img

শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি পথে নতুন আকর্ষণ ‘পাইন বন’

প্রকাশিত :  ১৪:৫১, ২৯ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:৫৮, ২৯ মে ২০২৬

শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি পথে নতুন আকর্ষণ ‘পাইন বন’

সংগ্রাম দত্ত: শ্রীমঙ্গলের নাম উচ্চারণ করলেই চোখে ভেসে ওঠে অন্তহীন চা–বাগান, কুয়াশা ঢাকা পাহাড় আর সবুজের শান্ত বিস্তার। সেই পরিচিত সৌন্দর্যের ভেতরই নিভৃত এক বিস্ময় হয়ে ধীরে ধীরে পর্যটকদের নজর কাড়ছে শ্রীমঙ্গলের ‘পাইন বন’। স্থানীয়দের অনেকেই একে ঝাউ বন নামেও চেনেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ট্রাভেল ভ্লগ আর আলোকচিত্রের মাধ্যমে এখন এটি দেশি–বিদেশি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও চায়ের রাজধানীখ্যাত শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী হরিণছড়া চা–বাগান এলাকায় অবস্থিত এই পাইন বন। চা–বাগানের আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে সেখানে পৌঁছাতে হয়। চারদিকে সবুজ চা–গাছের সারির মাঝখানে হঠাৎ করেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা দীর্ঘ পাইন গাছের সারি দর্শনার্থীদের মনে ভিন্ন এক অনুভূতি জাগায়। অনেকের কাছেই জায়গাটি যেন দেশের ভেতর বিদেশের কোনো নীরব পাহাড়ি অরণ্যের আবহ তৈরি করে।

বাতাসে পাইন পাতার মৃদু শব্দ, চারপাশের নিস্তব্ধতা আর পাখির ডাক মিলিয়ে জায়গাটি হয়ে উঠেছে স্বপ্নময়। উঁচু গাছের ফাঁক গলে সূর্যের আলো মাটিতে পড়ে তৈরি করে অপূর্ব আলোকছায়া। বর্ষাকালে চারপাশের সবুজ আরও গভীর হয়ে ওঠে, আর শীতের সকালে কুয়াশা ঘিরে ধরে বনটিকে রহস্যময় রূপে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর আগেও এই জায়গাটি খুব বেশি পরিচিত ছিল না। দুর্গম অবস্থান ও সীমিত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে কেবল আশপাশের মানুষই এর সৌন্দর্যের কথা জানতেন। পরে ইউটিউবার, ট্রাভেল ভ্লগার ও আলোকচিত্রীরা এখানে এসে ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করলে ধীরে ধীরে দেশজুড়ে পরিচিতি পেতে শুরু করে পাইন বন। এখন প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসছেন এই নীরব সৌন্দর্য দেখতে।

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা এক পর্যটক বলেন, “ছবিতে দেখে যতটা সুন্দর মনে হয়েছিল, বাস্তবে এসে তার চেয়েও বেশি মুগ্ধ হয়েছি। মনে হচ্ছে যেন বাংলাদেশের বাইরে কোথাও দাঁড়িয়ে আছি।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, ঈদ ও দীর্ঘ ছুটির সময় এখানে পর্যটকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। আসন্ন ঈদেও রেকর্ডসংখ্যক পর্যটকের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, চা–বাগানের বিস্তৃত সবুজ, পাহাড়ি পথ আর ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা মনোরম দৃশ্যপট মিলিয়ে জায়গাটি এখন ভ্রমণপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

তবে এই পাইন বনে প্রবেশের ক্ষেত্রে চা–বাগান কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে দর্শনার্থীদের সচেতন থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে পাইন বন শ্রীমঙ্গলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইকো–ট্যুরিজম স্পট হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্য ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

শ্রীমঙ্গল শহর থেকে সিএনজি, চাঁদের গাড়ি, অটোরিকশা কিংবা মোটরসাইকেলে সহজেই পৌঁছানো যায় পাইন বনের কাছাকাছি। একই সফরে পর্যটকেরা ঘুরে দেখতে পারেন হাইল হাওর, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, নূরজাহান টি গার্ডেনসহ আশপাশের পাহাড়ি চা–বাগান।

সবুজের শহর শ্রীমঙ্গলে প্রকৃতি যেন বারবার নতুন রূপে ধরা দেয়। আর সেই রূপের ভাঁজে নির্জন, নান্দনিক ও অপার্থিব সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাইন বন—যা এখন ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

‘মণিপুরী, চাকমা, গারো—আমরা সবাই জাতিসত্তায় বাংলাদেশী’

প্রকাশিত :  ১৬:১২, ২৯ মে ২০২৬

কমলগঞ্জের খাসিয়া পুঞ্জি পরিদর্শনে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে ফুলেল সংবর্ধনা ও শুভ

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি পরিদর্শন করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে তিনি পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবনধারা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের চেয়ারপার্সন পিডিশন প্রধান সুছিয়াং। এ সময় খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন খাসিয়া পুঞ্জির প্রধান (মান্রী), প্রতিনিধি এবং আদিবাসী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে কমলগঞ্জের মণিপুরী ললিতকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। সেখানে মণিপুরী, চাকমা, গারোসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা তাকে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, “মণিপুরী, চাকমা, গারো—আমরা সবাই জাতিসত্তায় বাংলাদেশী। এ দেশের বহুমাত্রিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আমাদের শক্তি।”

তিনি আরও বলেন, দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর স্বীকৃতির ক্ষেত্রে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণীয়। “বিএনপি সরকারই দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোকে ‘বাংলাদেশী’ পরিচয়ের স্বীকৃতি দিয়েছে,” বলেন তিনি।

মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চল ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা স্থানীয় সংস্কৃতিনির্ভর পরিবেশনা উপভোগ করেন এবং উপস্থিত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় করেন।


সিলেটের খবর এর আরও খবর