img

কেন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিলিট করতে চান নাজিফা তুষি?

প্রকাশিত :  ০৯:২৩, ৩১ মে ২০২৬

কেন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিলিট করতে চান নাজিফা তুষি?

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাজিফা তুষি বলেছেন, মানুষ একজন নারীকে নির্দিষ্ট একটা ফ্রেমে দেখতে চায়। অথচ আমার যখন সাজতে ইচ্ছা করবে, আমি সাজব। সেটি একান্তই আমার নিজের ব্যক্তিগত মত বা ইচ্ছা হওয়া উচিত। কিন্তু অনেক সময় মনে হয়, সবাই একজন নারীকে একই ছকে দেখতে চায়। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে এমন কথাই বলেছেন অভিনেত্রী। 

তিনি বলেন, এ বিষয়গুলো নিয়ে মেয়েদের আরও বেশি কথা বলা উচিত। নিজের মতো থাকার আত্মবিশ্বাসটা গুরুত্বপূর্ণ। একটা ছেলেকে তো এত চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয় না।

ঈদ উদযাপন, ব্যক্তিজীবন, ক্যারিয়ার এবং সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব নিয়ে নাজিফা তুষি বলেন, সত্যি কথা বলতে— আমি ফেসবুকটা ডিলিট করে দিতে চাই। কারণ এই কাজ করতে গিয়ে অনেক কিছুই আমার ভালো লাগে না।

সামাজিক মাধ্যমে মানুষ যেভাবে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেন, কোনো ছবি, লুক কিংবা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও সমালোচনা করেন— এসব তিনি কীভাবে গ্রহণ করেন। এমন প্রশ্নের উত্তরে নাজিফা তুষি বলেন, সমাজে নায়িকাদের নিয়ে একটি নির্দিষ্ট ধারণা তৈরি হয়ে গেছে, যা তার কাছে অস্বস্তিকর বলে মনে হয়।

অভিনেত্রী বলেন, আমি অভিনয় করি, মানুষ আমাকে অভিনেত্রী বা নায়িকা বলে। কিন্তু নায়িকাদের যে একটা নির্দিষ্টভাবে দেখতে হবে, সবসময় তৈরি হয়ে থাকতে হবে কেন, পুতুলের মতো থাকতে হবে কেন?— এ বিষয়গুলো আমার ভালো লাগে না। এগুলো অনেক সময় বোঝা মনে হয়। 

তিনি বলেন, নিজের ইচ্ছায় সাজতে তার আপত্তি নেই। তবে সমাজের প্রত্যাশা পূরণের জন্য সবসময় নির্দিষ্ট ছাঁচে নিজেকে উপস্থাপন করার চাপ তিনি সমর্থন করেন না।

অভিনেত্রীর মতে, সময় এসেছে বাহ্যিক সাজসজ্জার গণ্ডি পেরিয়ে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় ও আত্মবিশ্বাসকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার।

এ সময় সমাজে নারী ও পুরুষের প্রতি ভিন্ন ধরনের প্রত্যাশার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তুষি বলেন, নারীদের চেহারা, পোশাক ও উপস্থাপন নিয়ে যে চাপ তৈরি করা হয়, পুরুষদের ক্ষেত্রে তা অনেক কম।

তিনি বলেন, ‘বোল্ডনেস শুধু মেকআপে না। বোল্ডনেস হচ্ছে নিজের ত্বকে, নিজের মতো করে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা। তুমি যেমন আছো, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। কী পরলে, কী পরলে না, স্যান্ডেল পরলে নাকি হিল পরলে— এসব আসলে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ না।


img

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক অভিনেত্রী আয়েশা খান

প্রকাশিত :  ১৩:৩৭, ২৩ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৪২, ২৩ জুলাই ২০২৬

ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে চলমান শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে মুম্বাইয়ের দাদার এলাকায় পুলিশের হাতে আটক হন অভিনেত্রী আয়েশা খান। পরে তাকে ওরলি থানায় নেওয়া হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম  এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজেই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘এখন আমার হাত সত্যিই কাঁপছে। আমি শুধু শান্তভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ আমাকে পুলিশের ভ্যানে তুলে আটক করা হয়েছে।’

আয়শার দাবি, তিনি বিক্ষোভ শুরু করেননি। এর আগেই তার ভাই এবং কয়েকজন পুরুষ বন্ধুকে পুলিশ আটক করে। সেসময়ে তিনি শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। 

আয়শার শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, আর এক যুবক বলছেন, তার গণিতের পরীক্ষা রয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই তাকে আটক করা হয়েছে বলে তারও অভিযোগ। 

তিনি বলেন, যদি পরীক্ষা দিতে না পারেন, তা হলে বড় সমস্যায় পড়বেন। আর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আয়েশা পুলিশকর্মীদের জিজ্ঞেস করছেন, তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে সেই প্রশ্নের কোনও উত্তর তিনি পাননি। চার জন মহিলা পুলিশকর্মী জোর করে আয়শাকে ভ্যানে তুলছেন, এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। 

সেই ভিডিওর সঙ্গে তিনি লেখেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাকে ভ্যানে তুলতে চার জন মহিলা পুলিশকর্মী এসেছিলেন। কিন্তু আমি আবার একই প্রশ্ন করছি, কেন? আমি কি কোনও হইচই করেছি? আমি কি কোনও কথাবার্তা শুরু করেছিলাম? আমাকে কেন আটক করা হলো? শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকার জন্য? আমি তো পাঁচ জনের দলের মধ্যেও ছিলাম না।

আয়শা পুরো ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে যান। তাকে ওরলি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেই ভিডিওতে তিনি পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। আয়শা জানান, তিনি তার ভাই এবং কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে নিট পরীক্ষার্থীদের সমর্থনে দাদারে বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছাতেই পুলিশ জানায়, ওই জায়গায় বিক্ষোভ করা যাবে না। এরপর তার ভাই এবং অন্য পুরুষ বন্ধুদের পুলিশের ভ্যানে তুলে আটক করা হয়।

আয়শার দাবি, তিনি তখন শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাবছিলেন, কী করবেন এবং কীভাবে তার ভাইয়ের খোঁজ পাবেন। সেই সময়ে প্রায় ১৫ জন পুলিশকর্মী এসে তাদের ভ্যানে উঠতে বলেন। তার অভিযোগ, জোর করে তাদের ভ্যানে তুলে ওরলি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে ভিডিওতে আয়শা ওরলি থানার পুলিশকর্মীদের প্রশংসাও করেন। প্রত্যেকে খুবই ভাল ব্যবহার করেছেন বলে জানান। যদিও তাঁকে কেন আটক করা হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো তাঁর কাছে স্পষ্ট নয় বলেও দাবি করেন তিনি।