img

বিএনপির মন্ত্রীসভায় স্থান পেতে পারেন সিলেটের যারা

প্রকাশিত :  ১৬:১৩, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিএনপির মন্ত্রীসভায় স্থান পেতে পারেন সিলেটের যারা

সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ভূমিধস বিজয় লাভ করায় এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রীপরিষদ গঠনের জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে। সিলেটে বিএনপির বিপুল বিজয়ে তারেক রহমানের মন্ত্রী সভায় কারা থাকতে পারেন এ নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা কল্পনাও শুরু হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনের ১৮টিতেই জয় পেয়েছে বিএনপি। আর জামায়াত জোটের শরিক খেলাফত মজলিস ১টি আসন য়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামী একটি আসনও পায়নি। সিলেট বিভাগে বিএনপির একক আধিপত্যে খুশি দলের নেতাকর্মীরা।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ভূমিধস বিজয় লাভ করায় এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রীপরিষদ গঠনের জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে। সিলেটে বিএনপির বিপুল বিজয়ে তারেক রহমানের মন্ত্রী সভায় কারা থাকতে পারেন এ নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা কল্পনাও শুরু হয়েছে।

তারেক রহমানের মন্ত্রীসভায় সিলেটের খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, হবিগঞ্জের ড. রেজা কিবরিয়া ও তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সিলেটের ড. হুমায়ুন কবির (টেকনোক্রেট) স্থান পেতে যাচ্ছেন বলে দলের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই তিনজন ছাড়াও আরো ২/১ জন মন্ত্রী পরিষদে স্থান পাওয়ার জল্পনা কল্পনাও চলছে।

ড. হুমায়ুন কবিরকে সিলেট-২ আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন দেন তারেক রহমান। তবে এই আসনে ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদির লুনাকে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন দেয়া হয় এবং তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন ।

মর্যাদার আসন বলে অভিহিত সিলেট-১ আসনে যে দল বিজয় লাভ করে সেই দলই সরকার গঠন করে এমন একটা মিথ চালু আছে স্বাধীনতার পর থেকে। এবারো এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। বিএনপি চেয়ারম্যানে উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সিলেট-১ আসনে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

অতীতে এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রীসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান লাভ করেছেন বিএনপির এম, সাইফুর রহমান, আওয়ামী লীগের আবদুস সামাদ আজাদ, দেওয়ান ফরিদ গাজী, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী এবং আওয়ামী লীগের আবুল মাল আবদুল মুহিত ও ড: এ কে আবদুল মোমেন।

এবারের নির্বাচনে সিলেট-১ থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল মুক্তাদির মন্ত্রী পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান লাভ করতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে সিলেট-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও মন্ত্রীসভায় স্থান পেতে জোর লবিং করছেন। তবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির মন্ত্রী পরিষদে স্থান পেলে আরিফুল হক চৌধুরীর সম্ভাবনা একেবারে কমে যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

হবিগঞ্জ -১ (নবীগঞ্জ ও বাহুবল) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপিতে নবাগত ও গণফোরামের সাবেক নেতা, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড: রেজা কিবরিয়া মন্ত্রীসভায় স্থান পাচ্ছেন এটা এক ধরনের নিশ্চিত বলে জানা গেছে। তাকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে।

এছাড়াও সিলেট বিভাগ থেকে হবিগঞ্জের বিএনপি নেতা ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, সুনামগঞ্জের কলিমউদ্দিন মিলন মৌলভীবাজারের এম, সাইফুর রহমানের ছেলে এম, নাসের রহমানের নামও মন্ত্রী সভার জল্পনা কল্পনায় রয়েছে বলে মনে করছেন বিএনপির একটি সূত্র।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রী পরিষদে কে থাকবেন না থাকবেন তা একান্তভাবে নির্ভর করছে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর।

এদিকে, বেসরকারি ফলাফলে সিলেট বিভাগের ১৮ টি আসনেই জয় পেয়েছে বিএনপি।

সিলেট জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। এর মধ্যে সিলেট-১ আসনে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেট-৩ আসনে বিএনপির এম এ মালিক, সিলেট-৪ আসনে আরিফুল হক চৌধুরী ও সিলেট-৬ আসনে এমরান আহমদ চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। সিলেট-৫ আসনে ১১ দলীয় জোটের শরীক খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসান বিজয়ী হয়েছেন।

মৌলভীবাজারেরও সবকটি আসনে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। মৌলভীবাজার-১ আসনে নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠু, মৌলভীবাজার-২ আসনে শওকতুল ইসলাম শকু, মৌলভীবাজার-৩ আসনে এম. নাসের রহমান ও মৌলভীবাজার-৪ আসনে মুজিবুর রহমান চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন।

সুনামগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনের সবকটিতে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বিএনপি। সুনামগঞ্জ-১ আসনে কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-২ আসনে নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে কয়ছর এম আহমদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে নুরুল ইসলাম নুরুল ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনে কলিম উদ্দিন মিলন বিজয়ী হয়েছেন।

হবিগঞ্জ জেলার সংসদীয় ৪টি আসনের সবকটিতে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। হবিগঞ্জ-১ আসনে ড. রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-২ আসনে ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ-৩ আসনে জি কে গউছ ও হবিগঞ্জ-৪ আসনে এসএম ফয়সল বিজয়ী হয়েছেন।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

জগন্নাথপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শৌচাগারে ঝুলছে তালা, ভোগান্তিতে রোগীরা

প্রকাশিত :  ১০:৪৪, ০৫ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪২, ০৫ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। হাসপাতালের বাইরে নির্মিত একমাত্র শৌচাগারটি ঘটা করে উদ্বোধনের কয়েক মাস পরই তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে রোগী ও স্বজনরা এটি ব্যবহার করতে পারছেন না।

এদিকে হাসপাতালের ভেতরের শৌচাগারগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। অনেকগুলোর দরজা ভাঙা, পরিবেশ নোংরা এবং তীব্র পানি সংকট রয়েছে। এসব কারণে রোগী ও তাদের স্বজনরা শৌচাগার ব্যবহার করতে গিয়ে মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।

সরেজমিনে বুধবার (৪ মার্চ) হাসপাতাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের বাইরে নির্মিত শৌচাগারটি দীর্ঘ দিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে আসা লোকজনের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। হাসপাতালের ভেতরে থাকা অধিকাংশ শৌচাগারই ব্যবহারের অনুপযোগী। নারী রোগীদের জন্য নির্ধারিত শৌচাগারগুলোর অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক। অধিকাংশের দরজা

ভাঙা থাকায় এক রোগীকে অন্যজনের সহায়তা নিয়ে অথবা বাইরে লোক দাঁড় করিয়ে ভেতরে যেতে হচ্ছে। এমনকি ভিআইপি কেবিনের বাথরুমগুলোর অবস্থাও বেহাল। দীর্ঘ দিন ধরে এই অবস্থা চললেও কোনো সংস্কারের উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সুমন মিয়া ও নুরুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাহিরের শৌচাগারটি উদ্বোধনের পর কয়েক দিন খোলা ছিল, এখন বন্ধ। ভেতরের টয়লেটে যাওয়া মানে এক ধরনের মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করা। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর তীব্র দুর্গন্ধে সেখানে টেকা দায়। পানিও সব সময় পাওয়া যায় না। দরজার অবস্থা এতই খারাপ যে কেউ ওপাশে না দাঁড়ালে ইজ্জত থাকে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর প্রচুর চাপ। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় পুরো হাসপাতাল এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এক পাশ পরিষ্কার করলেই অন্য পাশ নোংরা হয়ে যায়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অপব্যবহার রোধে বাহিরের শৌচাগার তালাবদ্ধ রাখা হয়। কর্মকর্তারা যখন মনে করেন প্রয়োজন, তখনই কেবল এটি খোলা হয়। তবে সাধারণ রোগীদের জন্য কেন এটি সবসময় উন্মুক্ত নয়, সে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কূপেশ রঞ্জন রায় বলেন, বাহিরের শৌচাগারগুলো প্রয়োজন সাপেক্ষে খুলে দেওয়া হয়।সবসময় খোলা রাখলে এগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। চাহিদা বাড়লে আমরা এগুলো খোলার ব্যবস্থা করি। আর ভেতরের শৌচাগারগুলো নিয়মিত। রক্ষণাবেক্ষণের চেষ্টা করা হয়, তবে জনবল সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।আমরা দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।

রক্ষণাবেক্ষণের অজুহাতে সরকারি বরাদ্দে নির্মিত শৌচাগারে তালা ঝুলিয়ে রাখা এবং জনবলের অজুহাত দেখিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ জিইয়ে রাখায় স্থানীয় সচেতন মহল ও রোগীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। দ্রুত এই সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সিলেটের খবর এর আরও খবর