দখলদার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ফের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (মিসাইল) ছুড়েছ ইরান। এবারের হামলাটি হয়েছে চার ঘণ্টা পর। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, মিসাইল হামলার প্রভাবে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে সতর্ককামূলক সাইরেন বাজছে।
শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় পৌনে ১২টার দিকে ইরান থেকে ছোড়া মিসাইল ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসে। এ সময় ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।
ইরান যুদ্ধে জড়াচ্ছে রাশিয়া!ইরান যুদ্ধে জড়াচ্ছে রাশিয়া!
ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, মিসাইল হামলার কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
তবে সর্বশেষ হামলায় ইরান ঠিক কতটি ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করেছে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের হামলার তীব্রতা আগের তুলনায় কিছুটা কমে এসেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
গাজায় প্রতি ৯০ মিনিটে একজন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করছে ইসরাইল
প্রকাশিত :
০৭:০৩, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েলি হামলায় গড়ে প্রতি ৯০ মিনিটে একজন ফিলিস্তিনি নিহত বা আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবিক সহায়তা সংস্থা ইসলামিক রিলিফ।
সংস্থাটির হিসাবে, গত এক বছরে অন্তত ১ হাজার ৪৫৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩২০ জন শিশু। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে প্রায় একজন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ৪৭১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ১৮৯ জন আহত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায়ই নিহত হয়েছেন চারজন এবং আহত হয়েছেন ২৮ জন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা অন্তত ৭৪ হাজার ২৫৪ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত হন। একই দিন মধ্য গাজার খান ইউনিসে একটি বাড়িতে ইসরাইলি বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা।
অন্যদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনের পশ্চিমে ইয়ামুন এলাকায় ইসারাইলি বাহিনীর অভিযানের সময় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট।
ইসলামিক রিলিফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখাকে কাজে লাগিয়ে গাজার প্রায় ৬৫ শতাংশ এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রায় ২১ লাখ মানুষের এই ভূখণ্ডের বাকি ৩৫ শতাংশ এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হচ্ছে।
গাজায় কর্মরত ইসলামিক রিলিফের এক সহায়তাকর্মী নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাস্তবে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবির ও জনাকীর্ণ এলাকাগুলোতেও হামলা চালানো হচ্ছে। ফলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এখনো কাটেনি।
ইসলামিক রিলিফের অভিযোগ, ইসরাইল এখনো গাজায় আশ্রয় তৈরির সামগ্রী, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। এতে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। স্বাস্থ্যসেবার অর্ধেকেরও বেশি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া গুরুতর অসুস্থ ২০ হাজারের বেশি রোগীকে চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
গাজায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার জন্য বিশ্বনেতাদের আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক রিলিফ।
সংস্থাটির মতে, কেবল কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেই চলবে না; মানুষের প্রাণহানি বন্ধ এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
ইসলামিক রিলিফ বলেছে, নামমাত্র যুদ্ধবিরতিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয় থাকার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও হতাহত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা ও আশ্রয়সংকট অব্যাহত থাকায় গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।