img

তিন দশকের বেশি সময় ধরে উন্নয়নের অপেক্ষায় শ্রীমঙ্গলের দক্ষিণ উত্তরসূর তালতলা সড়ক

প্রকাশিত :  ১০:৩২, ১৮ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩৩, ১৮ জুলাই ২০২৬

তিন দশকের বেশি সময় ধরে উন্নয়নের অপেক্ষায় শ্রীমঙ্গলের দক্ষিণ উত্তরসূর তালতলা সড়ক

সংগ্রাম দত্ত: পর্যটন নগরী ও চায়ের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩ নম্বর শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ উত্তরসূর তালতলা গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ উন্নয়নের অপেক্ষায় রয়েছে। বহু জনপ্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করলেও সড়কটির স্থায়ী সংস্কার কিংবা পাকাকরণের কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি।

এই অঞ্চলের যোগাযোগ অবকাঠামোর অগ্রযাত্রা শুরু হয় ১৯৮৩ সালে। সে সময় তৎকালীন চেয়ারম্যান ও রাজনীতিবিদ–সাংবাদিক রাসেন্দ্র দত্ত চৌধুরীর নেতৃত্বে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার আইলকে চলাচল উপযোগী কাঁচা সড়কে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাঁর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে যোগাযোগব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে ওঠে এবং উন্নয়নের একটি নতুন ধারা সূচিত হয়।

পরবর্তী সময়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রয়াত আলম মেম্বারের দায়িত্বকালে দক্ষিণ উত্তরসূর তালতলা সড়কে কিছু দৃশ্যমান উন্নয়নকাজ বাস্তবায়িত হয়। এরপর সময়ের পরিক্রমায় একাধিক জনপ্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করলেও সড়কটির পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন আর বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি অবকাঠামোগত উন্নয়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রায় ১০ হাজার মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের অন্যতম মাধ্যম এই সড়ক। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। দ্বারিকা পাল মহিলা কলেজ থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ উত্তরসূর তালতলা অতিক্রম করে সড়কটি আশীদ্রোণ ইউনিয়নের হাজী রাশেদ মিয়া মেহেরজান উচ্চ বিদ্যালয়-সংলগ্ন মূল সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। শিক্ষা, যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোগপথ।

এই জনপদের প্রতিনিধিত্বকারী সাবেক চিফ হুইপ ও সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় জাতীয় সংসদে এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। তবে তাঁর দায়িত্বকালেও সড়কটির পুরো অংশের উন্নয়ন সম্পন্ন হয়নি। একসময় প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র এক কিলোমিটার অংশে কাজ বাস্তবায়িত হয়; অবশিষ্ট অংশ এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

বর্ষা মৌসুমে কাদা এবং শুকনো মৌসুমে ধুলাবালির কারণে সড়কটি ব্যবহার করতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, প্রবীণ, নারী ও রোগী পরিবহনে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।

এ পরিস্থিতিতে শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাজী মুজিবুর রহমানের প্রতি দক্ষিণ উত্তরসূর তালতলাবাসীর প্রত্যাশা, জনস্বার্থ বিবেচনায় সড়কটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দক্ষিণ উত্তরসূর তালতলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, তিন দশকেরও বেশি সময়ের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত টেকসইভাবে নির্মাণ করা হোক, যাতে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত হয় এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চারিত হয়।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

দিরাইয়ে চার ফার্মেসিকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা

প্রকাশিত :  ১১:২৬, ১৮ জুলাই ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার দিরাইয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় ওষুধ সংরক্ষণ না করার অভিযোগে চারটি ফার্মেসিকে মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের বিভিন্ন ওষুধের দোকানে এ অভিযান পরিচালনা করেন দিরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউল হাসান সৌরভ।

অভিযানে থানা রোডস্থ অনুকূল ফার্মেসিকে ৩০ হাজার টাকা, দিরাই ফার্মাকে ২০ হাজার টাকা, লতিফ ফার্মেসিকে ২০ হাজার টাকা এবং সেন মার্কেটের পিটি রায় মেডিকেল হলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়। এছাড়া ওষুধ সংরক্ষণের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অভিযানে ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক মিঠুন সাহা, দিরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিমসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।

দিরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউল হাসান সৌরভ বলেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি কিংবা সংরক্ষণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর