img

হবিগঞ্জে ইয়াবা দিয়ে বাবা-মেয়েসহ ৩ জনকে ফাঁসানো সেই দুই পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

প্রকাশিত :  ০৭:৪৭, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:১১, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 হবিগঞ্জে ইয়াবা দিয়ে বাবা-মেয়েসহ ৩ জনকে ফাঁসানো সেই দুই পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় প্রতিবেশীর সঙ্গে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে বাবা-মেয়েসহ একই পরিবারের তিনজনকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ তাঁদের চুনারুঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করার আদেশ দেন।

উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বগাডুবী রেললাইনের মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যাহার হওয়া ওই দুই পুলিশ সদস্য হলেন– চুনারুঘাট থানার এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহুল আমিন। তারা বাবা-মেয়েসহ একটি পরিবারের তিন সদস্যকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেরাই ফেঁসে যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার, চুনারঘাট-মাধবপুর সার্কেল মোহাম্মদ রাফিউর রহমান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলার কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া, তাঁর মেয়ে জাসমিন আক্তার ও ছোট ভাই ইউনুস মিয়া প্রতিবেশীর সঙ্গে রাস্তা নিয়ে বিরোধের একটি মামলার হাজিরা দিতে হবিগঞ্জ আদালতে যাওয়ার উদ্দেশে ইজিবাইকে রওনা দেন। পথিমধ্যে বগাডুবী রেললাইনের মোড়ে পৌঁছালে এসআই মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাদের ইজিবাইকের গতিরোধ করে। এ সময় তাদের তল্লাশির কথা বলে ছায়েদ মিয়ার পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেন এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহুল আমিন। পরে তাদের আটক করে চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এক পর্যায়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে প্রায় সাত ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

ছায়েদ মিয়া ও তাঁর মেয়ে জাসমিন আক্তার বলেন, বগাডুবী রেললাইনের মোড়ে পৌঁছালে এসআই মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাদের গতিরোধ করে। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিও পুলিশের সঙ্গে ছিলেন। পরে তাদের তল্লাশি করে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দেখানোর চেষ্টা করা হয়। এক পর্যায়ে তাদের পুলিশের গাড়িতে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সাত্তার মোল্লা বলেন, ছায়েদ মিয়ার সঙ্গে তাঁর প্রতিবেশীর রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা-মোকদ্দমা চলছে। শুক্রবার এ মামলায় তারা হাজিরা দিতে হবিগঞ্জ যাচ্ছিলেন। পরে জানতে পারেন রাস্তায় তাদের পুলিশ ইয়াবাসহ আটক করেছে। আটক ব্যক্তিরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন বলে জানেন তিনি। ঘটনার কথা শুনে থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

অভিযোগ ও প্রত্যাহারের ব্যাপারে জানতে এসআই মাসুম আল মামুনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ না থাকায় ছায়েদ আলীসহ তাঁর পরিবারের লোকজনকে শুক্রবার বিকেলে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিষয়েও তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ব্যবস্থা নিয়েছেন।

সহকারী পুলিশ সুপার চুনারঘাট-মাধবপুর সার্কেল মোহাম্মদ রাফিউর রহমান বলেন, একটি নিরীহ পরিবারকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগে তাদের প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে কাপড়ের আলনার ড্রয়ারে প্রাণঘাতী পদ্ম গোখরা, আতঙ্কে বাসিন্দারা

প্রকাশিত :  ০৮:৩০, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি চা শ্রমিকের বসতঘরের কাপড়ের আলনার ড্রয়ার থেকে একটি প্রাণঘাতী বিষধর পদ্ম গোখরা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানের শ্রমিক কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুরেশ নায়েকের ঘরের কাপড়ের আলনায় থাকা একটি ড্রয়ারের ভেতর সাপটি দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। সাপ দেখে আতঙ্কিত হয়ে ঘরের সবাই দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান। পরে সুরেশ নায়েক বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা কাপড়ের আলনার ড্রয়ারের ভেতর সাপটির অবস্থান দেখতে পান। পরে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার করা সাপটি পদ্ম গোখরা। এটি বিষধর ও প্রাণঘাতী সাপ।

এর আগের দিন শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে একই উপজেলার ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানের শ্রমিক কলোনির স্থানীয় বাসিন্দা সুসেন মুন্ডার বসতঘর থেকেও একটি বিষধর সাপ উদ্ধার করা হয়।

পরপর দুই দিনে একই এলাকার বসতঘর থেকে বিষধর সাপ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। শুধু ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগান নয়, শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বিষধর সাপ ও বড় আকৃতির অজগর উদ্ধারের ঘটনাও ঘটছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিষধর সাপ ও বিশাল আকৃতির অজগরসহ মোট ১৭টি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। চলতি মাসেও সাপ উদ্ধারের ঘটনা কমেনি। প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিষধর সাপসহ বড় আকৃতির অজগর উদ্ধারের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, বসতঘর, কাপড় রাখার আলনা কিংবা অন্যান্য গৃহস্থালি সামগ্রীর ভেতর থেকে সাপ বেরিয়ে আসায় তাঁদের মধ্যে ভয় আরও বেড়েছে। বিশেষ করে চা-বাগানের শ্রমিক কলোনিগুলোতে ঘনবসতি ও আশপাশের ঝোপঝাড় থাকায় সাপ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোথাও কোনো পশুপাখি ধরা পড়লে কিংবা কোনো প্রাণীকে আহত বা অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেলে সেটিকে নিজেরা ধরার চেষ্টা না করে দ্রুত নিকটস্থ বন বিভাগকে জানাতে হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকেও খবর দিতে বলা হয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর