img

বৃহত্তর সিলেট থেকে যাঁরা থাকছেন বিএনপির নতুন মন্ত্রীসভায়

প্রকাশিত :  ০৯:৩৫, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বৃহত্তর সিলেট থেকে যাঁরা থাকছেন বিএনপির নতুন মন্ত্রীসভায়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিপুল সংখ্যাঘরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে । প্রায় ২৪ বছর পর সরকারের দায়িত্ব নিতে যাওয়া দলটির নতুন মন্ত্রীসভায় কারা থাকছেন এনিয়ে চলছে আলোচনা। আলোচনা চলছে সিলেটেও।

নির্বাচনে সিলেটে ভূমিধস জয় পেয়েছে বিএনপি। বিভাগের ১৯ আসনের ১৮টিতে জিতেছেন বিএনপির প্রার্থীরা। যাদের মধ্যে কয়েকজন প্রভাবশালী প্রার্থীও রয়েছেন। তারা মন্ত্রীসভায় ঠাঁই পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। এছাড়া ট্যাকনোক্রেট কোটায় একজন ও জোটসঙ্গী অন্য দলের সিলেটের এক নেতাও মন্ত্রীসভায় থাকতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।

এরমধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জরুরী তলবে সিলেট থেকে কয়েকজন নেতা ঢাকা গিয়েছেন। তাদের মধ্যে ড. রেজা কিবরিয়া, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, আরিফুল হক চৌধুরী, হুমায়ুন কবির প্রমুখ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

তবে এবার সিলেট বিভাগের যেসব নেতার নাম মন্ত্রীসভায় থাকতে পারেন বলে আলোচনা চলছে তাদের বেশিরভাগের নামই আলোচিত হচ্ছে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে।

হবিগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়া ড. রেজা কিবরিয়াকে দেখা যেতে পারে নতুন মন্ত্রীসভায়। অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে। বাবার মন্ত্রণালয়েই তাকে দেখা যেতে পারে।

সিলেট-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। জাতীয় রাজনীতিতেও এ আসনটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। এছাড়া মুক্তাদীরও শিক্ষিত ও সজ্জন নেতা হিসেবে পরিচিত। মন্ত্রীসভায় তার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

সিলেট-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের আরেক উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট সিটির টানা দুইবারের মেয়র আরিফ এবার লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। ভোটের মাঠে ম্যাজিক ম্যান হিসেবে পরিচিত এই নেতাকে এবার মন্ত্রীসভায় দেখা যেতে পারে আলোচনা চলছে।

সিলেট-২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। পরে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান তাহসীনা রুশদীর লুনা। আর হুমায়ুন কবিরকে দেয়া হয় পররাষ্ট্র বিষয়ক যুগ্ম মহাসচিবের পদ। নতুন মন্ত্রীসভায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী এই নেতাও ট্যাকনোক্রেট কোটায় থাকতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।

সিলেট-৫ আসনে হেরে যাওয়া বিএনপি জোটের সঙ্গী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকও ট্যাকনোক্রেট কোটায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।

এছাড়া হবিগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত জিকে গউছকে নিয়েও আলোচনা চলছে। গউছ বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তার নেতৃত্বগুণ বেশ প্রসংশা কুড়িয়েছে।

তবে কোনকিছুই এখনও নিশ্চিত নয়। ঘোষণার পর মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে সিলেট থেকে কারা থাকছেন নতুন মন্ত্রীসভায়।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

দেওড়াছড়া চা বাগানে ৩ সপ্তাহ ধরে মজুরি বন্ধ, আন্দোলনে শ্রমিকরা

প্রকাশিত :  ১৩:২১, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলাস্থ রহিমপুর ইউনিয়নের বাংলাদেশ টি বোর্ডের নিয়ন্ত্রাধীন দেওড়াছড়া চা বাগানে ৩ সপ্তাহ ধরে চা শ্রমিকদের তলব বা মজুরী প্রদান না করায় বাগানের শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও আন্দোলন করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা অফিসের মেইন গেইটে তালা ঝুলিয়ে দেন।

এরপর বৃহস্পতিবার বিকেলে বকেয়া পাওয়া শুরু হলে শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে আসে।

জানা যায়, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওড়াছড়া চা বাগানে গত ৩ সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের মজুরী প্রদান করতে পারছেন না। এতে করে বিপাকে পড়েছেন কয়েক শতাধিক চা শ্রমিক। চা শ্রমিকরা মজুরী প্রদানের দাবি জানালেও বাগান কৃতর্পক্ষ নিশ্চুপ রয়েছে। দেওড়াছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির পক্ষ হতে গত ১২ এপ্রিল শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বরাবর একটি লিখিত আবেদন জানিয়ে ছিল। কিন্তু ৪/৫ দিন অতিবাহিত হলেও কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে চা বাগানের বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা বাগানের অফিসের সামনে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে অফিসের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চা শ্রমিকরা অফিসের সামনে অবস্থান করছেন।

দেওড়াছড়া চা বাগান সূত্রে জানা যায়, এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে বাগানের একজন অনিয়মিত নারী শ্রমিক চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান। বাগানের পক্ষ থেকে ঐ নারীকে প্রায় ১১ হাজার টাকা চিকিৎসা বাবত দেওয়া হয়। এঘটনার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন শ্রমিক আন্দোলন করে। ভারপ্রাপ্ত বাগান ব্যবস্থাপকের অপসারণ চান। এঘটনার পর নিরাপত্তা জনিত কারণে ভারপ্রাপ্ত বাগান ব্যবস্থাপক কোম্পানী বরাবরে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে চলে যান। যেহেতু বাগানে ব্যবস্থাপক নেই এজন্য শ্রমিকদের মজুরি আটকা পড়েছে।

দেওড়াছড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সুবুধ কর্মী জানান, ৩ সপ্তাহ ধরে তলব বন্ধ। কয়েক শতাধিক চা শ্রমিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। আমরা লিখিত আবেদন করেছে মজুরী দিতে, তারপরও দেয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই চা শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছেন। বর্তমানে চা বাগান কাজ বন্ধ রেখেছে চা শ্রমিকরা।

রহিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার দেওড়াছড়া চা বাগানের শ্রমিক আন্দোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, মজুরীর দাবীতে অফিস তালা দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ চা শ্রমিকরা। কিছু দিন পূর্বে এক চা শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার জের ধরে বাগান ম্যানেজমেন্ট ৩ সপ্তাহ ধরে তলব বন্ধ রেখেছে। অবশেষে কোম্পানীর নির্দেশে বৃহস্পতিবার বিকেলে পেমেন্ট দিলে শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে যায়।

এ ব্যাপারে দেওড়াছড়া চা বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম বলেন, নারী চা শ্রমিক মারা যাওয়ার পর কয়েকজন মিলে ঘটনার দায় আমার উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে আমাকে শারিরীক লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনার পর আমি নিরাপত্তা নিরাপত্তাহীনতায় ছিলাম। এর পর ছুটি নিয়ে আমি চলে আসি। আগামী শনিবার পর্যন্ত আমার ছুটি আছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম সমকালকে জানান, নিরাপত্তার কারণে দেওড়াছড়া চা বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক কিছুদিন পূর্বে পদত্যাগ পত্র কোম্পানীর কাছে জমা দিয়েছে। নতুন ব্যবস্থাপক দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রদানের চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে দেওড়াছড়া চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরী প্রদান করা হচ্ছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর