন। দলের এই বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রচারে থাকায় গত ৩১ জানুয়ারি দুই উপজেলার ১২ জন নেতাকে বহিষ্কার করে বিএনপি।

বহিষ্কৃত নেতা, কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খছরুজ্জামান পারভেজ জানিয়েছেন, ২৫ বছর ধরে মামুন মাঠে কাজ করছেন। তাঁর জন্য সাধারণ ভোটাররাও মাঠে। এ ক্ষেত্রে তাঁর পক্ষ নেওয়ায় দল বহিষ্কার করেছে, এ নিয়ে তাঁর আক্ষেপ নেই।

মৌলভীবাজারের চারটি আসনের ২৪ জন প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র লড়ছেন ৭ জন। এরমধ্যে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে ৩ জন স্বতন্ত্রের মধ্যে অন্যতম ফজলুল হক খান সাহেদ। তিনি দুই দফায় উপজেলা পরিচষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও একবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁকে সমর্থন জানিয়েছেন সিলেটের প্রখ্যাত পীর আল্লামা আব্দুল লতিফ ফুলতলীর অনুসারীরা। তাদের আনজুমানে আল ইসলাহ সমর্থন জানিয়েছে তাঁকে। আসনটিতে বিএনপির শওকতুল ইসলাম শকু, জাতীয় পার্টির তিনবারের সংসদ সদস্য নবাব আলী আব্বাস ও জামায়াতের সায়েদ আলী রয়েছেন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমির শফিকুর রহমানের বাড়ি এই আসনে। শনিবার তিনি

দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সেখানে সমাবেশ করেছেন। তবে স্থানীয়রা বলছেন, আসনটিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা জোরদার। বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত আবেদ রাজা ও সাবেক এমপি এমএম শাহীন দলীয় প্রার্থীকে নিয়ে উদাসীন থাকায় তাদের অনুসারী এবং আওয়ামী লীগের একাংশের ভোট স্বতন্ত্র সাহেদ খানের পক্ষে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার-৪ আসনে (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক পৌর মেয়র মহসিন মিয়া মধু। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরীর একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। এই আসনে জামায়াত জোট থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নুরে আলম হামিদী ও শরিক দল এনসিপি থেকে প্রিতম দাসও রয়েছেন; যার কারণে নিজস্ব ভোটের জোগানে জয় পাওয়া কঠিন হতে পারে।

হবিগঞ্জের চারটি আসনের ২৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭ জন স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন। এরমধ্যে হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল-নবীগঞ্জ) আসন থেকে একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া। আসনটিতে বিএনপি থেকে লড়ছেন রেজা কিবরিয়া। একাধিকবার দল বদলের কারণে দলের ও দলের বাইরে গুঞ্জন রয়েছে তাঁকে নিয়ে। সেই সুযোগ শেখ সুজাত কাজে লাগাতে চাচ্ছেন বলে জানা গেছে। আসনটিতে জামায়াত জোট থেকে লড়ছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। তবে রেজা-সুজাত দ্বৈরথই রয়েছে মূল আলোচনায়।

সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র লড়ছেন ৪ জন। যেখানে শুধু সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনেই ৩ জন। এরমধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় আছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন। সেখানে বিএনপি দলীয়ভাবে মনোনীত করেছে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক য়য়ছর আহমেদকে।

সরকার পরিবর্তনের পর দেশে ফিরে দুটি উপজেলার দলীয় কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্কে জড়ান কয়ছর। যার পর থেকে দলীয় কর্মীরা তাঁর প্রতি নেতিবাচক।

জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আখতারসহ মনোনয়নবঞ্চিত আশফাক সামি ও দলের একাংশ আনোয়ারের পক্ষে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। আসনটিতে বিদ্রোহী ও দলীয় প্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য তালুকদার মকবুল হোসেন।

এছাড়া সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশম্ভরপুর) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী নুরুল ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রচারের মাঠে জোর টক্কর দিচ্ছেন দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী, সাবেক মেয়র ও একাধিকবারের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। এই আসনে তাঁর জয়ের সম্ভাবনা বেশ জোরদার বলে জানিয়েছেন পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দলীয় কর্মী। আসনটিতে জামায়াত থেকে লড়ছেন সামস উদ্দিন।

বিএনপি ও জামায়েতের নেতৃত্বাধীন পৃথক দুটি জোটের প্রার্থী ও তাদের অনুসারীরা ভোটের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে ততই ব্যস্ত হয়ে উঠছেন এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নিয়ে হিসাব মেলাতে।

বিএনপির বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, দলীয় নেতাকর্মীরা জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। যারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে রয়েছেন তাদের বহিষ্কার করা হচ্ছে। তারা দল করার যোগ্যতা হারিয়েছেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বিভাগের একাধিক আসন জোটের শরিক দলকে ছেড়ে দিলেও জামায়াতের কর্মীরা তাদের পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। প্রতিপক্ষ কোনো প্রার্থীকে নিয়ে তারা শঙ্কিত নন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

জগন্নাথপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শৌচাগারে ঝুলছে তালা, ভোগান্তিতে রোগীরা

প্রকাশিত :  ১০:৪৪, ০৫ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪২, ০৫ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। হাসপাতালের বাইরে নির্মিত একমাত্র শৌচাগারটি ঘটা করে উদ্বোধনের কয়েক মাস পরই তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে রোগী ও স্বজনরা এটি ব্যবহার করতে পারছেন না।

এদিকে হাসপাতালের ভেতরের শৌচাগারগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। অনেকগুলোর দরজা ভাঙা, পরিবেশ নোংরা এবং তীব্র পানি সংকট রয়েছে। এসব কারণে রোগী ও তাদের স্বজনরা শৌচাগার ব্যবহার করতে গিয়ে মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।

সরেজমিনে বুধবার (৪ মার্চ) হাসপাতাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের বাইরে নির্মিত শৌচাগারটি দীর্ঘ দিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে আসা লোকজনের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। হাসপাতালের ভেতরে থাকা অধিকাংশ শৌচাগারই ব্যবহারের অনুপযোগী। নারী রোগীদের জন্য নির্ধারিত শৌচাগারগুলোর অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক। অধিকাংশের দরজা

ভাঙা থাকায় এক রোগীকে অন্যজনের সহায়তা নিয়ে অথবা বাইরে লোক দাঁড় করিয়ে ভেতরে যেতে হচ্ছে। এমনকি ভিআইপি কেবিনের বাথরুমগুলোর অবস্থাও বেহাল। দীর্ঘ দিন ধরে এই অবস্থা চললেও কোনো সংস্কারের উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সুমন মিয়া ও নুরুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাহিরের শৌচাগারটি উদ্বোধনের পর কয়েক দিন খোলা ছিল, এখন বন্ধ। ভেতরের টয়লেটে যাওয়া মানে এক ধরনের মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করা। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর তীব্র দুর্গন্ধে সেখানে টেকা দায়। পানিও সব সময় পাওয়া যায় না। দরজার অবস্থা এতই খারাপ যে কেউ ওপাশে না দাঁড়ালে ইজ্জত থাকে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর প্রচুর চাপ। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় পুরো হাসপাতাল এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এক পাশ পরিষ্কার করলেই অন্য পাশ নোংরা হয়ে যায়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অপব্যবহার রোধে বাহিরের শৌচাগার তালাবদ্ধ রাখা হয়। কর্মকর্তারা যখন মনে করেন প্রয়োজন, তখনই কেবল এটি খোলা হয়। তবে সাধারণ রোগীদের জন্য কেন এটি সবসময় উন্মুক্ত নয়, সে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কূপেশ রঞ্জন রায় বলেন, বাহিরের শৌচাগারগুলো প্রয়োজন সাপেক্ষে খুলে দেওয়া হয়।সবসময় খোলা রাখলে এগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। চাহিদা বাড়লে আমরা এগুলো খোলার ব্যবস্থা করি। আর ভেতরের শৌচাগারগুলো নিয়মিত। রক্ষণাবেক্ষণের চেষ্টা করা হয়, তবে জনবল সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।আমরা দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।

রক্ষণাবেক্ষণের অজুহাতে সরকারি বরাদ্দে নির্মিত শৌচাগারে তালা ঝুলিয়ে রাখা এবং জনবলের অজুহাত দেখিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ জিইয়ে রাখায় স্থানীয় সচেতন মহল ও রোগীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। দ্রুত এই সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সিলেটের খবর এর আরও খবর