শিশুর কাছে নিকোটিনযুক্ত ভ্যাপ বিক্রির দায়ে টাওয়ার হ্যামলেটসে দোকানকে জরিমানা
অপ্রাপ্ত বয়স্ক একজন ক্রেতার কাছে নিকোটিনযুক্ত ভ্যাপ বিক্রি করার দায়ে টাওয়ার হ্যামলেটসের একটি দোকানকে জরিমানা করা হয়েছে। কাউন্সিলের রেগুলেটরি সার্ভিসেস বিভাগের ট্রেডিং স্ট্যান্ডার্ডস কর্মকর্তাদের পরিচালিত একটি টেস্ট পারচেজিং (গোপন ক্রয়) অভিযানে এই জরিমানা করা হয়।
২০২৫ সালের ৪ আগস্ট ট্রেডিং স্ট্যান্ডার্ডস কর্মকর্তা, মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং ভলান্টিয়ার পুলিশ ক্যাডেটদের সমন্বয়ে পরিচালিত এক অভিযানে ১৭ বছর বয়সী একজন স্বেচ্ছাসেবক হোয়াইটহর্স লেনের আল-হারামাইন সুপারস্টোর থেকে নিকোটিনযুক্ত একটি ভ্যাপ কিনতে সক্ষম হন। বিক্রি করা পণ্যটি ছিল ‘এসকেই অরিজিনাল লেমন অ্যান্ড লাইম’ স্বাদের নিকোটিন ভেপ।
দোকানের কর্মচারী মোহাম্মদ আল আমিন বয়স যাচাই বা পরিচয়পত্র চাওয়া ছাড়াই কিশোরটির কাছে পণ্যটি বিক্রি করেন। ব্রিটেনের আইনে ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে নিকোটিন ভ্যাপ বা অনুরূপ পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
গত সেপ্টেম্বর মাসের ৮ তারিখে টেমস ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে অনুষ্ঠিত শুনানিতে আল-হারামাইন লিমিটেডের পরিচালক মিসেস আশরাফি কোম্পানির পক্ষ থেকে দোষ স্বীকার করেন। তিনি ২০১৪ সালের চিলড্রেন এন্ড ফ্যামিলি এ্যাক্ট-এর অধীনে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তির কাছে নিকোটিন ইনহেলিং ডিভাইস বিক্রির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন।
শুনানিতে মিসেস আশরাফি স্বীকার করেন যে কোম্পানি অপরাধটি করেছে এবং এমন ঘটনা রোধে কর্মীদের আরও সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া উচিত ছিল।
আদালত আল-হারামাইন লিমিটেডকে ৮০০ পাউন্ড জরিমানা করে এবং মামলা পরিচালনার খরচ বাবদ আরও ১,৯৯৫ পাউন্ড ও ৩২০ পাউন্ড ভিকটিম সারচার্জ পরিশোধের নির্দেশ দেয়।
অন্যদিকে, মোহাম্মদ আল আমিন এর আগে ২০২৬ সালের ২৪ মার্চ টেমস ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে অপরাধ স্বীকার করেছিলেন। তাকে ১৪৬ পাউন্ড জরিমানা, ১০০ পাউন্ড মামলা খরচ এবং ৫৮ পাউন্ড ভিকটিম সারচার্জ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের পাবলিক প্রোটেকশনস অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড এনফোর্সমেন্ট বিষয়ক ক্যাবিনেট মেম্বার কাউন্সিলার কবির আহমেদ বলেন, \"আমরা আমাদের তরুণদের নিরাপদ রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে জনস্বাস্থ্যের চেয়ে মুনাফাকে বেশি গুরুত্ব না দেয়, তা নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত টেস্ট পারচেজিং অভিযান পরিচালনা করি।\"
কেবিনেট মেম্বার ফর হেলদি, কেয়ারিং এন্ড ইনক্লুসিভ কমিউনিটিজ, কাউন্সিলর সাবিনা আকতার বলেন, \"ভ্যাপিং সিগারেটের ধোঁয়ার ক্ষতিকর প্রভাবের তুলনায় তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হলেও এটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয় এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। শিশু ও তরুণরা, যেহেতু তাদের ফুসফুস ও মস্তিষ্ক এখনো বিকাশমান, তাই এর নেতিবাচক প্রভাবের প্রতি আরও বেশি সংবেদনশীল।\"
\"নিয়ন্ত্রণহীন ও অবৈধ ভেপ গুরুতর গোপন স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে। কারণ এসব পণ্য নিরাপত্তা মানদণ্ড এড়িয়ে বাজারে আসে এবং প্রায়ই এতে অতিরিক্ত নিকোটিন, বিষাক্ত ভারী ধাতু ও অনুমোদনহীন রাসায়নিক উপাদান থাকে।\"



















