তুরস্কের মারমারিসে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকের আনন্দ ভ্রমণ
ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে (DUAUK) গত ১০ থেকে ১৪ই অক্টোবর পর্যন্ত তুরস্কের মারমারিসে চার দিনের একটি বিদেশ ভ্রমণের সফল আয়োজন করে। মারমারিস হলো তুরস্কের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের এজিয়ান এবং ভূমধ্যসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি চমৎকার রিসোর্ট শহর। পাইন বনে ঘেরা পাহাড়, নীল জলরাশি এবং ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহের জন্য এটি বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের কাছে দারুন জনপ্রিয়।
এই ভ্রমণে সংগঠনের সদস্য, তাঁদের সহধর্মিণী, উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন, বিনোদন, পারস্পরিক সৌহার্দ্য, বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের মধ্য দিয়ে ভ্রমণটি সবার জন্য স্মরণীয় হয়ে ওঠে।
সংগঠনের কনভেনর ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুল হাসানের (এমকিউ হাসান) নেতৃত্বে বিদেশ ভ্রমণটি আয়োজন করা হয়। তাঁকে সহযোগিতা করেন যুগ্ম সম্পাদক কামরুল হাসান, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মঈন উদ্দিন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ হামিদুল হক। অংশগ্রহণকারীদের জন্য যাতায়াত, আবাসন, বিনোদনমূলক কার্যক্রম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সমন্বয়ের ক্ষেত্রে আয়োজক দল সম্মিলিতভাবে কাজ করে।
DUAUK-এর উপদেষ্টা নাজির উদ্দিন চৌধুরী বাবর ও সোহুল আহমেদ মকুও ভ্রমণ চলাকালে বিভিন্ন সময়ে আয়োজক দলকে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
মারমারিসের সৌন্দর্য উপভোগ
১০ই অক্টোবর দলটি লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দর থেকে তুরস্কের দালামান বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সড়কপথে মারমারিসে অবস্থিত একটি অল-ইনক্লুসিভ হোটেলে পৌঁছান তাঁরা।
দীর্ঘ যাত্রার কারণে হোটেলে পৌঁছাতে দুপুরের খাবারের সময় পেরিয়ে গেলেও সাধারণ সম্পাদকের আগাম ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। প্রথম সন্ধ্যায় সবাই সমুদ্রসৈকতে হাঁটাহাঁটি করে মনোরম সময় কাটান।
ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ভূমধ্যসাগরে নৌভ্রমণ। নৌযানে অংশগ্রহণকারীরা উপকূলের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করেন এবং সুস্বাদু গরম খাবার, চা-কফি পান করেন। নৌযানটি তিনটি স্থানে থামানো হয়, যাতে সদস্যরা ভূমধ্যসাগরের স্বচ্ছ পানিতে সাঁতার কাটার সুযোগ পান।
সমুদ্রে সাঁতার কাটায় অংশ নেন মারুফ চৌধুরী, এম এ কালাম, জাকির হুসাইন, মঈন উদ্দিন, মাটিন চৌধুরী, আব্দুল মাজিদ তাহের, মোঃ চন্দন মিয়া , এমকিউ হাসান ও সৈয়দ হামিদুল হক। তাঁদের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত আনন্দদায়ক ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
মোশাররফ হোসেন, মারুফ চৌধুরী, মাটিন চৌধুরী, কামরুল হাসান ও ইসমাইল হোসেন তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী ‘হাম্মাম’ বা তুর্কি বাথ উপভোগ করেন।
উপদেষ্টা সোহুল আহমেদ মকু ও নাজির উদ্দিন চৌধুরী বাবর এবং কামরুল হাসান সদস্যদের চুল কাটা, চুলে রং করা, ম্যানিকিউর, পেডিকিউরসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত পরিচর্যার সুবিধা গ্রহণে উৎসাহিত করেন।
বদরুন নাহার, হাসনীন চৌধুরী, বিভা মোশাররফ ও আমানা আখতার সৌন্দর্যচর্চা এবং কেনাকাটায় অংশ নেন।
এ ছাড়া সদস্যরা নিজ উদ্যোগে মারমারিস শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও বাজার ঘুরে দেখেন। তাঁরা স্বর্ণালংকার, অন্যান্য গয়না, পোশাক ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী কেনাকাটা করেন। সন্ধ্যায় সমুদ্রসৈকতে হাঁটাহাঁটি করে সবাই উপকূলীয় পরিবেশ উপভোগ করেন।
গান, আড্ডা ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন ও বিশ্রামের পাশাপাশি এই ভ্রমণ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমের বাইরে একসঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর সুযোগ সৃষ্টি করে।
রাতের খাবারের পর সদস্যরা অনানুষ্ঠানিক আড্ডা, আলোচনা ও সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেন। ইসমাইল হোসেন, বিভা মোশাররফ, মারুফ চৌধুরী, এমকিউ হাসান, বদরুন নাহার , ড. হাসনীন চৌধুরী, নাজির উদ্দিন চৌধুরী বাবর এবং এম এ কালাম গান পরিবেশন করে উপস্থিত সবাইকে আনন্দ দেন।
মাটিন চৌধুরীর ছেলে মোহাম্মাদ অ্যাডাম চৌধুরী , ডা. মুহাম্মেদ কামরুল হাসান ও হান্নান মিয়াজীও এসব আড্ডায় যোগ দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন।
টেবিল টেনিস খেলাও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বদরুন নাহার, মারুফ চৌধুরী, সৈয়দ হামিদুল হক ও এমকিউ হাসানসহ কয়েকজন এতে অংশ নেন।
মোঃ চন্দন মিয়া ও আবুল মাজিদ তাহের নৌভ্রমণসহ অন্যান্য কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করেন।
ভ্রমণকালে অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহে সহায়তার জন্য কামরুল হাসান, সৈয়দ হামিদুল হক ও মঈন উদ্দিন অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহে সহযোগিতা করেন।
সাধারণ সম্পাদকের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
ভ্রমণ শেষে DUAUK-এর সাধারণ সম্পাদক এমকিউ হাসান সকল অংশগ্রহণকারী, তাঁদের সহধর্মিণী, যাঁদের সংগঠনের সদস্যরা স্নেহভরে ‘ভাবি’ বলে সম্বোধন করেন, সম্মানিত উপদেষ্টা এবং জ্যেষ্ঠ সদস্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি তাঁদের অংশগ্রহণ, সহযোগিতা, উৎসাহ ও আন্তরিকতার জন্য ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি বিদেশ ভ্রমণ সফলভাবে আয়োজন ও পরিচালনায় নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও সহযোগিতার জন্য ওভারসিজ হলিডে টিমের সকল সদস্যের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এমকিউ হাসান বলেন, “আয়োজক দলের পক্ষ থেকে মারমারিস ভ্রমণে অংশগ্রহণকারী সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় এই ভ্রমণটি আনন্দময় ও স্মরণীয় হয়ে উঠেছে। দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন, নৌভ্রমণ, সমুদ্রে সাঁতার, তুর্কি হাম্মাম, কেনাকাটা, গান ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম আমাদের অনেক সুন্দর স্মৃতি উপহার দিয়েছে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে ছিল আমাদের পারস্পরিক আন্তরিকতা, বন্ধুত্ব, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ। এই অনুভূতিগুলোই ভ্রমণটিকে বিশেষ করে তুলেছে।
“ভ্রমণ শেষে সদস্যদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা, প্রশংসা ও উৎসাহমূলক বার্তা পেয়েছি, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আপনাদের এসব বার্তা আমার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান এবং DUAUK-এর প্রতি আপনাদের আন্তরিক ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
“ভ্রমণ চলাকালে কোনো ত্রুটি বা অসুবিধা হয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। সবার ধৈর্য, সহযোগিতা, সহনশীলতা ও বোঝাপড়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”
তিনি আরও জানান, ভ্রমণের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে তাঁর মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার হয়েছিল। ফলে ভ্রমণ চলাকালেও তিনি কিছু শারীরিক অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। তা সত্ত্বেও তিনি নিজের দায়িত্ব যথাসাধ্য পালন করে অংশগ্রহণকারীদের আনন্দময় সময় নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সদস্যরা যে সহানুভূতি ও সহযোগিতা দেখিয়েছেন, সে জন্য তিনি তাঁদের ধন্যবাদ জানান।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
মারমারিসের এই বিদেশ ভ্রমণ DUAUK-এর সদস্যদের দৈনন্দিন সাংগঠনিক কার্যক্রমের বাইরে একসঙ্গে সময় কাটানো, নতুন স্থান ঘুরে দেখা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
এমকিউ হাসান আশা প্রকাশ করেন, এই ইতিবাচক অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আরও সামাজিক অনুষ্ঠান ও বিদেশ ভ্রমণ আয়োজনে সদস্যদের উৎসাহিত করবে, যাতে আরও বেশি সদস্য এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
তিনি সংগঠনের সকল সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সুস্বাস্থ্য ও সুখ কামনা করেন। পাশাপাশি ভ্রমণের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব, ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্ববোধ ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি



















