img

জেন-জির বিক্ষোভে এবার উত্তাল ফ্রান্স, আটক ৪ শতাধিক

প্রকাশিত :  ০৫:২৮, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জেন-জির বিক্ষোভে এবার উত্তাল ফ্রান্স, আটক ৪ শতাধিক

ফ্রান্সে জেন-জি প্রজন্মের বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকটসহ শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে দেশজুড়ে ৪০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে দেশটির অন্তত ৪০০টি স্কুলে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ৪০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক। খবর বিবিসির।

প্যারিসে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধ করে আসছেন। শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ থেকে এই আন্দোলনের সূত্রপাত।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অন্তত ১০ শিক্ষক ও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যও। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে অন্তত ৪০০টি স্কুলে।

ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি ময়লার পাত্রে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন এবং বাসস্টপেরও ক্ষতি করেছেন।

বার্তাসংস্থা এএফপিকে ১৬ বছর বয়সি এক ছাত্রী বলেন, ‘আমরা এখানে একটি বার্তা দিতে এসেছি। কোনো কারণ ছাড়াই সবকিছু ভাঙচুর করতে আসিনি। আমরা বলতে এসেছি যে শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। আমাদের প্রতিটি শ্রেণিতে ৩৪ জন করে শিক্ষার্থী, যা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। শিক্ষকেরা অতিরিক্ত কাজের চাপে রয়েছেন।’

ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে। তবে সহিংসতার খবরকে তিনি ‘কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়’ বলে নিন্দা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বিএফএমটিভিকে বলেন, ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এখনো চূড়ান্ত হিসাব নেই। তবে আমাকে বলা হয়েছে, তাদের দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’

ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মেরেছেন। জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনিয়ন সিন্দিকাল লিসেয়েনের সভাপতি রিয়াদ রানি এএফপিকে বলেন, ফরাসি সরকার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘দমন-পীড়ন’ চালাচ্ছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগেরও অভিযোগ করেন তিনি।

ভারতে নাটকীয় দৃশ্য, যুদ্ধবিমান-ট্যাংকের ওপর চড়ে বিক্ষোভ আন্দোলনকারীদের

বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কয়েকজন ফরাসি রাজনীতিক সমালোচনা করলেও এ বিষয়ে জানতে চাইলে নুনেজ বলেন, পুলিশের পদক্ষেপ ‘অত্যন্ত সংযত ও আনুপাতিকভাবে’ পরিচালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে বলেন, ‘বিক্ষোভ করার অধিকার একটি মৌলিক স্বাধীনতা। তবে কোনোভাবেই এটিকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। এসব কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া কিংবা এই পরিস্থিতিতে অবরোধ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানানো আমাদের শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। এটি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ।’

যুক্তরাজ্যের ষষ্ঠ ফর্ম বা যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুলের সমপর্যায়ের ফরাসি ‘লিসে’ স্কুলগুলোতে গত সপ্তাহে প্যারিসের আশপাশের ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে এই আন্দোলন শুরু হয়। এরপর সোমবার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ আরও সহিংস রূপ নিলে তা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ হবে বলে সতর্ক করেন। এর আগে ১৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

এদিকে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলার পাশাপাশি দেশজুড়ে শিক্ষক, হাসপাতালকর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নগুলোর ডাকা কর্মবিরতিও পালিত হয়েছে। কম বেতন ও কর্মপরিবেশসহ বিভিন্ন সমস্যার প্রতিবাদে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন।

নুনেজ জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিতে অন্তত ২ লাখ মানুষ অংশ নিলেও বেশিরভাগ জায়গায় তা কোনো বড় ধরনের ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

পানিকে অস্ত্র বানাতে দেব না, ভারতকে পাকিস্তানের কড়া বার্তা

প্রকাশিত :  ১৮:৪৩, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তান শান্তিপ্রিয় দেশ হলেও ভারত পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের কোনো চেষ্টা করলে তা বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। ইসলামাবাদের ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।

তিনি জানান, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তি একতরফাভাবে বাতিল বা স্থগিত করার কোনো সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতও পাকিস্তানের পক্ষে রায় দিয়ে জানিয়েছে যে চুক্তিটি এখনো পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। তাই ভারতকে তাদের বিতর্কিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো স্থগিত রাখতে হবে।

কাশ্মীরে গত বছর ঘটে যাওয়া একটি অনভিপ্রেত ঘটনার পর ভারত একতরফাভাবে এই চুক্তি স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে পাকিস্তান শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তারার আরও উল্লেখ করেন, জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ আগেই পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে এই চুক্তি হলো দুই দেশের মানুষের জীবনরেখা। পানির অধিকার কেড়ে নেওয়ার যেকোনো অপচেষ্টাকে যুদ্ধের শামিল বলে মনে করবে পাকিস্তান।

একটি দেশ যদি এভাবে আন্তর্জাতিক চুক্তি একতরফাভাবে ঝুলিয়ে রাখার সুযোগ পায়, তবে তা বিশ্বজুড়ে অভিন্ন পানি ব্যবস্থাপনার জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনবে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: জিও টিভি।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর