চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা দুর্ঘটনাকবলিত বিআরটিসি বাসে আগুন দিয়েছে।
আজ সোমবার (১ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের আমতল এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেপরোয়া গতিতে চলা একটি বিআরটিসি বাস প্রথমে সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে এবং পরে মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা বাবা ও ছেলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে দুর্ঘটনায় জড়িত বিআরটিসি বাসে আগুন ধরিয়ে দেন তারা। এতে সড়কে যানচলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। পরে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।
ফটিকছড়ি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসচালককে আটক করে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা বিআরটিসির বাসে আগুন দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশিত :
১৫:১৮, ০১ জুন ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১৬:১৫, ০১ জুন ২০২৬
মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলার চার্জ গঠনের শুনানিতে নতুন মোড় এসেছে। আদালতে তোলার সময় আসামি সোহেল রানা নিজের স্ত্রীকে নির্দোষ দাবি করে ‘ডলার’ নামে এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে মূল অপরাধী হিসেবে দাবি করেছেন।
তবে, এই ‘ডলার’ কে- তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, ফলে মামলায় নতুন রহস্য তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) চার্জ গঠনের শুনানির জন্য কারাগার থেকে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়। সকাল থেকেই তাদের ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর বিচারকের এজলাসে তাদের হাজির করা হয়।
আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় সোহেল রানা সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তিনি একা নন, বরং ঘটনার পেছনে ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তির ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কোনোভাবেই জড়িত নন এবং তাকে ভুলভাবে আসামি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রামিসাকে ধর্ষণ করেছে ডলার, হত্যাও করেছে ডলার। তিনি শুধু লাশ কেটে গুম করার চেষ্টা করেছেন।
সোহেল রানা বলেন, ‘আমি ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কাটছি। ধর্ষণ করেছে ডলার নামের একজন। আমি পাপ করছি, আমাকে সেই পাপের শাস্তি দেন।’ তিনি আরও দাবি করেন, রামিসাকে এনে দিতে পারলে ডলার তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
পরে কারাগারে নেওয়ার সময় প্রিজন ভ্যানেও সাংবাদিকদের একই কথা বলেন সোহেল রানা। তিনি বলেন, ‘মিরপুর-১১ নম্বরে ডলারের বাড়ি। ধর্ষণও ডলার করছে, মারছেও ডলার। ওরে ধরেন, সব পাবেন।’ তিনি আরও দাবি করেন, ডিএনএ পরীক্ষা সঠিকভাবে না করে অটোমেটিকভাবে লেখা হয়েছে।
মামলায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘ডলার’ নামটি। তবে, তদন্ত সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফলে সোহেল রানার উত্থাপিত ‘ডলার’ পরিচয় এখনো রহস্যই রয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে যাচাই করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
‘ডলার’ সম্পর্কিত বক্তব্যকে ‘ম্যাটার অব ট্রায়াল’ হিসেবে উল্লেখ করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) আজিজুর রহমান দুলু।
তিনি বলেন, আসামি যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন, সেগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ার (ম্যাটার অব ট্রায়াল) বিষয়।
তার ভাষায়, ম্যাটার অব ট্রায়াল নিয়ে কোনো মামলার ডিসচার্জ হয় না। পুলিশ রিপোর্টে যেটা আমরা পাইনি, সে বিষয়ে প্রসিকিউশনের কিছু বলার নেই। আর ডিফেন্স থেকে যা বলা হয়, সেগুলো ম্যাটার অব এভিডেন্স, যা প্রমাণের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
তিনি আরও বলেন, মামলার নথিপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন এবং আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করছে। আমরা সম্পূর্ণ আশাবাদী যে এই মামলায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে।
স্পেশাল পিপি জানান, আসামির বক্তব্য বিচার চলার সময়ের বিষয়, যা সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।