img

প্রেমিকার সঙ্গে আপসের শর্ত ভঙ্গ, ফের কারাগারে নোবেল

প্রকাশিত :  ১১:৪৬, ০২ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:২০, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

প্রেমিকার সঙ্গে আপসের শর্ত ভঙ্গ, ফের কারাগারে নোবেল

প্রেমিকার সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের মামলায় আপসের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে কণ্ঠশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এ বিষয় বাদীপক্ষের আইনজীবী নাসিদুস জামান বলেন, জামিনে থাকা আসামি নোবেল আদালতে হাজিরা দেন। তবে তিনি ইতোপূর্বে জামিনে গিয়ে আপসের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। এজন্য আমরা তার জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করি। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি গায়ক নোবেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে একই আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এই পরোয়ানার পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বটতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারি তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ওইদিন শুনানি শেষে আপসের শর্তে তার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। পরে আদালতের হাজতখানা থেকে তিনি মুক্ত হন।

গত বছরের ১৩ আগস্ট ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলা গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আনাননিয়া শবনম রোজ নামের এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন নোবেল। পরে ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে গত বছরের জুন পর্যন্ত বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে প্রায় ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। অন্য আসামিরা প্রতারণার কাজে নোবেলকে সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। তদন্ত শেষে পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক নুরুজ্জামান চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

নোবেল বাদে এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন- নোবের মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, সহকারী মুনেম শাহ সৌমিক এবং পরিচিত মাসুদ রানা।

img

প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলার রাজসাক্ষী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ

প্রকাশিত :  ১১:৩৮, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:১২, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

‘সখী, ভালোবাসা কারে কয়! সে কি কেবলই যাতনাময়...’, হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। প্রেমিক সুকেশ চন্দ্রশেখরের জন্য থানা-পুলিশ, আদালত অবধি করতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। প্রেমের টানে কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা মামলায় বিতর্কে জড়িয়ে বলিউডের শক্ত পায়ের তলার মাটিও খোয়াতে বসেছেন জ্যাকুলিন!

বহুল আলোচিত ২০০ কোটি রুপির আর্থিক জালিয়াতি মামলায় জেলে আছেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ আলোচিত মামলায় এবার আদালতে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিতে পারেন প্রেমিকা অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। এর ফলে মামলার গতিপথে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

অথচ গ্রেফতারের পর থেকেই নানাভাবে জ্যাকুলিনের প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করে আসছেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। চিঠি লিখে তিনি দাবি করেছিলেন, তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল এবং অভিনেত্রী তার কাছ থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা চাননি—শুধু ভালোবাসাই চেয়েছেন।

সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের জীবন কেবল যাতনাময়, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন তিনি। প্রেমিকের জন্য থানা-পুলিশ, আদালত অবধি দৌড়াতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। প্রেমের টানে কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা মামলায় বিতর্কে জড়িয়ে বলিউডের শক্ত পায়ের তলার মাটিও খোয়াতে বসেছেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ!

অথচ জ্যাকুলিনের মন পেতে সুকেশ চন্দ্রশেখর ‘প্রেম যে কাঁঠালের আঠা লাগলে ছাড়ে না’- গানের মতোই আঠা হয়ে লেগে আছেন। বর্তমানে সুকেশ একাধিক জালিয়াতির মামলায় দিল্লির মান্ডোলি জেলে বন্দি রয়েছেন। জেলে বসেই প্রায় প্রতিটি বিশেষ দিনে তিনি জ্যাকুলিনকে উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখে আসছেন। দিয়ে যাচ্ছেন হেলিকপ্টারসহ দামি উপহার। তাতেও মন গলেনি প্রেমিকার। সর্বশেষ ভালোবাসা দিবসেও তিনি নিজেদের ভালোবাসাকে রোমিও-জুলিয়েট, হির-রাঞ্জা এবং লাইলি-মজনুর মতো কালজয়ী প্রেমের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সুকেশের দাবি—কোনো কিছুই তাদের এই বন্ধন ভাঙতে পারবে না। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে খোলা চিঠিতে সুকেশ জ্যাকুলিনকে ‘বেবি বোম্মা’ বলেও সম্বোধন করেন।

একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিতে সুকেশ লিখেছেন— ‘লোহার গরাদ আর এই ঠান্ডা দেয়াল আমাদের আলাদা করে রেখেছে। মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া কোনো মানুষের মতো আমি তোমাকে প্রতি মুহূর্তে মিস করছি। আজ আমার প্রতিটি হৃদস্পন্দন আমাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।’ 

সুকেশ বলেন, জ্যাকুলিন ও তার পরিবারের জন্য দেওয়া সব উপহারই তিনি স্বেচ্ছায় দিয়েছেন। এমনকি এ মামলায় জ্যাকুলিনের নাম জড়ানোকে তিনি ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলেও উল্লেখ করেন। এবার জ্যাকুলিনের জন্য তিনি একটি বিশেষ সারপ্রাইজ উপহারের ব্যবস্থা করেছেন। সেটি হলো— একটি ‘এয়ারবাস এইচ সিরিজ’ লাক্সারি হেলিকপ্টার। 

সুকেশ এর আগে কোটি কোটি টাকার বাড়ি-গাড়ি উপহার তো দিয়েছেনই। জিজ্ঞাসাবাদে সেসব বিলাসী উপহারের কথা অভিনেত্রীও স্বীকার করেছেন। এবার সেই প্রেমিকাই তার বিরুদ্ধে মামলার রাজসাক্ষী হতে যাচ্ছেন। এখন দেখার বিষয়—আদালতে দাঁড়িয়ে সুকেশকে নিয়ে কী ধরনের বক্তব্য দেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। তার সাক্ষ্যই নির্ধারণ করতে পারে এই বহুল আলোচিত মামলার পরবর্তী দিকনির্দেশনা।

বিনোদন এর আরও খবর