img

টাওয়ার হ্যামলেটসে ২০৩টি নতুন বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ, এক সপ্তাহে পাঁচটি প্লানিং এপ্লিকেশন

প্রকাশিত :  ১৯:১৯, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটসে ২০৩টি নতুন বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ, এক সপ্তাহে পাঁচটি প্লানিং এপ্লিকেশন

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মেয়রের অ্যাক্সেলারেটেড হাউজিং প্রোগ্রাম-এর আওতায় এক সপ্তাহে পাঁচটি নতুন পরিকল্পনা আবেদন (প্লানিং এপ্লিকেশন) জমা দেওয়া হয়েছে। এসব আবেদনের মাধ্যমে বরোতে মোট ২০৩টি নতুন বাড়ি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪৬টি সোশ্যাল রেন্টের বাড়ি, যা এই সপ্তাহে জমা দেওয়া মোট আবাসনের ৭২ শতাংশ।

নতুন পাঁচটি পরিকল্পনা আবেদন হলো:

- টেন্ট স্ট্রিট, বেথনাল গ্রিন: ৬০টি সোশ্যাল রেন্টের বাড়ি

- গিল স্ট্রিট, লাইমহাউস: ১১টি সোশ্যাল রেন্টের বাড়ি

- দ্য ওভাল, বেথনাল গ্রিন: ২৩টি মার্কেট হোম

- সাউদার্ন গ্রোভ, মাইল এন্ড: ৯০টি বাড়ি, যার মধ্যে ৫৬টি সোশ্যাল রেন্ট

- ব্যাক চার্চ লেন, হোয়াইটচ্যাপেল: ১৯টি সোশ্যাল রেন্টের বাড়ি

টেন্ট স্ট্রিট, গিল স্ট্রিট এবং ব্যাক চার্চ লেনের প্রস্তাবিত সব বাড়িই সোশ্যাল রেন্টের জন্য নির্ধারিত হবে।

মোট ৩০৭টি নতুন বাড়ির পরিকল্পনা

এই পাঁচটি আবেদনের আগে মেয়রের অ্যাক্সেলারেটেড হাউজিং প্রোগ্রামের আওতায় আরও তিনটি পরিকল্পনা আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে:

- টমলিনসন ক্লোজ: ৫৫টি বাড়ি, যার মধ্যে ৩৩টি সোশ্যাল রেন্ট

- বেথনাল গ্রিন প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার: ৪৪টি বাড়ি, যার মধ্যে ২৪টি সোশ্যাল রেন্ট

- স্ট্রাউটস প্লেস: ৫টি সোশ্যাল রেন্টের বাড়ি

এর ফলে এখন পর্যন্ত এই কর্মসূচির আওতায় আটটি পরিকল্পনা আবেদন জমা পড়েছে, যার মাধ্যমে মোট ৩০৭টি নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

৩,৪০০টি বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্য

মেয়রের অ্যাক্সেলারেটেড হাউজিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে টাওয়ার হ্যামলেটসে ৩,৪০০টি পর্যন্ত নতুন বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্য রয়েছে। এর অন্তত ৫১ শতাংশ হবে সাশ্রয়ী আবাসন।

কর্মসূচিটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো কাউন্সিলের মালিকানাধীন বর্তমানে কম ব্যবহার হওয়া জমি ও জায়গাগুলোকে কাজে লাগিয়ে বারার আবাসন সংকট মোকাবিলা করা। একই সঙ্গে প্রতিটি এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত, টেকসই ও সুপরিকল্পিত আবাসন তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে অতিরিক্ত মানুষ নিয়ে বসবাস করা বা অনুপযুক্ত আবাসনে থাকা স্থানীয় পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় বড় আকারের পারিবারিক বাড়ি তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিটি আবাসন প্রকল্পের পরিকল্পনা তৈরির আগে কাউন্সিলের কর্মকর্তা, ডিজাইন ও কারিগরি টিমের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় কমিউনিটি এনগেজমেন্টের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের অগ্রাধিকার, উদ্বেগ ও প্রত্যাশা সম্পর্কে মতামত নেওয়া হয়েছে। এসব মতামত প্রস্তাবিত উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরিতে বিবেচনা করা হয়েছে।

টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “এক সপ্তাহে পাঁচটি পরিকল্পনা আবেদন জমা দেওয়া টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দাদের জন্য সত্যিকার অর্থে সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার আমাদের অঙ্গীকারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই প্রস্তাবগুলোর মাধ্যমে ২০৩টি নতুন বাড়ি তৈরি হতে পারে, যার মধ্যে ১৪৬টি হবে সোশ্যাল রেন্টের বাড়ি। এর আগে জমা দেওয়া তিনটি আবেদনের সঙ্গে মিলিয়ে এখন আমরা আটটি সাইটে মোট ৩০৭টি নতুন বাড়ির পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়েছি।”

মেয়র বলেন, “আমরা জানি, আমাদের বারাতে আবাসনের চ্যালেঞ্জ কতটা বড়। বিশেষ করে অনেক পরিবার অতিরিক্ত মানুষ নিয়ে বা অনুপযুক্ত আবাসনে বসবাস করছে। আমরা উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছি, একই সঙ্গে বাসিন্দাদের মতামত শুনছি এবং আমাদের কমিউনিটির জন্য উচ্চমানের আবাসন উন্নয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।”

প্রথম ধাপের নয়টি সাইটের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু

এই পরিকল্পনা অগ্রগতির পাশাপাশি কাউন্সিল কর্মসূচির প্রথম ধাপের নয়টি সাইটের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রোকিউরমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

গত ১৯ আগস্ট সম্ভাব্য উন্নয়ন অংশীদারদের আগ্রহ প্রকাশের জন্য প্রি-সিলেকশন প্রশ্নপত্রের নথি প্রকাশ করা হয়েছে। এসব সাইটে প্রস্তাবিত আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য অংশীদারদের কাছ থেকে আগ্রহ আহ্বান করা হয়েছে।

প্রোকিউরমেন্ট সংক্রান্ত আরও তথ্য ও নথি টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের প্রোকনট্রাক্ট প্রোকিউরমেন্ট পোর্টাল-এ পাওয়া যাচ্ছে।

এখন জমা দেওয়া পাঁচটি পরিকল্পনা আবেদন পরবর্তী আইনানুগ প্লানিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে। এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা বিস্তারিত পরিকল্পনা সম্পর্কে মতামত দেওয়ার আরও সুযোগ পাবেন।

নতুন এই আবাসন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে টাওয়ার হ্যামলেটসে বিশেষ করে সোশ্যাল রেন্টের বাড়ির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং কাউন্সিলের মালিকানাধীন অব্যবহৃত বা কম ব্যবহৃত জায়গাগুলোকে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করবে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে\'র নেতৃবৃন্দের প্রতিবাদ

প্রকাশিত :  ১৯:১৫, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

\"সিলেটিরা শুদ্ধ বাংলা বলতে পারে না\' বলে হুমায়রা নুর এর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে\'র নেতৃবৃন্দ।

গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে\'র প্রেট্রন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. হাসনাত এম হোসেইন এমবিই, গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে\'র প্রেট্রন সিনিয়র সাংবাদিক কে এম আবু তাহের চৌধুরী, গ্রেটার সিলেট এর সাবেক চেয়ারপার্সন  বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী নুরুল ইসলাম মাহবুব ও সাবেক সেক্রেটারি ৭১এর বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আব্দুল কাইয়ুম কয়সর, গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে\'র কেন্দ্রীয় কনভেনর কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ মকিস মনসুর, কো কনভেনর আলহাজ্ব মসুদ আহমদ, সদস্য সচিব ড.মুজিবুর রহমান ও অর্থ সচিব এম আসরাফ মিয়া, সাউথ ইস্ট রিজিওনাল কনভেনর হারুনুর রশিদ, কো- কনভেনর জামাল হোসেন ও সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম  সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও রিজিওনাল নেতৃবৃন্দ এক যুক্ত বিবৃতিতে সিলেটি ভাষা ও সিলেটের মানুষকে নিয়ে একটি টিভি টকশোতে হুমায়রা নুর \'সিলেটিরা শুদ্ধ বাংলা বলতে পারে না\' বলে লন্ডন প্রবাসী সিলেটিদেরকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন এর  তীব্র  প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে অতিসত্বর  বক্তব্য প্রত্যাহার সহ সিলেটিবাসীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার আহবান জানিয়েছেন। 

সিলেটি ভাষা, সংস্কৃতি ও নাগরী লিপি সিলেটিদের গর্ব ও আত্মপরিচয়ের অংশ। বাংলাদেশের কোনো আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে বিদ্রূপ না করে এর ইতিহাস ও বৈচিত্র্যকে সম্মান করা উচিৎ বলে উল্লেখ করে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে\'র কেন্দ্রীয় কনভেনর ও ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান কমিউনিটি লিডার ও সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, ভাষা হচ্ছে মহান আল্লাহর দান। রব্বুল আলামীন আমাদেরকে ভাষা শিখিয়েছেন। পৃথিবীতে বিভিন্ন অসংখ্য ভাষা আছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আল-কোরআন স্ট্যান্ডার্ড আধুনিক আরবি ভাষায় নাযিল করেছেন। এছাড়া তাওরাত হিব্রু ভাষায়, ইঞ্জিল, যাবুর ও অন্যান্য আসমানি কিতাব বিভিন্ন ভাষায় নাযিল হয়েছে।

সিলেটি কোনো ভুল বাংলা নয়। এটি নিজস্ব ভাষাগত বৈশিষ্ট্য, শব্দভাণ্ডার, উচ্চারণ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যসমৃদ্ধ একটি ভাষা। উপমহাদেশের মধ্যে  সিলেটের আঞ্চলিক ভাষা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি প্রাচীনকাল থেকেই অনেক সমৃদ্ধ। সিলেটের ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা রয়েছে। বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের নিজস্ব কোন বর্ণমালা কারো নেই।  ইতিহাসে সিলেট অঞ্চলের অনেক গৌরব উজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। সিলেটি ভাষা কোনো আঞ্চলিক ভাষা, উপভাষা বা বিকৃত বাংলা নয়, সিলেটি ভাষা শত বছরের প্রাচীন \'সিলেটি নাগরি\' লিপি, নিজস্ব ব্যাকরণ ও স্বকীয় উচ্চারণরীতিতে সমৃদ্ধ একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভাষা। এটি আমাদের মায়ের ভাষা বলে তিনি অভিমত ব্যাক্ত করেছেন।

কমিউনিটি এর আরও খবর