img

পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান পৃথিমপাশার জমিদার বাড়ি

প্রকাশিত :  ০৯:৪১, ১০ জানুয়ারী ২০২৫

পর্যটকদের কাছে  আকর্ষণীয় স্থান পৃথিমপাশার  জমিদার বাড়ি
সংগ্রাম দত্ত: পৃথিমপাশা জমিদার বাড়ি (যা পৃথিমপাশা নবাব বাড়ি নামেও পরিচিত) বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় জমিদারী আমলের স্মৃতি বিজড়িত এক ঐতিহাসিক এবং অপূর্ব স্থাপনার নাম পৃথিমপাশা জমিদার বাড়ি। পৃথিমপাশায় রয়েছে দু’টি জমিদার বাড়ি। এই জমিদার বাড়ির মতো জীবন্ত জমিদার বাড়ি বাংলাদেশে আর দ্বিতীয়টি নেই ।
১৯৫১ সালে ইরানের রাজা রেজা শাহ পাহলভি এই বাড়ি সফরে আসেন ।
মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে ২৫ একর বিস্তৃত সাজানো-গোছানো জমিদার বাড়ির অবস্থান ৪৭ কিলোমিটার পূর্বে। পুরোনো কয়েকটি স্থাপনার সঙ্গে রয়েছে জমিদার নির্মিত শিয়া সম্প্রদায়ের একটি চমৎকার নকশা খচিত ইমামবাড়া। প্রত্যেকটি স্থাপনাতে আভিজাত্যের ছাপ স্পষ্ট। পাশেই রয়েছে চমৎকার শান বাঁধানো ঘাটসহ সুবিশাল দীঘি।

এই এলাকাটি এক সময় ছিল ত্রিপুরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। এখানকার পাহাড়ি এলাকায় নওগা কুকি উপজাতির বেশ প্রতাপ ছিল। শ্রীহট্ট সদরে (বর্তমানে সিলেট) সেই সময় একজন কাজী ছিলেন যার নাম মোহাম্মদ আলী। ১৭৯২ সালে ইংরেজ শাসকদের পক্ষ হয়ে নওগা কুকিদের বিদ্রোহ দমনে মোহাম্মদ আলী গুরত্বপূর্ন ভূমিকা রাখেন। ইংরেজ সরকার এতে খুশি হয়ে মোহাম্মদ আলীর পুত্র গাউস আলী খাঁনকে ১২০০ হাল বা ১৪,৪০০ বিঘা জমি দান করেন।

১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সময় চট্টগ্রাম থেকে হাবিলদার রজব আলীর নেতৃত্বে একদল বিদ্রোহী সৈন্য সিলেট আসলে তার সমর্থন চান। তিনি সরাসরি সাহায্য না করে তাদেরকে পাহাড়ী এলকায় অবস্থান করার পরামর্শ দেন। যুদ্ধ শেষে গাউস আলী খানকে বিদ্রোহে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করে তবে প্রমানের অভাবে ছেড়ে দেয়া হয়। উত্তরাধিকার সূত্রে এউ জমিদারীর মালিক হন তার ছেলে আলী আহমদ খান। আলী আহমদের সময়ে জমিদারীর আয় ব্যাপক বৃদ্দি পায় এবং তিনি ব্রিটিশ আনুকুল্যও লাভ করেন। তার সময়ে চাদনীঘাট এবং সুরমা নদীর তীরে সিলেট শহরের গোড়াপত্তন হয়। ১৮৭২ সালে ছেলে আলী আমজাদ খানের নামে একটি ক্লক টাওয়ার স্থাপন করেন যা এখন আলী আমজাদের ঘড়ি নামে বিখ্যাত। নবাব আলী আমজাদ খাঁন তখনকার সময়ে বৃহত্তর সিলেটের মধ্যে সবচেয়ে স্বনামধন্য এবং প্রভাবশালী জমিদার ছিলেন। সিলেটের বিখ্যাত সুরমা নদীর তীরে চাঁদনীঘাটের সিঁড়ি সমাজসেবায় তার একটি অন্যতম দৃষ্টান্ত। ঐ সময় পৃথিমপাশা জমিদার বাড়িতে ত্রিপুরার মহারাজা রাধা কিশোর মানিক্য বাহাদুরসহ বহু ইংরেজ ভ্রমণ করে গেছেন। ইরানের রাজাও ভ্রমণ করে গেছেন। জমিদার বাড়ির ঐতিহ্য ধরে রাখতে আলী আমজাদ খাঁন মৌলভীবাজার ও কুলাউড়ায় বিভিন্ন স্কুল-কলেজ এবং সুপেয় পানির জন্য দীঘি খনন করেছিলেন। 

আলী আমজাদ খানের পুত্র নবাব আলী হায়দার খান ভারতবর্ষে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। পৃথিমপাশা জমিদার পরিবারের সন্তান নবাব আলী সারওয়ার খান, নবাব আলী আব্বাস খান প্রমুখরাও বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ এবং সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়াও পাকিস্তান আমলে নবাব আলী ছবদর খান রাজা সাহেব সিলেট জেলা ন্যাপের সভাপতি ছিলেন।

এই বাড়ির ভেতর সবকিছু পুরানো আমলের কারুকাজ খচিত মনে হলেও সেগুলো পরিষ্কার ঝকঝকেই আছে এখনো। জমিদারদের ব্যবহার করা অনেক জিনিসপত্র রয়েছে এ বাড়িতে। রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য এখানে লোক রয়েছে। নবাব আলী আমজাদ খাঁর উত্তসুরিরাই দেখাশুনা করেন জমিদার বাড়িটি।
img

জাফলংয়ে ঘুরতে গিয়ে পানিতে ডুবে কিশোর নিহত

প্রকাশিত :  ১৬:০৫, ০১ জুন ২০২৬

সিলেট জেলার জাফলং পর্যটন স্পটে ঈদের ছুটিতে ঘুরতে এসে পানিতে ডুবে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার (১ জুন) বিকেল ৪টার দিকে জাফলংয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ওই কিশোর নিখোঁজ হয়। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

নিহত ওই পর্যটক চট্রগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানার ফতেহাবাদ গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে ইমতিয়াজ হোসেন রাহি (১৬)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্রগ্রাম জেলার হাটহাজারী থেকে রাহীসহ তারা ১২জনের একটি দল সিলেটে ঘুরতে আসেন। সোমবার (১ জুন) বিকেলের দিকে রাহিসহ কয়েকজন মিলে সিলেটের জাফলং ঘুরতে যান। পরে জিরো পয়েন্ট এলাকার পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানিতে গোসল করতে নামেন কয়েকজন। গোসলের একপর্যায়ে রাহি স্রোতের টানে পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তার গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ ও ডুবুরিদল ঘন্টাব্যাপী উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নিখোঁজের দুই ঘন্টা পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে ওই পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর