img

সানু মিয়া ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন: স্মরণষভায় বক্তাগণ

প্রকাশিত :  ১৬:৪৪, ১১ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:৩০, ১১ মে ২০২৬

সানু মিয়া ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন: স্মরণষভায় বক্তাগণ

পূর্ব লন্ডনের জনপ্রিয় যুব সংগঠক প্রয়াত কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট সানু মিয়া (১৯৬৬ – ২০১৬) স্মরণে গত ৮ মে ২০২৬ পূর্ব লন্ডনের মাইক্রোবিজনেস সেন্টারে এক আবেগঘন স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবার-পরিজন, বন্ধু, সহযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ একত্রিত হয়ে তাঁর জীবন ও কর্মের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। বক্তারা তাঁকে কমিউনিটির জন্য নিরলসভাবে কাজ করা একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ হিসেবে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আবদুল মালিক খোকন এবং সঞ্চালনা করেন স্বাধীন খসরু । অনুষ্ঠানের শুরুতে যৌথ আয়োজক ও সানু মিয়াকে নিয়ে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মালিক খোকন তাঁর বক্তব্যে সানু মিয়ার দীর্ঘদিনের কমিউনিটি সেবা, অসাম্প্রদায়িক আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অবদানের কথা তুলে ধরেন।

সানু মিয়ার শৈশবের বন্ধু ও শাপলা ইয়ুথ ফোর্স এর সদস্য আলী, জয়নাল উদ্দিন, তুরণ মিয়া, হারিস আলী ও জামাল তাঁদের স্মৃতিচারণায় সানু মিয়াকে একজন প্রাণবন্ত, নেতৃত্বগুণসম্পন্ন ও মানুষের পাশে থাকা ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও স্মৃতিচারণ করেন সানু মিয়ার বোন জানা, সাবেক টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলর নূরউদ্দিন আহমদ, কবি শামীম আজাদ, লেখক ময়নুর রহমান বাবুল, রাজনীতিবিদ খসরুজ্জামান, সম্প্রচার ব্যক্তিত্ব রবিন হায়দার খান, অ্যাক্টিভিস্ট জামাল আহমেদ খান, ইয়াসমিন, সালেহা, সেচ্ছাসেবক লীগের চেয়ারম্যান সাদ আহমেদ সাদ , যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এনামুল ইসলাম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট রাজনউদ্দিন জালাল এবং বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হরমুজ আলী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সানু মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন পারভীন ও ছেলে তানিম। পারভীন কথা বলতে গিয়ে এক সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। বক্তারা বলেন, সানু মিয়া ছিলেন একজন অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষ, যিনি সারাজীবন কমিউনিটির কল্যাণে কাজ করে গেছেন এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন। তিনি ছিলেন শাপলা ইয়ুথ ফোর্স এর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর নেতৃত্বে শাপলা ইয়ুথ ফোর্স  ফুটবল দল বাংলাদেশে গিয়ে সেনাবাহিনী, বিডিআর, বিমানবাহিনীসহ বিভিন্ন জাতীয় দলের বিরুদ্ধে খেলেছিল। তিনি যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং একজন সুপরিচিত কর্মী হিসেবে সম্মান অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনি ছিলেন লেবার পার্টির সক্রিয় কর্মী, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেচ্ছাসেবক লীগের সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ছিলেন একজন সাংস্কৃতিক সংগঠক।

সানু মিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন আনসার আহমদ উল্লাহ। তিনি সানু মিয়ার মা, হামিদা বেগমের হাতে স্মারকগ্রন্থের একটি কপি তুলে দেন এবং পরে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যেও তা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তি বক্তব্যে স্বাধীন খসরু স্মারকগ্রন্থ প্রকাশে সহায়তা প্রদানকারীদের ধন্যবাদ জানান। বিশেষভাবে তিনি জুয়েল রাজকে পুরো গ্রন্থটি টাইপ করার জন্য, হামিদ মোহাম্মদকে সম্পাদনার জন্য, মুসলেহ উদ্দিন আহমেদকে প্রকাশনার জন্যে এবং আরিফকে ডিজাইনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষদিকে সানু মিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের সময় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।


 

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে হামলায় আহত রাজমিস্ত্রির মৃত্যু, গ্রেপ্তার ১

প্রকাশিত :  ১৪:৩৫, ২৬ জুন ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় চায়ের দোকানে হামলার শিকার হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত মো. সোহেল মিয়া (৪০) উপজেলার ২ নম্বর ভুনবীর ইউনিয়নের গোপালপুর (আলিশারকুল) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মরহুম ফুল মিয়ার ছেলে এবং পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সিন্দুরখান–সুন্দরগঞ্জ সড়কের পাশে নিজের চায়ের দোকানে অবস্থান করছিলেন সোহেল মিয়া। এ সময় পূর্ববিরোধের জেরে একই গ্রামের ইসমাইল মিয়া (৩২), মৃত ফজর আলীর ছেলে, তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ। হামলার একপর্যায়ে একটি কাঁচের পানির গ্লাস দিয়ে সোহেলের মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তার মাথায় পাঁচটি সেলাই দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। পরে বাড়িতে গিয়ে তিনি বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। দ্বিতীয়বার হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, হাসপাতালে দ্বিতীয়বার আনার পর চিকিৎসকেরা চিকিৎসা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় সোহেল মিয়া মারা যান। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে থানায় নিয়ে আসে।

ঘটনার পরপরই ওসি (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে এসআই মামুনসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ইসমাইল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হামলার কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।


কমিউনিটি এর আরও খবর