img

পলাতক অবস্থায় মৃত্যু, সাঈদীর মামলার বাদীর দাফন নিয়ে যা জানা গেল

প্রকাশিত :  ০৬:২৫, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

পলাতক অবস্থায় মৃত্যু, সাঈদীর মামলার বাদীর দাফন নিয়ে যা জানা গেল

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর লাশ তোপের মুখে ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের সদস্যদের খোড়া কবরে দাফন করা হয়েছে।

রোববার দিনগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে লাশ দাফন সম্পন্ন করে পুলিশ।  

এর আগে শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পলাতক থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে একইদিন দুপুর ১২টায় সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানিক পশারীর লাশ আসলে জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে মানিকের লাশসহ স্বজনরা। পরে পুলিশের সহায়তায় লাশ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকাল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় লাশ ঘিরে রাখে পুলিশ। 

পরে রাত ১টার দিকে পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় লাশ বাড়িতে পৌঁছে। রাতে মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ করেন। এ সময় কিছু এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। 

মানিকের বোন বলেন, ‘আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ধস্তাধস্তি হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পর মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই’। 

জেলা জামাতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর লাশ দাফনে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের নেতারা এবং অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতারা কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে লাশ দাফন করা হয়েছে।

সদর থানার ওসি মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। মানিক গত দুই মাস অসুস্থ থেকে মৃত্যুবরণ করেন।


img

মেয়াদোত্তীর্ণ শ্যাম্পু পানে ২ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত :  ০৭:৫৪, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলায় খেলার ছলে মেয়াদোত্তীর্ণ শ্যাম্পু পানে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুরা হলো- রাহাত বেপারীর ছেলে মাহমুদ হাসান সাজিত (৩) ও জনি বেপারীর মেয়ে হুমায়রা (৬)।

আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলার পাইথল ইউনিয়নের গোলাবর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় হুমায়রার এবং দুপুরে হাসান সাজিতের মৃত্যু হয়।

পাগলা থানার এসআই আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্লাস্টিক বোতলজাতকরণ বড় শ্যাম্পু বোতল শেষ হয়ে গেলে আবর্জনা হিসাবে ঘরের এক কোণে রেখে দেয় ওই শিশুর স্বজনরা। ঘটনার দিন সকাল ১০টায় ওই মেয়াদোত্তীর্ণ শ্যাম্পুর বোতল বের করে মাহমুদ হাসান সাজিত, হুমায়রাসহ তিন শিশু প্লাস্টিকের হাড়ি পাতিল নিয়ে খেলাধুলা করছিল। ওই শ্যাম্পুর ফেনা দিয়ে প্লাস্টিকের হাড়ি পাতিল ধুয়ে পরিষ্কার করছিল। আবার নোংরা করছিল। খেলাধুলার একপর্যায়ে ওই মেয়াদোত্তীর্ণ শ্যাম্পুর বোতলে পানি ভরে ফেনা তৈরি করে। পরে ওই ফেনাসহ শ্যাম্পুর বোতলের পানি পান করে। এতে তিন শিশুই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।

পরে শিশুর স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহমুদ হাসান সাজিতকে মৃত ঘোষণা করেন। হুমায়রাসহ আরেক শিশুকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুমায়রার মৃত্যু হয়। তবে অপর শিশুটি সুস্থ আছে বলে জানা গেছে।

এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, পুলিশকে জানালে ঝামেলা হতে পারে ভেবে পারিবারের কেউ বিষয়টি থানায় জানায়নি। পরে রাত ১১টার দিকে সংবাদকর্মীরা ফোন করে বিষয়টি জানতে চাইলে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। তবে, নিহত শিশুদের স্বজনদের কোনো অভিযোগ নেই বলেও জানান তিনি।


বাংলাদেশ এর আরও খবর