img

সমস্যা বয়স নয়, দৃষ্টিভঙ্গি, বললেন তাপসী পান্নু

প্রকাশিত :  ০৯:৪২, ০৭ জুন ২০২৬

সমস্যা বয়স নয়, দৃষ্টিভঙ্গি, বললেন তাপসী পান্নু

অভিনেত্রী তাপসী পান্নু বলিউডে নারী ও পুরুষ তারকাদের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, ইন্ডাস্ট্রিতে এখনও এমন ধারণা প্রচলিত আছে যে ৩০ বছরের বেশি বয়সী অভিনেত্রীদের রোমান্টিক কিংবা কমেডি ঘরানার সিনেমায় কাস্ট করার ক্ষেত্রে অনাগ্রহ দেখা যায়।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনযায়ী, এক সাক্ষাৎকারে তাপসী বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিতে এখনো এমন ধারণা কাজ করে যে ৩০ বছরের বেশি বয়সী অভিনেত্রীদের রোমান্টিক, কমেডি ঘরানার ছবিতে নিতে চায় না।’

তিনি এই দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলেন, ‘যদি বয়স সত্যিই একটি মানদণ্ড হয়, তাহলে সেটা নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে হওয়া উচিত।’

এ প্রসঙ্গে তিনি জনপ্রিয় পুরুষ তারকাদের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের উদাহরণ টানেন। বিশেষভাবে তিনি শাহরুখ খানের নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘বয়স বাড়লেও তিনি এখনো রোমান্টিক ঘরানার সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন এবং দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য।’

তাপসীর মতে, ‘সমস্যা বয়স নয়, সমস্যা দৃষ্টিভঙ্গি।’

তিনি আরও বলেন, ‘৩০ বছরের পর অনেক অভিনেত্রীকে রোমান্টিক লিড চরিত্রে কম দেখা যায়, অথচ তাদের দক্ষতা বা জনপ্রিয়তা কমে না।’

তার মতে, এই ধরনের মানসিকতা পরিবর্তন হওয়া জরুরি, কারণ আধুনিক সিনেমায় চরিত্র ও গল্পই হওয়া উচিত মূল বিষয়, বয়স নয়।

তাপসী পান্নু ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০১০ দশকের শুরু থেকে বলিউডে কাজ করছেন এবং ধীরে ধীরে শক্তিশালী অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘পিংক’, ‘বদলা’, ‘থাপ্পড়’, ‘মিশন মঙ্গল’, ‘মারজাবান’, ‘হাসিন দিলরুবা’ এবং ‘দুনকি’।

বর্তমানে তিনি বলিউডের অন্যতম ব্যস্ত অভিনেত্রীদের একজন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি অনুবাব সিনহার পরিচালনায় ‘অস্সি’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, যা ২০২৬ সালে মুক্তি পেয়েছে এবং তাকে কেন্দ্র করে সমালোচকদের প্রশংসাও পেয়েছে।

তার আসন্ন প্রজেক্টের মধ্যে রয়েছে কানিকা ধিল্লনের সঙ্গে ‘গান্ধারী’ নামের একটি নেটফ্লিক্স থ্রিলার, যেখানে তিনি একটি অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে অভিনয় করবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া আরও কয়েকটি প্রজেক্ট নিয়েও তিনি কাজ করছেন, যা ২০২৬–২০২৭ সালে পর্যায়ক্রমে মুক্তি পাওয়ার কথা।


 

img

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদকে নিয়ে মাহিয়া মাহির বিস্ফোরক অভিযোগ

প্রকাশিত :  ১৮:১৫, ১১ জুলাই ২০২৬

বহুল আলোচিত-সমালোচিত চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ও সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের পুরোনো সেই অডিও ফাঁসের ঘটনাটি নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ ভিডিওবার্তা প্রকাশ করে মাহি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বেশ কিছু বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন।

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই ডা. মুরাদ হাসানের দ্বারা ভুক্তভোগী বলে অভিযোগ মাহির।

এ চিত্রনায়িকা জানান, ডা. মুরাদ হাসান তাকে প্রতিনিয়ত বিরক্ত করতেন বলে তিনি প্রতিমন্ত্রীর নম্বর ব্লক করে রেখেছিলেন। ভাইরাল হওয়া অডিওতে ডা. মুরাদ নিজেই বলেছিলেন, ‘ও তো আমার ফোন ধরবে না।’ মাহি বলেন, তিনি সরাসরি ফোন ধরতেন না বলেই ডা. মুরাদ অন্য মানুষের ফোন ব্যবহার করে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন।

অডিওতে ডা. মুরাদ হাসান মাহিকে তুলে নেওয়ার জন্য র‍্যাব, পুলিশ, এনএসআই ও ডিজিএফআই পাঠানোর হুমকি দিয়েছিলেন।

মাহি প্রশ্ন তোলেন, যদি তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্কই থাকত, তবে কেন তাকে এভাবে ভয় দেখানো হতো? মূলত ডা. মুরাদকে এড়িয়ে চলতেন বলেই তাকে দমাতে ক্ষমতার প্রভাব খাটানো হয়েছিল।

হুমকি পাওয়ার পর মাহি ইন্ডাস্ট্রির অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং সহকর্মীদের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। অনেকেই বিষয়টি জানতেন। কিন্তু ডা. মুরাদ মন্ত্রী হওয়ায় সবাই \"আমরা কী করব?\" বলে এড়িয়ে যান।

এমনকি কিছু সহকর্মী রাতে ফোন করে মাহিকে সতর্ক করতেন যেন রাত ১১টার পর তিনি ফোন না ধরেন, কারণ ওই সময়ে ডা. মুরাদ তাদের সামনেই থাকতেন।

মাহি বলেন, তিনি যদি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছাতে পারতেন, তবে অবশ্যই বিষয়টি তাকে জানাতেন এবং বিশ্বাস করেন যে তিনি এর বিচার করতেন।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি তাকে একাই ঠান্ডা মাথায় ও ভদ্রভাবে সামলাতে হয়েছিল।

অডিওতে ডা. মুরাদের গালিগালাজের বিপরীতে মাহির হেসে কথা বলা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। এর জবাবে মাহি বলেন, \"আমি যদি তখন গালিগালাজ করতাম আর পরে আমার বড় কোনো ক্ষতি হয়ে যেত, সেই দায়িত্ব কে নিত?\"

সবশেষে মাহি দাবি করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডা. মুরাদ শুধু তাকেই নয়, চলচ্চিত্র অঙ্গনের আরও অনেক নায়িকা, কণ্ঠশিল্পী এবং সংবাদ উপস্থাপিকাকে একইভাবে উত্যক্ত ও হেনস্তা করেছেন। ক্ষমতার ভয়ে তখন কেউ মুখ খুলতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই—নিউজ প্রেজেন্টার, সিঙ্গারসহ অসংখ্য নারী তার (ডা. মুরাদ হাসান) বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন। তাই বিষয়টা অনেকেই বুঝবেন না।’