img

বরিশালে যুবদলকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৯

প্রকাশিত :  ১১:১৮, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

 বরিশালে যুবদলকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৯

বরিশাল জেলার উজিরপুরে পূর্ববিরোধের জেরে কাওছার হাওলাদার (৩২) নামে এক যুবদলকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাশেদ আমিন হাওলাদার নামে আরও একজন আহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের সাতলা-কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কাওছার হাওলাদার উজিরপুর উপজেলার আলমদী গ্রামের মৃত মোনাফছের হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন।

আহত রাশেদ আমিন হাওলাদারের ভাষ্য, শুক্রবার সকালে সাতলা একতা বাজার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কাওছার ও আশিকুলের সঙ্গে প্রতিপক্ষের নান্না মোল্লা, সজল মোল্লা, মেহেদী মোল্লা ও তাদের চাচা কাঞ্চন মোল্লার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এর আগে উপজেলার আলমদী এলাকায় সজলকে মারধর করেন নিহতের পক্ষের লোকজন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনার জেরে সজলের ভাই সৌদি আরবপ্রবাসী ইকবাল হোসেন নান্না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দেন বলে অভিযোগ। গত ২১ অক্টোবর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন ইকবাল।

রাশেদের দাবি, এসব ঘটনার প্রতিশোধ নিতে শুক্রবার রাতে ঢাকা ও বরিশাল থেকে মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে লোকজন সাতলা এলাকায় আসেন। রাত ১০টার দিকে সাতলা-কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্তবর্তী এলাকায় কাওছার ও তার ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তারা একটি সেতু থেকে পাশের বিলের পানিতে ঝাঁপ দেন। পরে সড়কের পাশের হাবিব হাওলাদার নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেন।

রাশেদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল বাড়িটির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা কাওছারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। রাশেদ দরজার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণে বেঁচে যান।

পরে স্থানীয় লোকজন আহত দুজনকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাওছারকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়েছে।

উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের উজিরপুর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং আটক ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হবে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বরিশাল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলাউল হাসান জানান, হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে নয়জনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের আটকের জন্যও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


img

অভিযোগ না পেলেও চাঁদাবাজির মামলা করতে পারবে পুলিশ, আসছে নতুন আইন

প্রকাশিত :  ১১:২৬, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

চাঁদাবাজির ভয়ে কেউ অভিযোগ করতে না চাইলে পুলিশ নিজেই মামলা করে ব্যবস্থা নিতে পারবে। এ লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তাঁর আশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়ন হতে পারে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) পুলিশ লাইন্সে খুলনা বিভাগের কমিউনিটি পুলিশিংবিষয়ক সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, চাঁদাবাজদের অনেকেই প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয়ে থেকে অপরাধ করে। ফলে ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে চান না, অভিযোগও করেন না। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ যাতে নিজ উদ্যোগেই মামলা করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে, সে জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে আইন প্রণয়ন ও সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগ করলে পুলিশকে ফ্যাসিবাদী বলা হয়, আবার বল প্রয়োগ না করলে দুর্বল বলা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সারা দেশে যৌথ অভিযান চলছে। পুলিশি কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে আইনি কাঠামোর মধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কমিউনিটি পুলিশিং পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কাজ করবে।

দেশে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আইজিপি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে মাদককে সমাজে এমনভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যেন এটি স্বাভাবিক বিষয়। বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সমাজ থেকে মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই সময় পুলিশ ছিল না, বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলেছে। এখন সব জায়গায় পুলিশের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। বেকারত্বসহ নানা সমস্যা থাকায় রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

পুলিশকে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইজিপি বলেন, পুলিশ মানবিক ও জনবান্ধব হতে চায়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পরও তারা কিছুদিনের মধ্যে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের অপরাধীদের কীভাবে নির্মূল করা যায়, সে বিষয়ে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কেএমপি কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম এবং খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট এ কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী।


বাংলাদেশ এর আরও খবর