img

মুক্তাদীরকে মিষ্টিমুখ করালেন হাবিব, ফুল নিয়ে নাছিরের বাসায় শিশির

প্রকাশিত :  ১২:৪৪, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মুক্তাদীরকে মিষ্টিমুখ করালেন হাবিব, ফুল নিয়ে নাছিরের বাসায় শিশির

ভোটের মাঠে পরস্পর ছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী। একে অপরের বিরুদ্ধে রেখেছেন বক্তব্য, ছিল পাল্টাপাল্টি অভিযোগও। তবে নির্বাচনের পর দিয়েছেন সম্প্রীতির বার্তা। পরষ্পরকে মিষ্টিমখে করিয়েছেন। কোলাকুলি আর খোশগল্প করেছেন তারা। যা রাজনৈতিক সম্প্রীতির উদাহরণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

আজ শুক্রবার দুপুরে সিলেট-১ (সিটি করপোরেশন-সদর উপজেলা) আসনের পরাজিত প্রার্থী জামায়াতের মাওলানা হাবিবুর রহমানের বাসায় যান বিজয়ী প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। এরআগে ভোরে ঘোষিত ফলাফলে হাবিবুর রহমানকে প্রায় ৪০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে সিলেট-১ আসনে বিজয়ী হন খন্দকার মুক্তাদীর।

বজয়ের পর দুপুরে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে হাবিবুর রহমানের বাসায় যান মুক্তাদির। এসময় বাসার নিচে নেমে এসে মুক্তাদীরকে অভ্যর্থনা জানান হাবিবুর। দুজন কোলাকুলিও করেন এসময়। বাসায় ঢুকার পর মুক্তাদীরকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান হাবিবুর। এনসময় একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান তারা। পরে মুক্তাদীর, সিলেট ও দেশের সাফল্য কামনা করেন দোয়া পড়ান হাবিবুর রহমান। এতে উপস্থিত সকলে অংশ নেন।

এসময় হাবিবুর রহমান বলেন, সিলেট সম্প্রীতির শহর। এখানে সবাই মিলেমিশে চলি। নির্বাচনী প্রচারকালেও আমি মুক্তাদীরের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। আশা করি তিনি সিলেটের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।

খন্দকার মুক্তাদীর বলেন, আমাদের রাজনৈতিক মতভেদ আছে তবে সিলেটের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। আমি সবাইকে নিয়েই কাজ করার চেষ্টা করবো।

এরআগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতেই সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের বিজয়ী প্রার্থী বিএনপির নাছির চৌধুরীর বাসায় ফুল নিয়ে যান পরাজিত প্রার্থী জামায়াতের শিশির মনির। তিনি নাসির চৌধুরীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ও মিষ্টিমুখ করান।

রাতে ঘোষিত ফলাফলে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী ৯৯ হাজার ৫২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির পান ৬৩ হাজার ২২০ ভোট।

অবশ্য বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ চলাকালেই এমন সম্প্রীতির চিত্র দেখা গেছে। ওই দিন দুপুরে সিলেট-৪ আসনে (জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ) আসনের বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে যাচ্ছিলেন। এসময় গাড়ি করে এই সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন এ আসনের জামায়াতের প্রার্থী জয়নাল আবেদিন।

এসময় দুজনই গাড়ি থেকে থেমে কোলাকুলি করেন এবং কিছুক্ষণ পরষ্পর খুশগল্প করেন।

ভোরে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী সিলেট-৪ আসনে বিজয়ী বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াত ইসলামের জয়নাল আবেদিন পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট।

সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টিতেই জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। আর একাটিতে জয় পেয়েছেন জামায়াত জোটের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আবুল হাসান।



সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

জগন্নাথপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শৌচাগারে ঝুলছে তালা, ভোগান্তিতে রোগীরা

প্রকাশিত :  ১০:৪৪, ০৫ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪২, ০৫ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। হাসপাতালের বাইরে নির্মিত একমাত্র শৌচাগারটি ঘটা করে উদ্বোধনের কয়েক মাস পরই তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে রোগী ও স্বজনরা এটি ব্যবহার করতে পারছেন না।

এদিকে হাসপাতালের ভেতরের শৌচাগারগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। অনেকগুলোর দরজা ভাঙা, পরিবেশ নোংরা এবং তীব্র পানি সংকট রয়েছে। এসব কারণে রোগী ও তাদের স্বজনরা শৌচাগার ব্যবহার করতে গিয়ে মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।

সরেজমিনে বুধবার (৪ মার্চ) হাসপাতাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের বাইরে নির্মিত শৌচাগারটি দীর্ঘ দিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে আসা লোকজনের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। হাসপাতালের ভেতরে থাকা অধিকাংশ শৌচাগারই ব্যবহারের অনুপযোগী। নারী রোগীদের জন্য নির্ধারিত শৌচাগারগুলোর অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক। অধিকাংশের দরজা

ভাঙা থাকায় এক রোগীকে অন্যজনের সহায়তা নিয়ে অথবা বাইরে লোক দাঁড় করিয়ে ভেতরে যেতে হচ্ছে। এমনকি ভিআইপি কেবিনের বাথরুমগুলোর অবস্থাও বেহাল। দীর্ঘ দিন ধরে এই অবস্থা চললেও কোনো সংস্কারের উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সুমন মিয়া ও নুরুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাহিরের শৌচাগারটি উদ্বোধনের পর কয়েক দিন খোলা ছিল, এখন বন্ধ। ভেতরের টয়লেটে যাওয়া মানে এক ধরনের মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করা। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর তীব্র দুর্গন্ধে সেখানে টেকা দায়। পানিও সব সময় পাওয়া যায় না। দরজার অবস্থা এতই খারাপ যে কেউ ওপাশে না দাঁড়ালে ইজ্জত থাকে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর প্রচুর চাপ। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় পুরো হাসপাতাল এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এক পাশ পরিষ্কার করলেই অন্য পাশ নোংরা হয়ে যায়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অপব্যবহার রোধে বাহিরের শৌচাগার তালাবদ্ধ রাখা হয়। কর্মকর্তারা যখন মনে করেন প্রয়োজন, তখনই কেবল এটি খোলা হয়। তবে সাধারণ রোগীদের জন্য কেন এটি সবসময় উন্মুক্ত নয়, সে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কূপেশ রঞ্জন রায় বলেন, বাহিরের শৌচাগারগুলো প্রয়োজন সাপেক্ষে খুলে দেওয়া হয়।সবসময় খোলা রাখলে এগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। চাহিদা বাড়লে আমরা এগুলো খোলার ব্যবস্থা করি। আর ভেতরের শৌচাগারগুলো নিয়মিত। রক্ষণাবেক্ষণের চেষ্টা করা হয়, তবে জনবল সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।আমরা দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।

রক্ষণাবেক্ষণের অজুহাতে সরকারি বরাদ্দে নির্মিত শৌচাগারে তালা ঝুলিয়ে রাখা এবং জনবলের অজুহাত দেখিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ জিইয়ে রাখায় স্থানীয় সচেতন মহল ও রোগীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। দ্রুত এই সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সিলেটের খবর এর আরও খবর