img

সাড়ে চার হাজারের বেশি সদস্য নিয়ে পুলিশের স্বতন্ত্র ইউনিট হচ্ছে

প্রকাশিত :  ১৫:৩৪, ০১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:৩০, ০১ অক্টোবর ২০২৬

সাড়ে চার হাজারের বেশি সদস্য নিয়ে পুলিশের স্বতন্ত্র ইউনিট হচ্ছে

পরিবর্তনশীল অপরাধের ধরন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিস্তারের প্রেক্ষাপটে সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত জোরদারে যাত্রা শুরু করেছে পুলিশের বিশেষায়িত ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’। ৪ হাজার ৫৯২ জন জনবল নিয়ে গঠিত এ ইউনিটের নেতৃত্বে থাকবেন একজন অতিরিক্ত আইজিপি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব ইন্টেগ্রিটিতে ইউনিটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পরিবর্তনশীল অপরাধের ধরন এবং এআইয়ের যুগে পুলিশকে আধুনিক প্রযুক্তি ও মেধানির্ভর বাহিনীতে রূপান্তরের চেষ্টা চলছে। সাইবার অপরাধ দমন, ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রযুক্তিভিত্তিক তদন্ত সক্ষমতা বাড়াতেই এই ইউনিট গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত আইজিপি ইকবাল হোসেনকে সাইবার পুলিশ ইউনিটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এ ইউনিটের কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। থানায় সাইবারকেন্দ্রিক সেবা ও তদন্তের জন্য ওসির নেতৃত্বে এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল পদায়ন করা হবে।

অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী, ইউনিটটির মোট জনবল ৪ হাজার ৫৯২ জন। বিদ্যমান পুলিশ বাহিনী থেকে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত সদস্যদের পদায়নের পাশাপাশি নতুন নিয়োগের মাধ্যমে এই জনবল কাঠামো পূর্ণাঙ্গ করা হবে।

সাইবার পুলিশ ইউনিটে আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি দক্ষতা নিশ্চিত করতে আউটসোর্সিং ও চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফাইন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্ট, ইমার্জেন্সি রেসপন্স কনসালটেন্ট ও ডিজাস্টার রিকভারি এক্সপার্টসহ বিভিন্ন পদে দক্ষ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হবে।

এসব বিশেষজ্ঞের জন্য আলাদা ও আকর্ষণীয় বেতন কাঠামোর ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি নিয়মিত পুলিশ বাহিনীর আইটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাইবার পুলিশ ইউনিটে পদায়ন করা হবে। ইউনিটের কার্যক্রম তদারক ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দেশে-বিদেশে উচ্চতর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। কাজের অবদানের ভিত্তিতে কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার কথাও জানান মন্ত্রী।

সাইবার পুলিশ ইউনিটের অধীনে আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের উদ্যোগের কথাও অনুষ্ঠানে জানানো হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানি লন্ডারিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপরাধ, গুজব, আর্থিক অপরাধ, মাদক ও উগ্রবাদের মতো অপরাধ মোকাবিলায় কেমিক্যাল ল্যাবের পাশাপাশি ডিজিটাল ও ফরেনসিক ল্যাবের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। এ বাস্তবতায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সাইবার সরঞ্জামসমৃদ্ধ ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর আগে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত সাইবার তদন্তের সমন্বয়হীনতা দূর করে এখন থেকে একটি সুসংগঠিত কাঠামোর অধীনে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। একক আমব্রেলার আওতায় সাইবার পুলিশ ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এই বিশেষায়িত ইউনিটের মাধ্যমে বাংলাদেশে সাইবার স্পেসের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ দমন ও প্রতিরোধ আরও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


জাতীয় এর আরও খবর

img

অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটে বন্ধ সিলেট-হবিগঞ্জ রুটে বাস চলাচল

প্রকাশিত :  ১৫:১৪, ০১ অক্টোবর ২০২৬

হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে বাস চলাচল নিয়ে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের মালিক-শ্রমিকদের বিরোধের জেরে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোর থেকে হবিগঞ্জের অভ্যন্তরীণ রুটসহ দূরপাল্লার সব গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের ডাকে এ ধর্মঘটে জেলার সব যানবাহন মালিক-শ্রমিক সমিতি ও নেতারা একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। বুধবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর-সিলেট রুটে বাস চলাচল নিয়ে দুই জেলার মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ চলছে। বিভিন্ন সময়ে বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান হলেও পরে আবারও বাস আটকের ঘটনা ঘটছে।

তিনি জানান, গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়, হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে আগের মতো বাস চলাচল করবে। তবে শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের বাস কোনো স্টপেজ দিতে পারবে না। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচল করছিল।

এরপর গত ১১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের এসএমএস মালিক-শ্রমিকরা হবিগঞ্জের ২২টি বাস আটকে রাখেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকে ১২ জুনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচলের বিষয়ে সমঝোতা হয়। বৈঠকের পর আটক বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।

আবু মঈন চৌধুরী বলেন, ‘২৪ সেপ্টেম্বর সকালে হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে বাস চলাচল শুরু হলে মৌলভীবাজারের এসএমএস কর্তৃপক্ষ হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখে। বাসগুলো এখনো ছাড়েনি। তাই বাধ্য হয়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের বাসগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করুক। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও এসএমএস বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম রিপন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি সমাধানের দিকে এগোচ্ছিল। এর মধ্যে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের লোকজন শ্রীমঙ্গলে এসএমএস পরিবহনের কাউন্টারে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। এতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং একজন আইসিইউতে আছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলের শ্রমিকরাই বাসগুলো আটকে রেখেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছে। বিষয়টির সমাধানে দুপক্ষকে নিয়ে বসতে হবে।’

জাতীয় এর আরও খবর