img

স্বামীর বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি মামলা দিয়ে স্ত্রী নিজেই এখন কারাগারে

প্রকাশিত :  ০৮:১০, ১০ মে ২০২৬

স্বামীর বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি মামলা দিয়ে স্ত্রী নিজেই এখন কারাগারে

স্বামীর বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে বরগুনার বামনা উপজেলায় দায়ের করা মামলায় স্ত্রী শারমিন আক্তার রুমাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে মামলায় অভিযুক্ত স্বামী জসীম উদ্দীন হাওলাদারসহ অন্য আসামিদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার (৬ মে) বিচারক কাজী আশরাফুজ্জামান (যুগ্ম দায়রা জজ-১) এ আদেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বেতাগী উপজেলার ছোপখালী ইউনিয়নের হোসনাবাদ এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তার তার প্রথম স্বামীকে তালাক দেওয়ার পর ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা কাজী অফিসে মো. জসীম উদ্দীন হাওলাদারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে জসীম উদ্দীন ব্যবসায়িক কাজে বিদেশে চলে যান।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর নিরাপত্তার জন্য জসীম উদ্দীন তার স্ত্রীকে ৩০ লাখ টাকার একটি চেক ও স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেন। তবে পরবর্তীতে ওই চেক ব্যবহার করে জসীমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চেক ডিজঅনারের একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় আদালত দেখতে পান, মামলার আরজিতে উল্লেখিত চেক নম্বর এবং আদালতে দাখিল করা চেকের নম্বরের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। এছাড়া আদালতের অনুমতি ছাড়া মামলার নথিতে কলম দিয়ে সংশোধনের অভিযোগও উঠে।

আদালতে শুনানিকালে শারমিন আক্তার তার দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন বলে জানা যায়। এছাড়া ফ্ল্যাট ক্রয় সংক্রান্ত অভিযোগের কোনো বৈধ চুক্তিপত্রও উপস্থাপন করতে পারেননি। শুনানি শেষে আদালত মামলাটি অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বিবেচনা করে বাদীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং অভিযুক্ত জসীমসহ অন্য আসামিদের খালাস দেন। 

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বলেন, কাবিনমূলে শারমিন এবং জসীম তারা স্বামী-স্ত্রী। পরে শারমিন তার স্বামী জসীমকে তালাকও দেন। কিন্তু কোর্টে বসে শারমিন বলেন, আমাদের কোনো বিয়েই হয়নি। 

এ বিষয়ে জসীম উদ্দিন বলেন, ৬ মে আমাদের মামলার শুনানি ছিল। সেদিন ম্যাজিস্ট্রেট আমাদের বিয়ের কাবিননামা সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এটা জাল কাবিননামা।  তালাকের বিষয় জিজ্ঞেস করলে বলেন, সেটাও নাকি জাল, এমনকি তার ভোটার আইডিতে আমার নাম সেটাও নাকি জাল। তখন ম্যাজিস্ট্রেট তার উকিলকে জিজ্ঞেস করে বলেন, আপনার মক্কেল এসব কি বলে? তখন তার উকিল বলেন, আমার মক্কেল মিথ্যা বলছেন। পরে আদালত তাকে গারদে আটকে রাখার নির্দেশ দেন এবং আমাদের বেকসুর খালাস দেন।

তিনি বলেন, ইতোপূর্বে শারমিন আক্তারের চার বিয়ে হয়েছে। আমার বিয়ের আগেও তার দুইবার বিয়ে হয়েছিল, আমি তা জানতাম না। বিয়ের তিনমাস পরে আমি বিদেশ যাই। সেই সুযোগে আমাকে তালাক দিয়ে আগের স্বামীর সঙ্গে আবার সংসার শুরু করে। 

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. তপু রায়হান জানান, শুনানির সময় কোর্টের কাছে মনে হয়েছে এই মেয়ে মিথ্যাবাদী। সে মিথ্যা কথা বলতেছে। আমরা আইনজীবীরা যখন কোর্টের সামনে সব তুলে ধরি, তখন বাদীর কাছে জিজ্ঞেস করা হয়েছে আইনজীবীরা যা বলছে তা মিথ্যা কিনা তখন তিনি আমাদের  চোখের সামনে মিথ্যা বলছেন। এমনকি কাগজে লেখা একটি কিন্তু তিনি বলেন অন্যটি। পরে আদালত বলেন একে আটকে রাখেন।

img

আদাবরে ছিনতাইকারীদের তাণ্ডব, বিকালে কোপাল ওসি-এসআইকে সকালে ব্যবসায়ীকে

প্রকাশিত :  ১৮:৩৮, ১৬ জুন ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকায় মঙ্গলবার সকালে এক বিকাশ এজেন্টকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার তদন্তে অভিযান চালাতে গিয়ে বিকেলে ছিনতাইকারীদের হামলার মুখে পড়েন পুলিশের দুই সদস্য। এ হামলায় আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও উপপরিদর্শক তরুণ কুমার আহত হন। পরে পুলিশের পাল্টা গুলিতে দুই সন্দেহভাজন ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিন বিকালে উদ্যানসংলগ্ন ডেলটা গার্মেন্টসের পেছনের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটকরা হলো গুলিবিদ্ধ চোরা রুবেল ও কানা আমির এবং কাশেম ও মো. জয় নামে আরও দুজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধদের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে আদাবর থানার শেখেরটেক ৭ নম্বর রোডের মফিজবাড়ি এলাকায় ‘নিঝুম টেলিকম’ নামে একটি বিকাশ এজেন্টের দোকানে দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা চালায় ৪-৫ জন ছিনতাইকারী। তারা দোকান মালিক শফিকুল ইসলামকে (৩৫) এলাপাতাড়ি কুপিয়ে দোকান থেকে নগদ তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চাপাতি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা দোকান মালিক শফিকুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রথমে ক্যাশে থাকা টাকা নেওয়ার চেষ্টা করলে শফিকুল বাধা দেন। তখন দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

হামলায় শফিকুল ইসলামের হাত, মাথা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশের আঘাত গুরুতর। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) বা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানাস্তর করা হয়। শফিকুলের ভাই মুসলিম হোসেন জানান, দুজন দোকানের ভেতরে ঢুকে ক্যাশ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং এতে বাধা দিলেই তারা চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। পরে ক্যাশে থাকা সব টাকা নিয়ে যায়। ক্যাশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিল। তিনি বলেন, শফিকুলের বাম হাত, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে তার অপারেশন চলছে।

ঘটনার খবর পেয়ে আদাবর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে। স্থানীয় সূত্র, সিসিটিভি ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রযুক্তির সাহায্যে পুলিশ জানতে পারে, ছিনতাইয়ে জড়িত কয়েকজন সদস্য ঢাকা উদ্যান এলাকার ডেলটা গার্মেন্টসের পেছনে একটি আস্তানায় অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বিকালে সেখানে অভিযানে যায় পুলিশ।

পুলিশের দাবি, ছিনতাইকারীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্র ও ধারালো চাপাতি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। তারা প্রথমে আদাবর থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীরের ওপর হামলা করে। পরে এসআই তরুণ কুমারকেও চাপাতি দিয়ে আঘাত করে ছিনতাইকারীরা। এসময় পুলিশ সদস্যরা আত্মরক্ষায় পালটা গুলি চালালে চোরা রুবেল ও কানা আমির নামে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাদের আটক করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। একই সময় কাশেম ও মো. জয় নামে আরও দুজনকে আটক করা হয়।

ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। ডেলটা গার্মেন্টসের পেছনের পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে চাপাতি, ছুরি এবং হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আদাবর ও ঢাকা উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অপরাধী চক্র সক্রিয়। বিশেষ করে ‘কবজিকাটা আনোয়ার’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি এবং মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। মিজানুর রহমান নামে ওই এলাকার এক বাসিন্দা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের অভিযানে গ্রুপটির প্রধান আনোয়ার কারাগারে থাকলেও তার অনুসারীরা এখনো এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। ফলে সন্ধ্যার পর অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে চান না। বাসিন্দারা জানান, দিনের বেলাতেও ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনা বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সেকেন্ড ইন কমান্ড) মো. ফজলুল করিম বলেন, সকালে বিকাশের দোকানে সংঘটিত ছিনতাইয়ের ঘটনার সূত্র ধরেই আদাবর এলাকায় ছিনতাইকারীদের একটি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পালটা গুলি চালালে দুই ছিনতাইকারী আহত হয়। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে। আহত দুই পুলিশ সদস্য প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যদিকে গুলিবিদ্ধ দুই ছিনতাইকারীকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।


বাংলাদেশ এর আরও খবর