img

বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের বৈধতা সংকট থাকলেও ভারতে নেই: নেতানিয়াহু

প্রকাশিত :  ১০:১১, ২৯ মে ২০২৬

বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের বৈধতা সংকট থাকলেও ভারতে নেই: নেতানিয়াহু

ইসরায়েল বিশ্বের অধিকাংশ দেশে তীব্র বৈধতার সংকটে ভুগলেও ভারতে তাদের কোনো সংকট নেই বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) অধিকৃত পশ্চিম তীরে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে তিনি ভারতের মতো একটি বিশাল শক্তির সঙ্গে ইসরায়েলের চমৎকার এবং অনন্য সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।

সম্মেলনে নেতানিয়াহু দাবি করেন যে ভারতে ইসরায়েলের প্রতি এক প্রকার অবিশ্বাস্য ও উন্মাদনাপূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বিশ্বের অনেক জায়গায় আমাদের বৈধতা নিয়ে নানা সংকট ও সমস্যা তৈরি হলেও ভারতে তা মোটেও নেই। সেখানে ইসরায়েলের প্রতি মানুষের ভালোবাসা এবং সমর্থন সত্যিই দেখার মতো।’ একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বর্তমানে ভারতেই ইসরায়েলের সবচেয়ে বেশি সমর্থক বা অনুসারী রয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী অবশ্য এর আগেও ভারতে নিজের এবং তার দেশের ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়ে একাধিকবার এমন মন্তব্য করেছেন। তিনি তার স্ত্রী সারাকে নিয়ে ২০১৮ সালে নতুন দিল্লিতে করা শেষ রাষ্ট্রীয় সফরকে স্মরণ করে সেটিকে একটি ‘ভালোবাসার উৎসব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের ‘৬০ মিনিটস’ নামক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেছিলেন যে ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের মনে ইসরায়েলের জন্য এক বিশাল ও গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তাদের অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছিলেন।

নেতানিয়াহুর ভারতের প্রতি এই বিশেষ ভালোবাসা এবং প্রশংসামূলক বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন আন্তর্জাতিক মহলে, বিশেষ করে আমেরিকার জনগণের মধ্যে তার এবং ইসরায়েলের জনপ্রিয়তা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। 

গত এপ্রিলে প্রকাশিত পিউ রিসার্চ সেন্টারের সর্বশেষ সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ৬০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক এখন ইসরায়েলকে নেতিবাচক বা অপছন্দের চোখে দেখছেন, যা গত বছর ছিল ৫৩ শতাংশ। এ ছাড়া বিশ্ব রাজনীতি বা বৈশ্বিক বিষয়ে নেতানিয়াহু সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন কি না, তা নিয়ে ৫৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের এখন কোনো আস্থা নেই, যা গত বছর ছিল ৫২ শতাংশ।

আমেরিকায় নিজের এই ভাবমূর্তি ও জনপ্রিয়তা সংকটের জন্য নেতানিয়াহু সরাসরি পাকিস্তানকে তীব্রভাবে দায়ী করেছেন। ওই একই সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন যে পাকিস্তান মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম ‘বট ফার্ম’ বা ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে মার্কিন জনমতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইসরায়েল-বিরোধী মনোভাব তৈরি করছে। 

নেতানিয়াহুর দাবি অনুযায়ী, যারা আমেরিকা ও ইসরায়েলের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধনকে দুর্বল করতে চায়, তারা ভুয়ো প্রোফাইল থেকে আমেরিকান সেজে পোস্ট করে যে তারা আগে ইসরায়েলকে সমর্থন করলেও এখন আর সহ্য করতে পারছে না। অথচ খোঁজ নিলে দেখা যায়, সেই পোস্টটি পাকিস্তানের কোনো একটি অন্ধকার বেসমেন্টে বসে করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

img

পুশইন ও চামড়া পাচার ঠেকাতে সীমান্তে বাড়তি নজরদারিতে বিজিবি

প্রকাশিত :  ০৮:২৫, ২৯ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে যশোর ও খুলনার সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান, পুশইন এবং কোরবানির পশুর চামড়া পাচার ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এ ছাড়া ঈদের আগে ও পরে সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে নজরদারি বৃদ্ধি এবং টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (২৮ মে) ইত্তেফাক ডিজিটালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান।

তিনি জানান, ঈদুল আজহায় বিপুল পরিমাণ পশু কোরবানি হওয়ায় প্রতিবছরের মতো এবারও চামড়া পাচারের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনোভাবেই পশুর চামড়া ভারতে পাচার না হতে পারে, সেজন্য বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে রাতের টহল আরও বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাইকিং করে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে।

বিজিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, পুশইন, চামড়া পাচার, মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। সীমান্তজুড়ে টহল কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।

ঈদকে কেন্দ্র করে যশোরের বিভিন্ন সীমান্ত পথকে চামড়া পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে শার্শা উপজেলার ১০২ কিলোমিটার সীমান্তের কাশিপুর, শালকোনা, শিকারপুর, ধান্যখোলা, রঘুনাথপুর, বেনাপোলের পুটখালি, দৌলতপুর, সাদিপুর, ঘিবা, গোগা, রুদ্রপুর, অগ্রভুলোট, পাঁচভুলোট ও দাদখালি সীমান্ত এলাকায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

 


বাংলাদেশ এর আরও খবর