img

ঈদে সক্রিয় ৬ ধরনের অপরাধী

প্রকাশিত :  ০৬:৫৯, ২৫ মে ২০২৬

ঈদে সক্রিয় ৬ ধরনের অপরাধী

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সারা দেশে ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি, অজ্ঞান ও মলম চক্রের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাশাপাশি জাল টাকার বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদর দপ্তর বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, ঈদকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে ওঠা ছয় ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ সুপারদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে ডাকাতি, পশুবাহী গাড়ি ছিনতাই, বাসাবাড়িতে চুরি ও গণপরিবহনে অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য ঠেকাতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা।

পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও মাঠ পর্যায়ে তৎপর থাকতে বলা হয়েছে।

রাজধানীতে প্রায় ১৬ হাজার পুলিশ সদস্য অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি ৬০টি টহলদল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্পর্শকাতর এলাকায় দায়িত্বে থাকবে। পশুর হাট ও নগদ অর্থ লেনদেনকেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে থাকবে বিশেষ নজরদারি।

বসানো হবে ওয়াচ টাওয়ার। নগদ অর্থ পরিবহনে থাকবে মানি এসকর্ট টিমও।

ডিএমপি সূত্র জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাট, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন ও শপিং মল এলাকায় পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের সদস্যও মোতায়েন থাকবেন। সিসিটিভি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনায় ঈদকে কেন্দ্র করে অপরাধীচক্রের তৎপরতা স্পষ্ট হয়েছে।

গত বুধবার রাতে সিলেটের বিশ্বনাথ থেকে তিনটি কোরবানির গরু নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেওয়া একটি পিকআপ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়। পরে রাজধানীর বংশাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে গরু তিনটি উদ্ধার করে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আগা সাদেক রোডের একটি মাংসের দোকানে অভিযান চালিয়ে গরুগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া গরুর আনুমানিক মূল্য আট লাখ ৬০ হাজার টাকা।


বাংলাদেশ এর আরও খবর

ট্রাক উল্টে নিহত ১৫

img

‘আমার চাচা, চাচাতো ভাই-বন্ধুরা সবাই মারা গেছে’

প্রকাশিত :  ০৭:৪৫, ২৫ মে ২০২৬

ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কের সরাতৈল এলাকায় রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ঝড়ে গেলে ১৫ প্রাণ। নিমেষেই শেষ হয়ে গেলে তাদের পরিবারের সঙ্গে ঈদ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ।

আজ সোমবার (২৫ মে) ভোর ৪টার দিকে মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের ১৫ জনের মধ্যে ৬ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- নওগা জেলার মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্র বাড়ি এলাকার সাকিম মিয়ার ছেলে সাগর মিয়া, একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম, রাজশাহীর তানুর উপজেলার বাতানপুর এলাকার আলতাফ হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন, চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের নজরুল, মামুন, নওগাঁর নেয়ামতপুর মালঞ্চী এলাকার সাইদুলের ছেলে সারিকুল।

পুলিশ ও স্থানীয়রা, ভোর ৪টার দিকে রডসহ যাত্রীবোঝাই করে একটি ট্রাক উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায় ট্রাকটি। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ১৫ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়েছে।

ট্রাক থেকে বেঁচে ফেরা নওগা জেলার মান্দা উপজেলার রাব্বানি বলেন, চট্টগ্রামের অলংকার থেকে সন্ধ্যার দিকে রওনা হই। ট্রাকের মধ্যে কেউ জেগে ছিল, কেউ ঘুমিয়ে ছিল। আমি নিজেও ঘুমিয়ে ছিলাম। ভোরে যখন দুর্ঘটনা হয়, আমি ছিটকে পড়ে যাই। আমার চাচা, চাচাতো ভাই ও বন্ধুরা সবাই মারা গেছে। আমি হকারের কাজ করে বাড়ি ফিরছিলাম।

স্থানীয় বুলবুল সরকার বলেন, ভোরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। শব্দ শোনার পর সবাই ঘটনাস্থলে আসি। এমন দুর্ঘটনা কখনো দেখিনি। এক সঙ্গে ১৫ জন নিহত হয়েছে।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গােপালপুর সার্কেল) ফৌজিয়া হাবিব খান বলেন, আজ ভোরে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন।তারা সবাই উত্তরবঙ্গগামী যাত্রী ছিলেন। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি যে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়।মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।

বাংলাদেশ এর আরও খবর