৭ দাবিতে মহাখালী-তেজগাঁও সড়কে গার্মেন্টস শ্রমিকদের অবরোধ
বকেয়া বেতন, অর্জিত ছুটির ভাতা পরিশোধসহ সাত দফা দাবিতে রাজধানীর মহাখালী-তেজগাঁও সংযোগ সড়ক অবরোধ করেছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সাধারণ যাত্রী ও কর্মস্থলগামী মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই শত শত গার্মেন্টস শ্রমিক মহাখালী ও তেজগাঁও সংযোগ সড়কের ওপর বসে পড়েন। শ্রমিকদের এই আকস্মিক অবরোধের কারণে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
বিক্ষোভরত গার্মেন্টস শ্রমিকরা তাদের পাওনা আদায়ে ৭টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো—
১. চলতি বছরের গত মে মাসের বকেয়া বেতন অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।
২. ২০২৫ সালের অর্জিত ছুটির টাকা প্রদান করতে হবে।
৩. ডিসেম্বর-২০২৫ এর বকেয়া এরিয়া বিলের টাকা বুঝিয়ে দিতে হবে।
৪. নোটিশ পে-বিল পরিশোধ করতে হবে।
৫. প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী পরবর্তী ৪ মাস তথা ১২০ দিনের বেতন-ভাতা অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে।
৬. শ্রম আইন অনুসরণ করে সব শ্রমিক-কর্মচারীর সার্ভিস বেনিফিট ১০০ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে।
৭. শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হয়রানি (যেমন: পুলিশি মামলা, হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার) করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।
তেজগাঁও থানার ওসি মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, সকাল ১০টার পরপরই নাসা গ্রুপের শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে তেজগাঁও-মহাখালী সড়কের লাভ রোড সংলগ্ন পয়েন্টে নামেন। তাদের অবরোধের কারণে সড়কের দুইপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। তবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তারা সড়কেই অবস্থান করছিলেন।



















