img

'বোরকা' আমার কাছে স্রেফ একটি পোশাক, এর বেশি কিছু নয়: বাঁধন

প্রকাশিত :  ০৭:১৪, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:২৭, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

'বোরকা' আমার কাছে স্রেফ একটি পোশাক, এর বেশি কিছু নয়: বাঁধন

অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন বহুবার পোশাক নিয়ে ট্রলের শিকার হয়েছেন । তার সাজপোশাক নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে, কেউ কেউ তাকে বোরকা পরার পরামর্শও দিয়েছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে যখন দেশ সরগরম, এমন সময় ভোটের ঠিক পরদিন শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে একটি পোস্ট দেন বাঁধন।

পোস্টে দুটি ছবি কোলাজ করে শেয়ার করেন বাঁধন। তাতে দেখা যায়, একটা তে বোরকা পরে আছেন, অন্যটি শাড়ি। দুটি ছবির সঙ্গে ছিল এক ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তাও। 

সেই বার্তায় তার পোশাক নিয়ে সমালোচকদের কড়া জবাব দিলেন অভিনেত্রী। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে যারা তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছিলেন, তাদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, এই ছবিটা বিশেষ করে তাদের জন্য, যারা আমাকে ‘বোরকা কিনতে’ বলেছিলেন। জানিয়ে রাখি, ছোটবেলা থেকেই আমি আমার দৈনন্দিন জীবনে নিয়মিত বোরকা পরে আসছি।

বাঁধন লেখেন, ‘আমার কাছে এটি (বোরকা) শুধু একটি পোশাক, এর চেয়ে বেশি কিছুও নয়, কম কিছুও নয়। কখনো কখনো এটি পায়জামা ঢাকা দেওয়া বা তেলের চটচটে মাথা লুকানোর মতো সাধারণ কাজ কিংবা জনসম্মুখে ভিড়ে মিশে যাওয়ার জন্য দারুণ কার্যকর। বিষয়টি এতটাই সাধারণ।’

এদিকে, ‘নির্বাচনে জয়ী ও বিজিত সবার প্রতি সম্মান জানিয়ে বাঁধন তার বার্তা শেষ করেন ইতিবাচকভাবে। বলেন, যারা জয়ী হয়েছেন তাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। আর যারা জিততে পারেননি, এই অভিজ্ঞতা নিজেই একটি বিজয়। এটি আমাদের দেশ। সম্মান ও ঐক্য নিয়ে আমাদের একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমি আমার দেশকে ভালোবাসি।’


img

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদকে নিয়ে মাহিয়া মাহির বিস্ফোরক অভিযোগ

প্রকাশিত :  ১৮:১৫, ১১ জুলাই ২০২৬

বহুল আলোচিত-সমালোচিত চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ও সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের পুরোনো সেই অডিও ফাঁসের ঘটনাটি নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ ভিডিওবার্তা প্রকাশ করে মাহি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বেশ কিছু বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন।

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই ডা. মুরাদ হাসানের দ্বারা ভুক্তভোগী বলে অভিযোগ মাহির।

এ চিত্রনায়িকা জানান, ডা. মুরাদ হাসান তাকে প্রতিনিয়ত বিরক্ত করতেন বলে তিনি প্রতিমন্ত্রীর নম্বর ব্লক করে রেখেছিলেন। ভাইরাল হওয়া অডিওতে ডা. মুরাদ নিজেই বলেছিলেন, ‘ও তো আমার ফোন ধরবে না।’ মাহি বলেন, তিনি সরাসরি ফোন ধরতেন না বলেই ডা. মুরাদ অন্য মানুষের ফোন ব্যবহার করে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন।

অডিওতে ডা. মুরাদ হাসান মাহিকে তুলে নেওয়ার জন্য র‍্যাব, পুলিশ, এনএসআই ও ডিজিএফআই পাঠানোর হুমকি দিয়েছিলেন।

মাহি প্রশ্ন তোলেন, যদি তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্কই থাকত, তবে কেন তাকে এভাবে ভয় দেখানো হতো? মূলত ডা. মুরাদকে এড়িয়ে চলতেন বলেই তাকে দমাতে ক্ষমতার প্রভাব খাটানো হয়েছিল।

হুমকি পাওয়ার পর মাহি ইন্ডাস্ট্রির অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং সহকর্মীদের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। অনেকেই বিষয়টি জানতেন। কিন্তু ডা. মুরাদ মন্ত্রী হওয়ায় সবাই \"আমরা কী করব?\" বলে এড়িয়ে যান।

এমনকি কিছু সহকর্মী রাতে ফোন করে মাহিকে সতর্ক করতেন যেন রাত ১১টার পর তিনি ফোন না ধরেন, কারণ ওই সময়ে ডা. মুরাদ তাদের সামনেই থাকতেন।

মাহি বলেন, তিনি যদি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছাতে পারতেন, তবে অবশ্যই বিষয়টি তাকে জানাতেন এবং বিশ্বাস করেন যে তিনি এর বিচার করতেন।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি তাকে একাই ঠান্ডা মাথায় ও ভদ্রভাবে সামলাতে হয়েছিল।

অডিওতে ডা. মুরাদের গালিগালাজের বিপরীতে মাহির হেসে কথা বলা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। এর জবাবে মাহি বলেন, \"আমি যদি তখন গালিগালাজ করতাম আর পরে আমার বড় কোনো ক্ষতি হয়ে যেত, সেই দায়িত্ব কে নিত?\"

সবশেষে মাহি দাবি করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডা. মুরাদ শুধু তাকেই নয়, চলচ্চিত্র অঙ্গনের আরও অনেক নায়িকা, কণ্ঠশিল্পী এবং সংবাদ উপস্থাপিকাকে একইভাবে উত্যক্ত ও হেনস্তা করেছেন। ক্ষমতার ভয়ে তখন কেউ মুখ খুলতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই—নিউজ প্রেজেন্টার, সিঙ্গারসহ অসংখ্য নারী তার (ডা. মুরাদ হাসান) বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন। তাই বিষয়টা অনেকেই বুঝবেন না।’