img

ভাষাযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শহিদ আবুল বরকতের অবদান

প্রকাশিত :  ১০:৫১, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
সর্বশেষ আপডেট: ১১:০০, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

ভাষাযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শহিদ আবুল বরকতের অবদান

জনমত ডেস্ক ।। আবুল বরকত (আবাই) (জন্ম: ১৬ই জুন, ১৯২৭ বাবলা গ্রাম, ভরতপুর, মুর্শিদাবাদ; মৃত্যু: ২১শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২) মহান ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ। তাঁর শহীদস্মৃতি পরবর্তীকালে বাঙালি জাতিকে জাতীয় চেতনাবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। এ চেতনার বলেই ১৯৭১ সালের সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

আবুল বরকতের পিতার নাম মরহুম শামসুদ্দিন, মাতার নাম হাসিনা বেগম। তাঁর জন্ম অবিভক্ত ভারতবর্ষের মুর্শিদাবাদ (বর্তমানে ভারতের একটি জেলা) জেলার সালার থানার বাবলা গ্রামে। শহীদ বরকত সেখানকার় তালিবপুর হাইস্কুল( বর্তমানে তালিবপুর হাই স্কুল ( H.S) নামে পরিচিত)থেকে ১৯৪৫ সালে মেট্রিক এবং বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে আই.এ পাস করেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৮ সালে মুর্শিদাবাদ ত্যাগ করে ঢাকায় চলে আসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫১ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে চতুর্থ হয়ে বি.এ. অনার্স পাস করেন। অতঃপর স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে ভর্তি হন।

বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২-র ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সম্মুখের রাস্তায় ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে বিক্ষোভ প্রদর্শনরত ছাত্র-জনতার উপর পুলিশ গুলি চালালে হোস্টেলের ১২ নম্বর শেডের বারান্দায় গুলিবিদ্ধ হন আবুল বরকত। ঢাকা মেডিকেল কলেজের হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি অবস্থায় রাত আটটার দিকে মৃত্যুবরণ করেন।

ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে আবুল বরকতের কবর। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালের রাতে আবুল বরকতের আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে আজিমপুর গোরস্তানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়। মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে আবদুস সালাম, রফিক, জব্বার, শফিউর রহমান প্রমূখ শহীদদের অন্যতম তিনি।

মহান ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগের জন্য ২০০০ সালে বাংলাদেশ সরকার শহীদ বরকতকে একুশে পদক প্রদান করে।

সংক্ষিপ্ত তথ্য 

শহীদ হয়েছেন ২১-২-১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ

পরিচয় : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এমএ ক্লাসের ছাত্র।

পিতার নাম : মৌলভী শামসুজ্জোহা ওরফে ভুলু মিয়া (১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যু)

মাতার নাম : হাজী হাসিনা বিবি (১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যু)

তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে আবুল বরকত ছিলেন পিতামাতার চতুর্থ সন্তান।

জন্ম : ১৬ জুন ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ, জন্মস্থান : গ্রাম-বাবলা ভরতপুর, জেলা : মুর্শিদাবাদ, রাষ্ট্র : ভারত।

ঢাকার ঠিকানা : বিষ্ণু প্রিয়া ভবন, পুরানা পল্টন, ঢাকা।

একুশের কবিতা 

ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
দুপুর বেলার অক্ত
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায় ?
বরকতেরই রক্ত।

হাজার যুগের সূর্যতাপে
জ্বলবে এমন লাল যে,
সেই লোহিতেই লাল হয়েছে
কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে !

প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে
ছড়াও ফুলের বন্যা
বিষাদগীতি গাইছে পথে
তিতুমীরের কন্যা ।

আল মাহমুদ 

শিক্ষা এর আরও খবর

img

কওমি শিক্ষার্থীদের বড় সুখবর দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিগগিরই নিয়োগ

প্রকাশিত :  ১৫:১৪, ০৬ মে ২০২৬

এবার আলিয়া মাদ্রাসার ‘সহকারি মৌলভী (মুজাব্বিদ/কারি)’ পদে নিয়োগের শিক্ষাগত যোগ্যতায় কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস সনদ অন্তর্ভুক্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার সর্বোচ্চ  শিক্ষাবোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। শিগগিরই সারাদেশে ১৩ হাজারের বেশি সহকারি মৌলভী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। 

একে সভাপতিত্ব করেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশনায় কো-চেয়ারম্যান শেখ সাজিদুর রহমানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এ বৈঠকে অংশ নেয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, দেশের আলিয়া মাদ্রাসাগুলোতে কুরআন শিক্ষাদানের জন্য ‘সহকারি মৌলভী (মুজাব্বিদ/কারি)’  ও ‘ইবতেদায়ি কারি’ পদে ১৩ হাজারের বেশি সহকারি মৌলভী’ ও ‘ইবতেদায়ি কারি’ নিয়োগ করা হবে। 

‘সহকারি মৌলভী (মুজাব্বিদ/কারি)’ পদে আবেদন করতে হলে আল-হাইআতুল উলয়ার দাওরায়ে হাদিস সনদের পাশাপাশি অধীনস্থ ছয় বোর্ডের ‘ইলমে কেরাত’ অথবা ‘তাহফীজুল কুরআন’-এর সনদ জমা দিতে হবে। জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী এ পদের বেতন গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ ও ‘ইবতেদায়ি কারি’ পদের বেতন গ্রেড হবে ১৬।

এছাড়া সভায় জানানো হয়, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে শিগগিরই ‘নতুন কুঁড়ি জাতীয় ক্বিরাআত ও হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬’ আয়োজন করা হবে। ‘কুরআন পড়, জীবন গড়’ স্লোগানে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় স্কুল, আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসার ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে। জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় অভিজ্ঞ হাফেজ ও কারিদের বিচারক হিসেবে রাখা হবে।

সভায় কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন বোর্ডের অধীনে নিয়মিত শিক্ষক প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে এবং সেটিকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ চলছে।

এ সময় মাদ্রাসাবিরোধী ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কওমি আলেম ও বোর্ডসমূহের সক্রিয় উপস্থিতি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, MyGov প্ল্যাটফর্মে Apostille পদ্ধতিতে দাওরায়ে হাদীস সনদ সত্যায়নের বিষয়ে সরকারের আইসিটি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে। সচিব এ বিষয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

বৈঠকে আল-হাইআতুল উলয়ার পক্ষে কো-চেয়ারম্যান আল্লামা শেখ সাজিদুর রহমান, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার পক্ষ হতে মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মুফতি রুহুল আমীন, আযাদ দ্বীনী এদারায়ে তা‘লীম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল বছীর, তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশের সহকারি মহাসচিব মাওলানা মুফতি এনামুল হক, জাতীয় দীনী শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ আলী এবং আল-হাইআতুল উলয়ার অফিস ব্যবস্থাপক মাওলানা মু. অছিউর রহমান অংশগ্রহণ করেন।