img

সুনামগঞ্জে চালু হচ্ছে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার

প্রকাশিত :  ০৭:০৬, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:১০, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 সুনামগঞ্জে চালু হচ্ছে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার

সুনামগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চালু হচ্ছে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার। ইতোমধ্যে সেন্টারের ১০টি শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে দ্রুতই সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জের কিডনি রোগীদের নিয়মিত ডায়ালাইসিসের জন্য সিলেটসহ জেলার বাইরে যেতে হয়। এতে চিকিৎসার পাশাপাশি যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য খরচ বহন করতে হয় রোগী ও স্বজনদের। অনেক রোগীর জন্য নিয়মিত এই যাতায়াত শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে বড় চাপ তৈরি করে। সদর হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা চালু হলে জেলার রোগীদের এই ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পার-৪ অধিশাখা থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ৪৪টি জেনারেল ও জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের জন্য রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে ৩৯৬টি পদ সৃজনের কথা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিটি হাসপাতালে ছয়টি করে সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং তিনটি করে মেডিকেল টেকনিশিয়ান (ডায়ালাইসিস) পদ রয়েছে।

সেই হিসাবে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের ডায়ালাইসিস সেন্টারের জন্যও নয়টি পদ সৃজন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে সেন্টারটির কার্যক্রম শুরু করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সুনামগঞ্জের কিডনি রোগীদের বড় একটি অংশকে নিয়মিত চিকিৎসার জন্য সিলেটে যেতে হয়। ডায়ালাইসিস একবার করেই শেষ হয় না; রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী নিয়মিত এই চিকিৎসা নিতে হয়। ফলে জেলার বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের জন্য সময় ও অর্থের ব্যয়ও দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় সমস্যা হয়ে আছে।

বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকার রোগীদের ক্ষেত্রে এই ভোগান্তি আরও বেশি। সুনামগঞ্জ শহরের বাইরে থাকা রোগীদের প্রথমে উপজেলা বা নিজ এলাকা থেকে জেলা শহরে আসতে হয়। এরপর সিলেট বা অন্য জেলায় যেতে হলে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর সঙ্গে স্বজনকেও যেতে হয়। ফলে চিকিৎসা ব্যয়ের সঙ্গে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচ যোগ হয়ে পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

সদর হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেন্টার চালু হলে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা রোগীরা সুনামগঞ্জ শহরেই এই সেবা নিতে পারবেন। এতে জেলার বাইরে যাতায়াতের প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে রোগীদের চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ সময় পথে কাটাতে হবে না।

সচেতন মহলের লোকজন বলছেন, সুনামগঞ্জে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ জেলার স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। নিয়মিত ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন এমন রোগীদের জন্য জেলার বাইরে যাওয়া যেমন কষ্টকর, তেমনি ব্যয়বহুলও। সরকারি হাসপাতালে এই সেবা চালু হলে অপেক্ষাকৃত কম খরচে রোগীরা চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

তবে সেবা চালুর পর তা নিয়মিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার পাশাপাশি যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, পর্যাপ্ত পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং চিকিৎসাসেবার মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। রোগীর চাপ অনুযায়ী ভবিষ্যতে সেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি রয়েছে।

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আলী আশরাফ সোহাগ বলেন, ইতোমধ্যে ১০টি বেড প্রস্তুত আছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে দ্রুত সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

কিশোরীকে অপহরণের পর রাতভর ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশিত :  ১৮:৫৫, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণের পর একটি ভাড়া বাসায় আটকে রেখে রাতভর ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ও ৯(৩) ধারায় মামলা করেছেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইছবপুর এলাকার দুলাল মিয়া (৩১), হবিগঞ্জ সদর উপজেলার চানপুর গ্রামের মো. জুয়েল মিয়া ওরফে সোহেল (২৬) এবং একই উপজেলার রিচি গ্রামের আল আমিন ইসলাম (২০)। তাঁরা শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার উকিল বাড়ি রোড এলাকায় কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিল কিশোরীটি। পথে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আসা কয়েকজন তাঁর গতিরোধ করেন। পরে তাঁকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ইছবপুর এলাকায় দুলাল মিয়ার ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে পরদিন রোববার সকাল সাতটা পর্যন্ত ওই বাসায় কিশোরীকে আটকে রেখে আসামিরা পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল নয়টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে ফেলে রেখে তাঁরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা রেলস্টেশন থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কিশোরীর বাবা শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর