img

বক্স অফিসে ঝড়, ঈদে সবচেয়ে বেশি আয় ‘দম’ সিনেমার

প্রকাশিত :  ১৯:০১, ২৩ মার্চ ২০২৬

বক্স অফিসে ঝড়, ঈদে সবচেয়ে বেশি আয় ‘দম’ সিনেমার

জাস্ট প্রতিবেদক সৈয়দ আমানউল্লাহ : ঈদুল ফিতরকে ঘিরে দেশের সিনেমা অঙ্গনে বইছে উৎসবের আমেজ। ছুটির আনন্দের সঙ্গে এবার প্রেক্ষাগৃহেও দেখা যাচ্ছে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়। তারকাখ্যাতির পাশাপাশি শক্ত গল্প ও নির্মাণশৈলীর কারণে দর্শকরা বেছে নিচ্ছেন পছন্দের সিনেমা। ফলে ঈদে মুক্তি পাওয়া পাঁচটি সিনেমা— ‘প্রিন্স’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘দম’, ‘রাক্ষস’ ও ‘প্রেশার কুকার’—কে ঘিরে এখন জমজমাট আলোচনা চলছে সিনেমাপাড়ায়।

বাংলা মুভি রিভিউ (বিএমআর)-এর তথ্য অনুযায়ী, ঈদের প্রথম দিনেই দাপুটে সূচনা করেছে আফরান নিশো অভিনীত ‘দম’। মাল্টিপ্লেক্সে বছরের সর্বোচ্চ ওপেনার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে সিনেমাটি। স্টার সিনেপ্লেক্স ও লায়ন সিনেমা মিলিয়ে মোট ২৭টি শোর মধ্যে ২২টিই ছিল হাউজফুল। প্রথম দিনেই সিনেমাটি আয় করেছে প্রায় ৩০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, যা ঈদের মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

আয়ের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে তানিম নূর পরিচালিত তারকাবহুল সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। প্রথম দিনে স্টার সিনেপ্লেক্স ও লায়ন সিনেমায় মোট ২১টি শোর মধ্যে ১৭টিই ছিল হাউজফুল। সিনেমাটি আয় করেছে ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

ঈদের বাজারে বরাবরের মতোই আলোচনায় আছেন ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান। তার অভিনীত ‘প্রিন্স’ সিনেমাটি স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি না পেলেও ই-টিকেটিং সুবিধা থাকা অন্যান্য মাল্টিপ্লেক্স ও প্রেক্ষাগৃহে ভালো সাড়া পেয়েছে। মোট ৩১টি শোর মধ্যে ২৬টিই ছিল হাউজফুল। দিনশেষে সিনেমাটির আয় দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ১৯ হাজার টাকা।

তরুণ দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সিয়াম আহমেদ অভিনীত ‘রাক্ষস’ সিনেমাটিও ভালো সূচনা করেছে। প্রথম দিনে ১৪টি শোর মধ্যে ১০টি হাউজফুল ছিল এবং সিনেমাটি আয় করেছে ১৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।

অন্যদিকে নির্মাতা রায়হান রাফীর ‘প্রেশার কুকার’ প্রথম দিনে তুলনামূলক মাঝারি মানের ব্যবসা করেছে। ১৪টি শোর মধ্যে মাত্র একটি শো হাউজফুল ছিল। প্রথম দিনে সিনেমাটির আয় হয়েছে ৬ লাখ ১২ হাজার টাকা।

সব মিলিয়ে ঈদের শুরুতেই প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের উপস্থিতি ও সিনেমাগুলোর আয় দেখে সিনেমা সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী। ছুটির দিনগুলোতে দর্শক উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা। বিশেষ করে ‘দম’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘প্রিন্স’—এই তিন সিনেমার মধ্যে বক্স অফিস প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

img

প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলার রাজসাক্ষী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ

প্রকাশিত :  ১১:৩৮, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:১২, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

‘সখী, ভালোবাসা কারে কয়! সে কি কেবলই যাতনাময়...’, হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। প্রেমিক সুকেশ চন্দ্রশেখরের জন্য থানা-পুলিশ, আদালত অবধি করতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। প্রেমের টানে কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা মামলায় বিতর্কে জড়িয়ে বলিউডের শক্ত পায়ের তলার মাটিও খোয়াতে বসেছেন জ্যাকুলিন!

বহুল আলোচিত ২০০ কোটি রুপির আর্থিক জালিয়াতি মামলায় জেলে আছেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ আলোচিত মামলায় এবার আদালতে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিতে পারেন প্রেমিকা অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। এর ফলে মামলার গতিপথে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

অথচ গ্রেফতারের পর থেকেই নানাভাবে জ্যাকুলিনের প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করে আসছেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। চিঠি লিখে তিনি দাবি করেছিলেন, তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল এবং অভিনেত্রী তার কাছ থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা চাননি—শুধু ভালোবাসাই চেয়েছেন।

সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের জীবন কেবল যাতনাময়, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন তিনি। প্রেমিকের জন্য থানা-পুলিশ, আদালত অবধি দৌড়াতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। প্রেমের টানে কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা মামলায় বিতর্কে জড়িয়ে বলিউডের শক্ত পায়ের তলার মাটিও খোয়াতে বসেছেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ!

অথচ জ্যাকুলিনের মন পেতে সুকেশ চন্দ্রশেখর ‘প্রেম যে কাঁঠালের আঠা লাগলে ছাড়ে না’- গানের মতোই আঠা হয়ে লেগে আছেন। বর্তমানে সুকেশ একাধিক জালিয়াতির মামলায় দিল্লির মান্ডোলি জেলে বন্দি রয়েছেন। জেলে বসেই প্রায় প্রতিটি বিশেষ দিনে তিনি জ্যাকুলিনকে উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখে আসছেন। দিয়ে যাচ্ছেন হেলিকপ্টারসহ দামি উপহার। তাতেও মন গলেনি প্রেমিকার। সর্বশেষ ভালোবাসা দিবসেও তিনি নিজেদের ভালোবাসাকে রোমিও-জুলিয়েট, হির-রাঞ্জা এবং লাইলি-মজনুর মতো কালজয়ী প্রেমের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সুকেশের দাবি—কোনো কিছুই তাদের এই বন্ধন ভাঙতে পারবে না। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে খোলা চিঠিতে সুকেশ জ্যাকুলিনকে ‘বেবি বোম্মা’ বলেও সম্বোধন করেন।

একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিতে সুকেশ লিখেছেন— ‘লোহার গরাদ আর এই ঠান্ডা দেয়াল আমাদের আলাদা করে রেখেছে। মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া কোনো মানুষের মতো আমি তোমাকে প্রতি মুহূর্তে মিস করছি। আজ আমার প্রতিটি হৃদস্পন্দন আমাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।’ 

সুকেশ বলেন, জ্যাকুলিন ও তার পরিবারের জন্য দেওয়া সব উপহারই তিনি স্বেচ্ছায় দিয়েছেন। এমনকি এ মামলায় জ্যাকুলিনের নাম জড়ানোকে তিনি ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলেও উল্লেখ করেন। এবার জ্যাকুলিনের জন্য তিনি একটি বিশেষ সারপ্রাইজ উপহারের ব্যবস্থা করেছেন। সেটি হলো— একটি ‘এয়ারবাস এইচ সিরিজ’ লাক্সারি হেলিকপ্টার। 

সুকেশ এর আগে কোটি কোটি টাকার বাড়ি-গাড়ি উপহার তো দিয়েছেনই। জিজ্ঞাসাবাদে সেসব বিলাসী উপহারের কথা অভিনেত্রীও স্বীকার করেছেন। এবার সেই প্রেমিকাই তার বিরুদ্ধে মামলার রাজসাক্ষী হতে যাচ্ছেন। এখন দেখার বিষয়—আদালতে দাঁড়িয়ে সুকেশকে নিয়ে কী ধরনের বক্তব্য দেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। তার সাক্ষ্যই নির্ধারণ করতে পারে এই বহুল আলোচিত মামলার পরবর্তী দিকনির্দেশনা।

বিনোদন এর আরও খবর