img

বৃহত্তর সিলেটের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন আল্লামা আব্দুল কাইয়ূম সিদ্দিকীর ইন্তেকাল, মন্ত্রীসহ বিভিন্ন মহলের শোক

প্রকাশিত :  ১৪:৪৪, ১৬ আগষ্ট ২০২১

বৃহত্তর সিলেটের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন আল্লামা আব্দুল কাইয়ূম সিদ্দিকীর ইন্তেকাল, মন্ত্রীসহ  বিভিন্ন মহলের শোক

ফয়ছল মনসুর, সিলেট: হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে, লক্ষ লক্ষ মানুষকে কাঁদিয়ে চির বিদায় নিলেন মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ, বৃহত্তর সিলেটের প্রবীন আলেমে দ্বীন আল্লামা আব্দুল কাইয়ুম সিদ্দিকী হুজুর রহঃ।

১৩ আগস্ট দুপুর আড়াইটায় মৌলভীবাজার টাউন ঈদগাহে অনুষ্টিত প্রথম জানাজার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা আল্লামা নজুমুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী। করোনা আতঙ্ক উপেক্ষা করে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন।

তাঁর প্রথম জানাজার নামাজের পূর্বে মৌলভীবাজার জেলা আল ইসলাহর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল আলিম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাফিজ এনামুল হকের যৌথ পরিচালনায় জানাজার নামাজ পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ এমপি, বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল ইসলাহ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাওলানা হুসাম উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিসবাহুর রহমান, পৌর মেয়র মো. ফজলুর রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য বকশী ইকবাল আহমদ, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান প্রমুখ। পরিবারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মরহুমের পুত্র তানজুম আহমদ সিদ্দিকী। পরে  বিকাল সাড়ে ৫টায় বড়লেখা উপজেলার মুড়াউল নিজগ্রামে তার দ্বিতীয় জানাজার নামাজ শেষে মা-বাবার পাশে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তিনি ৩ ছেলে, ৩ মেয়ে, নাতি নাতনিসহ অসংখ্য ছাত্রশিক্ষক ও আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১ঃ৩০ মিনিটে মৌলভীবাজার শহরের পশ্চিম বাজার এলাকার গুলবাগস্থ নিজ বাসায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে মৌলভীবাজারসহ বৃহত্তর সিলেটের ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও আলেম-উলামাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে সিলেট বিভাগের বড়লেখার কৃতি সন্তান বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সিদ্দিকীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন এমপি, বাংলাদেশের ইসলামী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী, ও বৃটেন থেকে ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান ও ডেইলি সিলেট এন্ড দৈনিক মৌলভীবাজার মৌমাছিকন্ঠের সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি মোহাম্মদ মকিস মনসুর। এছাড়াও তাঁর মৃত্যুতে কেন্দ্রীয় আল ইসলাহর সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী ও মহাসচিব অধ্যক্ষ একেএম মনোওর আলী, মৌলভীবাজার জেলা আল ইসলাহর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা শামছুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল আলিম সহ জেলা আল ইসলাহ ও তালামীযে ইসলামীয়ার পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করেছেন।শোক বার্তায়  মরহুম মাওলানা জনাব  আব্দুল কাইয়ুম সিদ্দিকী একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেমে দ্বীন ছিলেন৷  মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

উল্লেখ্য, তিনি ছিলেন হযরত আল্লামা ফুলতলী (র.)-এর অন্যতম খলিফা। তার হাজারো শিক্ষার্থী ও অনুসারী রয়েছেন। আল্লামা আব্দুল কাইয়ূম সিদ্দিকী ১৯৫৪ সালে বড়লেখা উপজেলার মুড়াউল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পড়াশুনা সম্পন্ন করে বিভিন্ন মাদরাসায় তিনি শিক্ষকতা করেন। মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদরাসায় অধ্যক্ষ হিসাবে ৩৪ বছর দায়িত্ব পালন করে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুযুর্গ আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী (র.) নিকট থেকে ইলমে তরিকতের তালিম নেন এবং তার নিকট থেকে খেলাফতি লাভ করেন। সাংগঠনিকভাবে তিনি আনজুমানে আল-ইসলাহ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব দীর্ঘদিন পালন করেন ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ছিলেন। এছাড়া মাদরাসায় অধ্যক্ষ থাকাকালীন মাদরাসা শিক্ষকদের সংগঠন জমিয়তুল মোদার্রেছীনেরও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সুদীর্ঘকালের শিক্ষকতার জীবনে হাজার হাজার মুফতি, মাওলানা, মুহাদ্দিস ও ফকিহ তৈরি করেছেন। বৃহত্তর সিলেটের প্রায় সকল আলিয়া মাদরাসায় তার ছাত্ররা শিক্ষকতা করছেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলের চা বাগানে তিলানাগ ঈগলের রাজকীয় সকালের ভোজ, ক্যামেরাবন্দি বিরল মুহূর্ত

প্রকাশিত :  ১৮:০০, ২৪ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৫৯, ২৪ জুন ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: চৈত্রের কাঠফাটা রোদ। শ্রীমঙ্গলের সবুজে ঘেরা এক চা বাগান। হঠাৎ চা–গাছের আড়াল থেকে ডানা মেলে আকাশে উড়াল দেয় একটি তিলানাগ ঈগল। তার শক্ত পায়ের নখরে ধরা একটি দাঁড়াশ সাপ। সাপটির মাথা নেই, তবে লেজ তখনো কাঁপছে। কিছু দূরে একটি ছায়াঘেরা গাছে গিয়ে বসে পাখিটি। মিনিটখানেকের মধ্যেই শেষ হয় সকালের আহার। তারপর আবার ডানা মেলে মিলিয়ে যায় বনের গভীরে।

প্রকৃতির এই বিরল মুহূর্তের সাক্ষী হন হবিগঞ্জের ডেন্টাল সার্জন ও বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী ডা. এসএস আল আমিন সুমন। সম্প্রতি অন্য একটি পাখির খোঁজে তিনি শ্রীমঙ্গলে গিয়েছিলেন। পথে একটি চা বাগানের কাছে গাড়ি থামাতেই চোখে পড়ে তিলানাগ ঈগলের শিকার ও আহারের দৃশ্য। সুযোগ হাতছাড়া না করে ক্যামেরাবন্দি করেন কয়েকটি ছবি।

ছবিটি তুলেছেন হবিগঞ্জের ডেন্টাল সার্জন ও বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী ডা. এসএস আল আমিন সুমন।

ডা. সুমন গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, “তিলানাগ ঈগল সাধারণত সাপ শিকার করার পর প্রথমেই ঘাড়ের কাছ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এতে পাল্টা আক্রমণের ঝুঁকি থাকে না। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা দাঁড়াশ সাপের বিচ্ছিন্ন মাথাও দেখতে পাই।”

তিনি বলেন, “যে পাখির খোঁজে গিয়েছিলাম, সেটির দেখা পাইনি। তবে তিলানাগ ঈগলের এই অভিজাত সকালের আহার দেখা কম প্রাপ্তি নয়।”

প্রকৃতির দক্ষ শিকারি

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, তিলানাগ ঈগল (Spilornis cheela) প্রকৃতির অন্যতম দক্ষ শিকারি। দীর্ঘ সময় ধৈর্য ধরে উঁচু ডালে বসে চারপাশ পর্যবেক্ষণ করে। শিকার চোখে পড়লেই দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ে।

বিষধর চন্দ্রবোড়াসহ বিভিন্ন ধরনের সাপ এদের প্রধান শিকার। এ ছাড়া গিরগিটি, টিকটিকি, উভচর প্রাণী, ছোট স্তন্যপায়ী এবং সুযোগ পেলে মাছ ও ছোট পাখিও শিকার করে। এ কারণে বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তিলানাগ ঈগল। অনেক বিশেষজ্ঞ একে বন–প্রকৃতির ‘নীরব প্রহরী’ বলেও উল্লেখ করেন।

বিস্তৃত আবাস, রাজকীয় উপস্থিতি

মধ্যম আকৃতির এই শিকারি পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Spilornis cheela। ভারতীয় উপমহাদেশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং নিরক্ষীয় অঞ্চলের বিস্তীর্ণ বনভূমিতে এর বিচরণ রয়েছে। বিভিন্ন দেশে এদের ২১টি উপপ্রজাতির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

বড় মাথা, খাড়া ঝুঁটি, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, হলুদ ঠোঁট এবং শক্ত আঁশযুক্ত পা তিলানাগ ঈগলকে সহজেই আলাদা করে চেনায়। বিস্তৃত ডানা মেলে বনাঞ্চলের আকাশে এদের রাজকীয় উড়াউড়ি এবং কর্ণভেদী ডাক দূর থেকেই নজর কাড়ে।

তাইওয়ানে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের শুরুতে প্রায় ৯৮ শতাংশ সময় এরা গাছের ডালে বসে কাটায়। দীর্ঘ সময় চারপাশ পর্যবেক্ষণ করার পর সুযোগ বুঝে শিকার ধরে।

কমছে দেখা মেলার হার

একসময় দেশের বনাঞ্চলে তিলানাগ ঈগলের উপস্থিতি ছিল বেশ সাধারণ। তবে বন ধ্বংস ও আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় এখন এদের সংখ্যা কমছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডব্লিউসিএস বাংলাদেশের সাবেক সমন্বয়কারী সামিউল মোহসেনিন বলেন, “সিলেট অঞ্চলের বনগুলো দিন দিন অরক্ষিত হয়ে পড়ছে। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে তিলানাগ ঈগলসহ অনেক বন্যপ্রাণী অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।”

শ্রীমঙ্গলের চা বাগানের সেই সকালের দৃশ্য তাই শুধু একটি শিকারের গল্প নয়; এটি প্রকৃতির চিরন্তন নিয়মেরও এক অনন্য প্রতিচ্ছবি। এক প্রাণীর মৃত্যু আরেক প্রাণীর বেঁচে থাকার অবলম্বন। দাঁড়াশ সাপকে শিকার করে তিলানাগ ঈগলের সেই সকালের ভোজ যেন বনের নিঃশব্দ জীবনচক্রেরই এক জীবন্ত দলিল।



সিলেটের খবর এর আরও খবর