দ্রব্যমূল্য নিয়ে ‘সাউন্ড বাইট’ নয়, কাজ করে দেখাব: বাণিজ্যমন্ত্রী
প্রকাশিত :
১০:১৭, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩৫, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
দ্রব্যমূল্য নিয়ে বাজারে কোনো 'সাউন্ড বাইট' নয়, বরং কাজের মাধ্যমে ফল দেখানোর আশ্বাস দিয়েছেন নতুন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি নিয়েও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম কর্মদিবসে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রমজান ও পরবর্তী সময়ে বাজার স্থিতিশীল রাখতে দেশে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'আমাদের হাতে যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রয়েছে এবং পাইপলাইনে যা আছে, তা রমজান ও পরবর্তী সময়ে বাজার স্থিতিশীল রাখতে যথেষ্ট। এ বিষয়ে শঙ্কার কারণ নেই।'
রমজান এলেই 'সিন্ডিকেট' প্রসঙ্গ সামনে আসে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমি সাউন্ড বাইট দেব না। ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব। বাজার তদারকি ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।'
রমজানের শুরুতে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'অনেক ক্ষেত্রে এটি এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। মানুষ সাধারণত এ সময় পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে করে। ফলে হঠাৎ ভোগ বাড়ে এবং এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ে।'
তবে এ প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান হারাল বাংলাদেশ
প্রকাশিত :
০৬:৩৯, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের আমদানি বাড়লেও কমছে রপ্তানি। এর ফলে মার্কিন বাজারে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থান হারিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে বাংলাদেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে বরাবরই শীর্ষ স্থানে ছিল ভিয়েতনাম; এখনো সেই স্থান ধরে রেখেছে দেশটি। দ্বিতীয় ছিল বাংলাদেশ; সেই স্থান এখন দখলে নিয়েছে চীন।
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এমন তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে আগস্ট সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৫৩৯ কোটি ৩৪ লাখ (৫.৩৯ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম।
এই সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ৫৬৩ কোটি সাত লাখ (৫.৬৩ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে; যা ২০২৫ সালের জানুয়ারি-আগস্টের চেয়ে ৩৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ কম।
চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে, অর্থাৎ জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৪৬৫ কোটি ৮৯ লাখ (৪.৬৬ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল; যা ছিল গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ কম।
একই সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫৫ কোটি ৫৭ লাখ (৪.৫৫ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। তবে এটিও ২০২৫ সালের জানুয়ারি-জুলাইয়ের চেয়ে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ কম।
একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার। মোট রপ্তানি আয়ের ২০ শতাংশের মত আসে দেশটি থেকে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ২০২২ সালে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৩৬ শতাংশ বেড়ে ৯৭৩ কোটি (৯.৭৩ বিলিয়ন) ডলারে উঠেছিল। কিন্তু পরের বছর প্রবৃদ্ধি তো দূরের কথা, উল্টো রপ্তানি ২৫ শতাংশ কমে। ওই বছরে রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৭২৯ কোটি ডলার।
২০২৪ সালে আবার রপ্তানি সামান্য বেড়ে ৭৩৪ কোটি ডলার হয়; শতাংশ হিসাবে বেড়েছিল দশমিক ৭৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে বেড়েছিল ১২ শতাংশের মতো; রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৮২০ কোটি ডলার।
অটেক্সার তথ্যে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে মোট ৪ হাজার ৯০৭ কোটি ৫৫ লাখ (৪৯.০৭ বিলিয়ন) ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ কম।
গত বছরের প্রথম আট মাসে ৫ হাজার ৩০০ কোটি ৮২ লাখ (৫৩ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক আমদানি করেছিলেন দেশটির ব্যবসায়ীরা।
এই আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় পোশাক সরবরাহকারী দেশ ছিল ভিয়েতনাম। তারপরও দেশটি থেকে আমদানি শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ কমে ১১০৫ কোটি ৯২ লাখ ডলার থেকে ১০৯৭ কোটি ৫৬ লাখ ডলারে নামে।