img

ছাত্রদল নেতা জিসানকে তুলে নেওয়ার পর লাশ মিলল সড়কে, শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন

প্রকাশিত :  ০৬:০৯, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছাত্রদল নেতা জিসানকে তুলে নেওয়ার পর লাশ মিলল সড়কে, শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ইসফাতুল ইসলাম জিসানকে (২৮) রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের প্রায় চার ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড় ১১টার দিকে এই অপহরণের ঘটনা ঘটে। নিহত জিসান উপজেলার কাকারা ইউনিয়ন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লোটনী এলাকার নাজেম উদ্দিনের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে কাকারা মাঝের স্টেশনের এক দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন জিসান। এ সময় হঠাৎ একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে এসে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর জিসানকে চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকার ‘কবির টাওয়ারে’ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে হত্যার পর মরদেহ মহাসড়কের পাশে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার ইসমাইল হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘জিসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

এদিকে জিসানকে হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানোর পাশাপাশি অপরাধীদের ধরতে আলটিমেটাম দিয়েছেন চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি রেজাউল করিম বাপ্পি। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘জিসান ছাত্রদলের একজন উদীয়মান ও সক্রিয় নেতা ছিলেন। তাকে অপহরণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি খুনিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা না হয়, তবে চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ ছাত্র সমাজকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।’


বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

কারাগারে নেওয়ার পথে ‘পিচ্চি রাজা’র পলায়ন, ৫ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

প্রকাশিত :  ০৭:৫১, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে গাজীপুরের কারাগারে নেওয়ার পথে শৌচাগারের কথা বলে ২৫ মামলার আসামী রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা’র পলায়নের ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আসামি রাজার পলায়নের পরে পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, গাড়ির ড্রাইভারসহ সহ পাঁচজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে বলে জানান কমিশনার। ডিসি হেডকোয়ার্টারের নেতৃত্বে ওই তদন্ত কমিটি কাজ করবে।

কারাগার সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে হাজিরার জন্য রোববার সকালে পিচ্চি রাজাকে প্রিজনভ্যানে করে ঢাকায় নেওয়া হয়। আদালতে হাজিরা শেষে তাকে ফের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। প্রিজনভ্যানটি গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় পৌঁছালে পিচ্চি রাজা প্রাকৃতিক কাজ সম্পন্নের জন্য শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে। পরে আনা-নেওয়ার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য তাকে একটি শৌচাগারে নিয়ে যান। সেখানে সুযোগ পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায় রাজা। 

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এর সিনিয়র জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে পিচ্চি রাজাকে কাশিমপুর কারাগারে ফিরিয়ে আনা হচ্ছিল। পথে নাওজোড় এলাকায় প্রাকৃতিক কাজ সারার কথা বলে সে শৌচাগারে যায়। সেখান থেকেই পালিয়ে গেছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১৯ মে মোহাম্মদপুর এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে গ্রেফতার করা হয়। পিচ্চি রাজা, তার স্ত্রী ও শ্যালক নেপাল থেকে দেশে ফেরার খবরে পুলিশ বিমানবন্দরে অবস্থান নেয়। পরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়।পিচ্চি রাজার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্রসহ ২৫টির মতো মামলা রয়েছে।