img

মিস ইউনিভার্স থেকে সরে দাঁড়িয়েছে ফ্রান্স

প্রকাশিত :  ০৮:৪৯, ৩১ মে ২০২৬

মিস ইউনিভার্স থেকে সরে দাঁড়িয়েছে ফ্রান্স

অনিয়মের অভিযোগে আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা মিস ইউনিভার্সের ২০২৬ সালের আসরে অংশ নেবে না ফ্রান্স। প্রতিযোগিতার ব্যবস্থাপনা ও সাম্প্রতিক কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিস ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ। ১৯৫২ সাল থেকে নিয়মিত অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় এবারই প্রথম এই প্রতিযোগিতা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে দেশটি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মিস ফ্রান্স জানায়, তাদের সাংগঠনিক মূল্যবোধ, নীতি ও পরিচয়ের সঙ্গে বর্তমান মিস ইউনিভার্সের দিকনির্দেশনা আর সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাই ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটির অভিযোগ, বিশেষ করে ২০২৫ সালের আসরে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অনিয়ম চোখে পড়েছে। এসব বিষয় নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তারা আপাতত প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে ভবিষ্যতের জন্য দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি ফ্রান্স। মিস ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এলে তারা পুনরায় মিস ইউনিভার্সে অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

মিস ফ্রান্সের সভাপতি ফ্রেদেরিক জিলবেয়ার বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফ্রান্সকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে মিস ইউনিভার্স একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তবে একই সঙ্গে নিজেদের স্বকীয়তা ও মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রাখাও জরুরি। সেই বিবেচনাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে মিস ইউনিভার্সের কার্যক্রম ও নীতিগত পরিবর্তনগুলো তারা পর্যবেক্ষণ করবেন।

ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্ত সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার বিশ্বে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নানা নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা মিস ইউনিভার্সের জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য ধাক্কা বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ।


img

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদকে নিয়ে মাহিয়া মাহির বিস্ফোরক অভিযোগ

প্রকাশিত :  ১৮:১৫, ১১ জুলাই ২০২৬

বহুল আলোচিত-সমালোচিত চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ও সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের পুরোনো সেই অডিও ফাঁসের ঘটনাটি নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ ভিডিওবার্তা প্রকাশ করে মাহি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বেশ কিছু বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন।

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই ডা. মুরাদ হাসানের দ্বারা ভুক্তভোগী বলে অভিযোগ মাহির।

এ চিত্রনায়িকা জানান, ডা. মুরাদ হাসান তাকে প্রতিনিয়ত বিরক্ত করতেন বলে তিনি প্রতিমন্ত্রীর নম্বর ব্লক করে রেখেছিলেন। ভাইরাল হওয়া অডিওতে ডা. মুরাদ নিজেই বলেছিলেন, ‘ও তো আমার ফোন ধরবে না।’ মাহি বলেন, তিনি সরাসরি ফোন ধরতেন না বলেই ডা. মুরাদ অন্য মানুষের ফোন ব্যবহার করে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন।

অডিওতে ডা. মুরাদ হাসান মাহিকে তুলে নেওয়ার জন্য র‍্যাব, পুলিশ, এনএসআই ও ডিজিএফআই পাঠানোর হুমকি দিয়েছিলেন।

মাহি প্রশ্ন তোলেন, যদি তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্কই থাকত, তবে কেন তাকে এভাবে ভয় দেখানো হতো? মূলত ডা. মুরাদকে এড়িয়ে চলতেন বলেই তাকে দমাতে ক্ষমতার প্রভাব খাটানো হয়েছিল।

হুমকি পাওয়ার পর মাহি ইন্ডাস্ট্রির অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং সহকর্মীদের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। অনেকেই বিষয়টি জানতেন। কিন্তু ডা. মুরাদ মন্ত্রী হওয়ায় সবাই \"আমরা কী করব?\" বলে এড়িয়ে যান।

এমনকি কিছু সহকর্মী রাতে ফোন করে মাহিকে সতর্ক করতেন যেন রাত ১১টার পর তিনি ফোন না ধরেন, কারণ ওই সময়ে ডা. মুরাদ তাদের সামনেই থাকতেন।

মাহি বলেন, তিনি যদি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছাতে পারতেন, তবে অবশ্যই বিষয়টি তাকে জানাতেন এবং বিশ্বাস করেন যে তিনি এর বিচার করতেন।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি তাকে একাই ঠান্ডা মাথায় ও ভদ্রভাবে সামলাতে হয়েছিল।

অডিওতে ডা. মুরাদের গালিগালাজের বিপরীতে মাহির হেসে কথা বলা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। এর জবাবে মাহি বলেন, \"আমি যদি তখন গালিগালাজ করতাম আর পরে আমার বড় কোনো ক্ষতি হয়ে যেত, সেই দায়িত্ব কে নিত?\"

সবশেষে মাহি দাবি করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডা. মুরাদ শুধু তাকেই নয়, চলচ্চিত্র অঙ্গনের আরও অনেক নায়িকা, কণ্ঠশিল্পী এবং সংবাদ উপস্থাপিকাকে একইভাবে উত্যক্ত ও হেনস্তা করেছেন। ক্ষমতার ভয়ে তখন কেউ মুখ খুলতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই—নিউজ প্রেজেন্টার, সিঙ্গারসহ অসংখ্য নারী তার (ডা. মুরাদ হাসান) বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন। তাই বিষয়টা অনেকেই বুঝবেন না।’