img

সিলেটে খুন-ধর্ষণে মাদকসেবীরা, মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ

প্রকাশিত :  ০৭:৫৪, ২৫ মে ২০২৬

 সিলেটে খুন-ধর্ষণে মাদকসেবীরা, মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ

ইদানীং সিলেটে বেড়েছে অপরাধপ্রবণতা। একের পর এক খুন, ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছে। এসব অপরাধের অনেকগুলোর সাথে মাদকসেবীদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ফলে মাদকের বিস্তারের কারণে সিলেটে অপরাধ বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিস্টরা। সীমান্তবর্তী সিলেট জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে মাদকের অবাধ প্রবেশকেও এজন্য দায়ী করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীরও মনে করেন সিলেটে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ অধিকাংশ অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মাদকসেবীদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তিনি বলেন, মাদক যেন সীমান্ত পেরিয়ে দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি মাদকাসক্তদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

একইমত র‌্যাব-৯-এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার মো. তাজমিনুর রহমান চৌধুরীরও। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও সহিংস অপরাধের পেছনে মাদকের বড় ভূমিকা পাওয়া যাচ্ছে। মাদকাসক্ত হয়ে অনেক তরুণ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে নগরের কিছু এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বাড়ছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

সীমান্তঘেঁষা জেলা, পর্যটনকেন্দ্র ও প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল এই তিন কারণে সিলেটে মাদকের বিস্তার বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি। তবে মাদকের বিস্তার রোধে সীমান্তপথ, আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট ও নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি জোরদারের কথা জানিয়েছেন র‌্যাব-৯ এর এই কর্মকর্তা।

রোববার (২৪ মে) সিলেটে ঈদের সময়ের নিরাপত্তা নিয়ে কাজিরবাজার গরুর হাটে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৯-এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার মো. তাজমিনুর রহমান চৌধুরী বলেন, সিলেট বিভাগের চার জেলা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকবিরোধী বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এই অঞ্চলে মাদকের প্রবেশ তুলনামূলক বেশি হচ্ছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

মো. তাজমিনুর রহমান চৌধুরী বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কসবা, কোম্পানীগঞ্জ ও সীমান্তঘেঁষা কয়েকটি এলাকা দিয়ে মূলত গাঁজা, ফেনসিডিল, বিদেশি মদ ও ইয়াবা প্রবেশ করে। এসব মাদক দ্রুত বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে। তবে বড় আকারে দীর্ঘ সময় ধরে মাদক মজুত রাখার সুযোগ পাচ্ছে না চক্রগুলো। নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারির কারণে তারা স্থান পরিবর্তন করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঈদের ছুটিতে সিলেটে পর্যটকের চাপ বাড়ে। এই সুযোগে কিছু হোটেল, রিসোর্ট ও পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকায় মাদক সরবরাহের প্রবণতাও বাড়ে। বিষয়টি মাথায় রেখে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন ‘হটস্পট’ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতিও রয়েছে।

র‌্যাব-৯ দাবি করেছে, চলতি বছর সিলেট অঞ্চলে মাদক উদ্ধারে তাদের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। ১৫ ব্যাটালিয়নের মধ্যে মাদক উদ্ধারে তারা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা, বিদেশি মদ ও ফেনসিডিল উদ্ধার এবং বহু মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু অভিযান দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, তরুণদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

অধিনায়ক মো. তাজমিনুর রহমান চৌধুরী বলছেন, শুধু ঈদ নয়, সার্বক্ষণিকভাবেই মাদক, অনলাইন জুয়া ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে র‌্যাব।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

নবীগঞ্জে খাবার কিনতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার শিশু

প্রকাশিত :  ১৮:৫৮, ২৫ মে ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলাস্থ পানিউম্দা ইউনিয়নের বড়চর গ্রামে ৩য় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (৯) ধর্ষণ করেছে দুই যুবক। দোকানে যাওয়ার পথে ওই ছাত্রীকে টেনেহিঁচড়ে বাঁশঝাড়ে নিয়ে ধর্ষণ করেন তারা।

ওই ছাত্রীকে সোমবার (২৫ মে) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে রেফার্ড করেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৪ মে) বিকালে সরকারি প্রাইমারি স্কুলের ৩য় শ্রেণির ছাত্রী গ্রামের দোকানে যাচ্ছিল। পথে একই গ্রামের মৃত কনর মিয়ার ছেলে আফরোজ মিয়া (৩৫) ও তার অপর সঙ্গীকে নিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক পাশের বাঁশঝাড়ের নির্জনস্থানে মুখে গামছা বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

স্থানীয়রা মেয়েটির চিৎকারের শব্দ শুনে ধর্ষণকারীদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ছাত্রীর পিতা বাড়িতে না থাকায় সোমবার দুপুরে মেয়েটিকে নবীগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যায়। 

ভিকটিমের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান, তার মেয়েটি খাবার কেনার জন্য স্থানীয় একটি দোকানে যাচ্ছিল। পথে একটি বাঁশঝাড়ের পাশে নির্জনস্থানে তার মেয়েকে মুখে গামছা বেঁধে ধর্ষণ করেছে একই গ্রামের কনর মিয়ার ছেলে আফরোজ মিয়া ও তার সহকর্মী অজ্ঞাত আরেকজন। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ধর্ষকদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়।

শিশুটির বাবা বলেন, আমার অবুঝ মেয়ের ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর