বিদ্যুৎ লাইনের পাশের গাছপালার শাখা-প্রশাখা কাটা ও নতুন ৩৩ কেভি লাইন নির্মাণ কাজের জন্য আজ শনিবার (৯ মে) দেশের কয়েকটি এলাকায় টানা প্রায় ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
গতকাল শুক্রবার (৮ মে) সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ জানিয়েছে, বনপাড়া গ্রিড উপকেন্দ্রে নতুন ৩৩ কেভি লাইন নির্মাণকাজের কারণে বড়াইগ্রাম উপজেলার কয়েকটি এলাকায় শনিবার (৯ মে) সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে।
সমিতির সদর দপ্তর অফিসের অধীন বড়াইগ্রাম-১ (বনপাড়া) উপকেন্দ্রের ১, ৪, ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ফিডারের আওতাধীন বনপাড়া পৌরসভার আংশিক এলাকা এবং জোয়াড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে এ বিদ্যুৎ বিভ্রাট হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) খুলনার বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩ জানিয়েছে, খালিশপুর ৩৩/১১ কেভি উ পকেন্দ্রের আওতাধীন ১১ কেভি মহসিন কলেজ ফিডারের লাইনের দুই পাশের গাছপালার শাখা-প্রশাখা কাটার কাজের জন্য শনিবার (৯ মে) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ঈদগাহ রোড, ১৫০ থেকে ১৫৬ নম্বর রোড, ১৮ নম্বর রোড, ১৭১ থেকে ১৭৫ নম্বর রোড, ১১ নম্বর রোড, ১৬ নম্বর রোড, মহসিন কলেজ মোড়, নয়াবাটী ও বাংলার মোড় এলাকা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাজের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগে বা পরে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হতে পারে। কাজ শেষে যেকোনো সময় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করা হতে পারে বলে গ্রাহকদের সব সময় লাইন সচল রয়েছে ধরে নিয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকায় মঙ্গলবার সকালে এক বিকাশ এজেন্টকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার তদন্তে অভিযান চালাতে গিয়ে বিকেলে ছিনতাইকারীদের হামলার মুখে পড়েন পুলিশের দুই সদস্য। এ হামলায় আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও উপপরিদর্শক তরুণ কুমার আহত হন। পরে পুলিশের পাল্টা গুলিতে দুই সন্দেহভাজন ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিন বিকালে উদ্যানসংলগ্ন ডেলটা গার্মেন্টসের পেছনের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটকরা হলো গুলিবিদ্ধ চোরা রুবেল ও কানা আমির এবং কাশেম ও মো. জয় নামে আরও দুজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধদের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে আদাবর থানার শেখেরটেক ৭ নম্বর রোডের মফিজবাড়ি এলাকায় ‘নিঝুম টেলিকম’ নামে একটি বিকাশ এজেন্টের দোকানে দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা চালায় ৪-৫ জন ছিনতাইকারী। তারা দোকান মালিক শফিকুল ইসলামকে (৩৫) এলাপাতাড়ি কুপিয়ে দোকান থেকে নগদ তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চাপাতি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা দোকান মালিক শফিকুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রথমে ক্যাশে থাকা টাকা নেওয়ার চেষ্টা করলে শফিকুল বাধা দেন। তখন দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
হামলায় শফিকুল ইসলামের হাত, মাথা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশের আঘাত গুরুতর। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) বা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানাস্তর করা হয়। শফিকুলের ভাই মুসলিম হোসেন জানান, দুজন দোকানের ভেতরে ঢুকে ক্যাশ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং এতে বাধা দিলেই তারা চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। পরে ক্যাশে থাকা সব টাকা নিয়ে যায়। ক্যাশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিল। তিনি বলেন, শফিকুলের বাম হাত, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে তার অপারেশন চলছে।
ঘটনার খবর পেয়ে আদাবর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে। স্থানীয় সূত্র, সিসিটিভি ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রযুক্তির সাহায্যে পুলিশ জানতে পারে, ছিনতাইয়ে জড়িত কয়েকজন সদস্য ঢাকা উদ্যান এলাকার ডেলটা গার্মেন্টসের পেছনে একটি আস্তানায় অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বিকালে সেখানে অভিযানে যায় পুলিশ।
পুলিশের দাবি, ছিনতাইকারীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্র ও ধারালো চাপাতি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। তারা প্রথমে আদাবর থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীরের ওপর হামলা করে। পরে এসআই তরুণ কুমারকেও চাপাতি দিয়ে আঘাত করে ছিনতাইকারীরা। এসময় পুলিশ সদস্যরা আত্মরক্ষায় পালটা গুলি চালালে চোরা রুবেল ও কানা আমির নামে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাদের আটক করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। একই সময় কাশেম ও মো. জয় নামে আরও দুজনকে আটক করা হয়।
ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। ডেলটা গার্মেন্টসের পেছনের পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে চাপাতি, ছুরি এবং হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আদাবর ও ঢাকা উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অপরাধী চক্র সক্রিয়। বিশেষ করে ‘কবজিকাটা আনোয়ার’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি এবং মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। মিজানুর রহমান নামে ওই এলাকার এক বাসিন্দা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের অভিযানে গ্রুপটির প্রধান আনোয়ার কারাগারে থাকলেও তার অনুসারীরা এখনো এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। ফলে সন্ধ্যার পর অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে চান না। বাসিন্দারা জানান, দিনের বেলাতেও ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনা বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সেকেন্ড ইন কমান্ড) মো. ফজলুল করিম বলেন, সকালে বিকাশের দোকানে সংঘটিত ছিনতাইয়ের ঘটনার সূত্র ধরেই আদাবর এলাকায় ছিনতাইকারীদের একটি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পালটা গুলি চালালে দুই ছিনতাইকারী আহত হয়। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে। আহত দুই পুলিশ সদস্য প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যদিকে গুলিবিদ্ধ দুই ছিনতাইকারীকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।