img

৩ কোটি টাকার বেশি আয়ে ৩৫ শতাংশ করের প্রস্তাব

প্রকাশিত :  ০৬:১৯, ১১ জুন ২০২৬

৩ কোটি টাকার বেশি আয়ে ৩৫ শতাংশ করের প্রস্তাব

দেশে ধনী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে আয়বৈষম্য কমাতে উচ্চ আয়ের করদাতাদের ওপর করের হার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, বছরে ৩ কোটি টাকার বেশি আয় হলে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত আয়করের হার বর্তমান ৩০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৩৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হতে পারে।

এর ফলে উচ্চ আয়ের করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা পড়বে। আগামী ২০২৮-২৯ করবর্ষ থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি তথা পাঁচ বছরের করহার কাঠামো ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। এই রূপরেখায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই বছর এবং পরবর্তী বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের তিন বছরের সম্ভাব্য কর ব্যবস্থার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০২৮-২৯ করবর্ষ থেকে ২০৩০-৩১ করবর্ষ পর্যন্ত ৩ কোটি টাকার বেশি আয়ের ওপর অতিরিক্ত ৫ শতাংশ কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই বর্ধিত করহার সাধারণ বা মধ্যবিত্ত করদাতাদের স্পর্শ করবে না; এটি কেবল সীমিতসংখ্যক উচ্চবিত্ত ও অতি-ধনী করদাতাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৮-২৯ করবর্ষে এই করহার কার্যকর হওয়ার অর্থ হলো, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে অর্জিত আয়ের ওপর ভিত্তি করে এই কর পরিশোধ করতে হবে।

প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের করদাতাদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

এবারের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বর্তমানের চেয়ে ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এরপর পরবর্তী ৩ লাখ টাকার আয়ের ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার ওপর ২০ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লাখ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ এবং পরবর্তী ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকার ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হবে।

এ হিসেবে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ থাকবে। তবে ৩ কোটি টাকার বেশি আয়ের অংশের ওপর ৩৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।

অবশ্য ২০৩০-৩১ করবর্ষে সর্বোচ্চ করহার অপরিবর্তিত থাকলেও নিম্ন আয়ের স্তরগুলোতে কিছু পরিবর্তন আনা হবে।

ওই বছর করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

এদিকে, চলতি অর্থবছরের আয়ের বিপরীতে আগামী ২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

বাংলাদেশে এক সময় ব্যক্তিশ্রেণির সর্বোচ্চ আয়কর হার ছিল ৩০ শতাংশ। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তা কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হলেও মেয়াদের শেষ দিকে আবার ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হয়।

অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরে আয়বৈষম্য কমাতে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর তুলনামূলক বেশি হারে কর আরোপের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। তবে কিছু করবিশেষজ্ঞের মতে, যারা নিয়মিত কর পরিশোধ করেন এবং কর-অনুগত, তাদের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়।

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

আগামীকালের পুঁজিবাজার: শুরুতে চাপ, শেষভাগে ফিরতে পারে কিছুটা স্থিতিশীলতা

প্রকাশিত :  ১৭:৫৭, ২৬ জুলাই ২০২৬

টানা কয়েক কার্যদিবসের বিক্রিচাপ, বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে আগামীকালও পুঁজিবাজারে সতর্ক পরিবেশে লেনদেন শুরু হতে পারে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, দিনের প্রথম ভাগে সূচকের ওপর বিক্রির চাপ থাকলেও শেষার্ধে নির্বাচিত কিছু মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারে ক্রয়াদেশ বাড়লে বাজারে সীমিত পরিসরে কারিগরি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা দেখা যেতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং দেশের নীতিগত অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্ক মনোভাব তৈরি করেছে। এর প্রভাবে লেনদেনের শুরুতে অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী লোকসান সীমিত রাখতে বিক্রিমুখী হতে পারেন। এতে সূচকের ওপর চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে টানা দরপতনের কারণে কয়েকটি বড় ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় পর্যায়ে নেমে এসেছে। এ সুযোগে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী নির্বাচিত শেয়ারে বিনিয়োগ বাড়াতে পারেন। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে দিনের শেষ ভাগে সূচকের পতনের গতি কমে এসে বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে।

খাতভিত্তিক লেনদেনেও ভিন্নধর্মী চিত্র দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সম্প্রতি ইতিবাচক আর্থিক ফল প্রকাশ করা কয়েকটি ব্যাংক এবং কিছু সাধারণ বীমা কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি–সংক্রান্ত চাপের কারণে টেক্সটাইল, সিমেন্ট ও ভারী প্রকৌশল খাতের শেয়ারগুলোর ওপর বিক্রির চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ড ও সিরামিক খাতেও সংশোধনের প্রবণতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, আগামীকাল মোট লেনদেনের পরিমাণও কিছুটা কম থাকতে পারে। কারণ, বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতির বিষয়ে আরও স্পষ্ট বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে নতুন করে বড় অঙ্কের বিনিয়োগে তারা আপাতত সংযত অবস্থান নিতে পারেন।

এ অবস্থায় বাজার বিশ্লেষকদের পরামর্শ, স্বল্পমেয়াদি অস্থিরতায় আতঙ্কিত হয়ে মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ার কম দামে বিক্রি না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা উচিত। একই সঙ্গে অতিরিক্ত মার্জিন ঋণ নিয়ে বিনিয়োগের ঝুঁকি এড়িয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখারও পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

তবে বাজারের গতিপথ শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে লেনদেন চলাকালে বিনিয়োগকারীদের আচরণ, বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং নতুন কোনো নীতিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য সামনে আসে কি না, তার ওপর। তাই আগামীকালের লেনদেনেও সতর্কতা ও বাছাই করে বিনিয়োগের কৌশলই বাজারের প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠতে পারে।

অর্থনীতি এর আরও খবর