img

টাওয়ার হ্যামলেটস মানেই ব্যবসার জন্য সম্ভাবনার জায়গা

প্রকাশিত :  ০৭:৫২, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস বিজনেস সাপোর্ট প্রোগ্রামের সুবিধা নিয়েছেন ২৫২ জন

টাওয়ার হ্যামলেটস মানেই ব্যবসার জন্য সম্ভাবনার জায়গা

নতুন উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসা উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী - সবাইকেই তাদের ব্যবসায়িক যাত্রার পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে সহায়তা করছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল।

গত আট মাসে, টাওয়ার হ্যামলেটস বিজনেস সাপোর্ট প্রোগ্রামের সুবিধা নিয়েছেন ২৫২ জন বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী, যারা পেয়েছেন উপযোগী পরামর্শ, বিশেষজ্ঞ পরামর্শদান, ব্যবহারিক কর্মশালা এবং আর্থিক সহায়তা, যার লক্ষ্য ব্যবসা শুরু, সম্প্রসারণ ও সফলভাবে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করা।

এই সপ্তাহে টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে অনুষ্ঠিত হয় একটি উদযাপন অনুষ্ঠান, যেখানে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য ছিল একটি সেমিনার এবং নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ। এছাড়া উদ্যোক্তাদের জন্য অ্যালিয়া পরিচালিত একটি পিচিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগও ছিল, যেখানে বিজয়ীরা তাদের ব্যবসা এগিয়ে নিতে পেয়েছেন ৫,০০০ পাউন্ড।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাপোর্ট ফর স্টার্টআপস কর্মসূচির সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে অ্যালিয়া, যা একটি বিনামূল্যের কর্মসূচি এবং উদ্যোক্তাদের এগিয়ে যেতে, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করতে এবং তহবিল প্রাপ্তির সুযোগে প্রবেশাধিকার পেতে সহায়তা করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়।

উদ্যোক্তাদের যাত্রার প্রতিটি ধাপে সহায়তা করার লক্ষ্যে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল বিভিন্ন ধরনের বিজনেস সাপোর্ট প্রোগ্রাম পরিচালনা করেছে। সাপোর্ট ফর স্টার্টআপ এর মাধ্যমে ১০০ টি প্রাথমিক পর্যায়ের ব্যবসা দিকনির্দেশনা পেয়েছে। অন্যদিকে থিংক স্টার্টআপ ২ কর্মসূচি ব্যবহারিক ও হাতে-কলমে সহায়তার মাধ্যমে ৩০ জন বাসিন্দাকে নতুন ব্যবসায়িক ধারণা যাচাই ও বিকশিত করতে সহায়তা করেছে। সাপোর্টেড অ্যাক্সেস টু ফিন্যান্স২ কর্মসূচি প্রশিক্ষণ, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও তহবিল প্রাপ্তির সুযোগের মাধ্যমে ৭২ জন উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোক্তাকে সহায়তা করেছে, যার ফলে ৫৩টি নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এবং ৫০ জন অংশগ্রহণকারী তাদের উদ্যোগ চালু করতে পেয়েছেন ২,৫০০ পাউন্ড করে অনুদান। এছাড়া কাউন্সিল উইমেন মিন বিজনেস২ কর্মসূচির মাধ্যমে ৫০টি নারী-নেতৃত্বাধীন ব্যবসাকে সহায়তা করেছে, যেখানে কর্মশালা, একক-পরামর্শ ও উপযোগী প্রবৃদ্ধি পরিকল্পনার মাধ্যমে তাদের উদ্যোগ শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করতে সহায়তা করা হয়েছে।

এই কর্মসূচিগুলো বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তাদের সহায়তা করেছে, যার ফলে সৃষ্টি হয়েছে ৫৩টি নতুন ব্যবসা এবং স্থানীয় উদ্যোগগুলোকে যাত্রা শুরু ও সম্প্রসারণে সহায়তা করতে বিতরণ করা হয়েছে ১,২৫,০০০ পাউন্ড অনুদান।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রদত্ত সহায়তা শুধু প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ও তহবিল প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সব অংশগ্রহণকারী আরও ১২ মাস ধরে প্রকল্প-পরবর্তী সহায়তা ও পর্যবেক্ষণ পেতে থাকবেন, যা তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে, প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে এবং প্রবৃদ্ধির সুযোগকে পূর্ণ কাজে লাগাতে সহায়তা করবে।

দ্য ব্রেস্টফিডিং বোটের প্রতিষ্ঠাতা এবং কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী রেনাটে বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটস থেকে আমি আর্থিক সহায়তা পেয়েছি। এর মাধ্যমে আমি একজন ওয়েবসাইট ডিজাইনার নিয়োগ দিতে পেরেছি, যিনি আমার জন্য একটি সুন্দর ওয়েবসাইট তৈরি করে দিয়েছেন। আমি ফ্লায়ার ও লিফলেটও তৈরি ও ছাপিয়েছি। আমাকে অন্যান্য নতুন ব্যবসার সঙ্গে বিভিন্ন কর্মশালায় অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কাউন্সিলের কাছ থেকে পাওয়া উৎসাহ আমাকে আরও আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করেছে। টাওয়ার হ্যামলেটসে আমার ব্যবসা থাকাটা আমি খুব পছন্দ করি, কারণ টাওয়ার হ্যামলেটস এতটাই বৈচিত্র্যময়।”

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের জবস, এন্টারপ্রাইজ, স্কিলস অ্যান্ড গ্রোথ বিষয়ক কেবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর শেনালি মিয়া বলেন, “আমরা টাওয়ার হ্যামলেটসে স্থানীয় ব্যবসা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াই। আজ এত বিচিত্র ধরনের ব্যবসায়ীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা এবং তাদের যাত্রার গল্প শোনা, প্রাথমিক একটি ধারণা থেকে শুরু করে স্টার্টআপ এবং একটি সফল ব্যবসা পর্যন্ত - সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল। আমাদের কর্মসূচিগুলো ব্যবসায়িক যাত্রার প্রতিটি ধাপে মানুষকে সহায়তা করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, এবং এর মাধ্যমে সম্ভব হওয়া প্রবৃদ্ধি ও সাফল্য দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত।”

“আমি আমাদের বৃহত্তর কমিউনিটিকেও স্থানীয় ও স্টার্টআপ ব্যবসাগুলোকে সহায়তা করার আহ্বান জানাতে চাই। আর যদি আপনার কোনো ব্যবসায়িক ধারণা থাকে বা আপনার ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা প্রয়োজন হয়, তাহলে আমরা কীভাবে সাহায্য করতে পারি তা জানতে আমাদের টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।”

ভবিষ্যৎ সুযোগ সম্পর্কে আগ্রহী বাসিন্দারা কাউন্সিলের বিজনেস সাপোর্ট অ্যান্ড অ্যাডভাইস ওয়েবপেজ ভিজিট করতে পারেন, অথবা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা জানতে কাউন্সিলের বিজনেস নিউজলেটারে সাইন আপ করতে পারেন।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

বাংলাদেশ সেন্টারের উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনে প্রবীণদের মিলনমেলা

প্রকাশিত :  ১৯:১১, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:২৪, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে সময়মতো ঘুম, হেলদি খাবার, ফাস্টিং ও ব্যায়ামের পরামর্শ

যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ-বাংলাদেশি প্রবীণ নাগরিকদের নিয়ে পূর্ব লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ ‘এভারগ্রীন কমিউনিটি- সিনিয়র সিটিজেন ‘ কর্মসূচি । বাংলাদেশ সেন্টার লন্ডনের উদ্যোগে আয়োজিত এ বিশেষ আউটরিচ ইভেন্টে প্রবীণ নাগরিকরা পারস্পরিক গল্প ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি, সৌহার্দ্যপূর্ণ আলাপচারিতা, আড্ডা এবং মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।

২৭ সেপ্টেম্বর রোববার পূর্ব লন্ডনের হারক্সনেস চিলড্রেল সেন্টারে দুপুরে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ইউসিএল কুইন স্কয়ার ইনস্টিটিউট অব নিউরোলজির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. শাহজালাল সরকার। তিনি প্রবীণ নাগরিকদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন নিয়ে অনুপ্রেরণামূলক ও পরামর্শমূলক বক্তব্য দেন।

ড. শাহজালাল সরকার তার বক্তব্যে প্রবীণদের হেলদি লাইফস্টাইল বজায় রাখতে চারটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন—প্রথমত, সময়মতো ঘুম—শরীর ও মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দ্বিতীয়ত, হেলদি খাবার—সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের মাধ্যমে শরীরকে সুস্থ রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তৃতীয়ত, ফাস্টিং বা নিয়ন্ত্রিত উপবাস—ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিকভাবে ফাস্টিং করার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন।

চতুর্থত, নিয়মিত ব্যায়াম—বয়স বাড়লেও শারীরিক সক্ষমতা, চলাফেরার স্বাভাবিকতা ও স্বাধীনতা ধরে রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

বাংলাদেশ সেন্টারের ফার্স্ট ভাইস-চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মাদ আমিনুল হক জিল্লুর সঞ্চালনায়  অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ সেন্টারের ফার্স্ট ভাইস-চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন জানান, প্রবীণ নাগরিকদের মোবিলিটি, স্বাস্থ্য, সুস্থতা ও স্বনির্ভরতা বজায় রাখার পাশাপাশি তাদের সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করাই এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেন্টারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আসুক আহমেদ, আলহাজ্ব আব্দুল শফিক ও হারুন মিয়া উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ সেন্টারের ভাইস-চেয়ারম্যান ড. ছানাওর চৌধুরী, চিফ ট্রেজারার সামছুল ইসলাম সেলিম, জামাল মিয়া, আব্দুল হাই, মামুন রশিদ, আহাদ সরোয়ার, কাউন্সিলর শাফি আহমেদ, কাউন্সিলর কামরুল হোসেন মুন্না এবং সাবেক কাউন্সিলর আহবাব হোসেনসহ কমিউনিটির প্রবীণ গুণীজন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সেন্টারের হেলথ অ্যান্ড এল্ডারলি কেয়ার উপকমিটির আহ্বায়ক জামাল মিয়া এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুল হাই অনুষ্ঠানে প্রবীণ নাগরিকদের স্বাগত জানান।

আয়োজকরা বলেন, প্রবীণরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানিত অংশ। তাদের জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, অবদান ও মূল্যবান পরামর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই প্রবীণরা যাতে একাকীত্ব অনুভব না করেন এবং সমাজের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হয়, সেই লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রবীণ নাগরিকরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এ ধরনের মিলনমেলা তাদের মধ্যে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করে এবং দীর্ঘদিনের পরিচিতদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পাশাপাশি নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত প্রবীণ নাগরিকদের নিয়ে এ ধরনের মানবিক ও সামাজিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানের মূল বার্তা ছিল—বয়স বাড়লেও জীবন থেমে যায় না; সুস্থতা, সামাজিক যোগাযোগ ও আনন্দের মাধ্যমে প্রতিটি বয়সেই জীবনকে আরও সুন্দরভাবে উপভোগ করা সম্ভব।

কমিউনিটি এর আরও খবর