img

দেশের পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত :  ১৩:১১, ২৮ এপ্রিল ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:৪৭, ২৮ এপ্রিল ২০২৫

দেশের পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু

বজ্রপাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জে এসব মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে স্কুলছাত্র, কৃষক, মাদ্রাসাশিক্ষক ও কলেজছাত্র রয়েছেন।

কুমিল্লায় চারজনের মৃত্যু

কুমিল্লার বরুড়া ও মুরাদনগর উপজেলায় বজ্রপাতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।  এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে বরুড়া ও মুরাদনগরে পৃথক দুটি ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়।

বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক ও বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

দুই স্কুলছাত্র হলো, বরুড়া উপজেলার পয়ালগচ্ছ গ্রামের মৃত খোকন মিয়ার ছেলে মো. ফাহাদ হোসেন (১৩) ও একই এলাকার বিলাল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ জিহাদ (১৪)। তারা বড়হরিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

বাকি দুজন হলেন, মুরাদনগর উপজেলার দেওরা গ্রামের জসিম উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে জুয়েল ভূঁইয়া (৩৫) ও কোরবানপুর পশ্চিম পাড়া (কালীবাড়ি) গ্রামের মৃত বীরচরণ দেবনাথের ছেলে নিখিল দেবনাথ (৬০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুর ১২টার দিকে মুরাদনগরের কোরবানপুর পূর্বপাড়ার একটি মাঠে নিখিল দেবনাথ ও জুয়েল ভূঁইয়া পাশাপাশি জমিতে ধান কাটছিলেন। এক পর্যায়ে হঠাৎ বজ্রপাত শুরু হলে ঘটনাস্থলে দুজনের মৃত্যু হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা নাজির (৪০) নামে আরও এক কৃষক আহত হন। তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার খোশবাস ইউনিয়নের পয়ালগচ্ছ গ্রামের কয়েকজন শিশু মাঠে ঘুড়ি উড়াচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ফাহাদ, জিহাদ ও আবু সুফিয়ান নামে তিনজন মারাত্মকভাবে আহত হয়। পরে স্বজনরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ফাহাদ ও জিহাদকে মৃত্যু ঘোষণা করেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য আবু সুফিয়ানকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জে তিনজন নিহত

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলায় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মিঠামইনের শান্তিগঞ্জ হাওরে খড় শুকাতে গিয়ে ফুলেছা বেগম (৬৫) নিহত হন। অষ্টগ্রামে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মারা যান কৃষক ইন্দ্রজীত দাস (৩৬) ও কিশোর স্বাধীন মিয়া (১৪)।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মিঠামইন উপজেলার শান্তিগঞ্জ হাওরে ও সকাল ১০টার দিকে জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার হালালপুর হাওরে এসব ঘটনা ঘটে। 

মিঠামইন থানার উপপরিদর্শক অর্পন বিশ্বাস জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির পাশে ধানের খড় শুকাচ্ছিলেন ফুলেছা বেগম। এসময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।

অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে কৃষক ইন্দ্রজীত দাস বাড়ির পাশে হালালপুর হাওরে ধান কাটছিলেন। এসময় বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই কৃষক ইন্দ্রজীত দাসের মৃত্যু হয়। একই সময় উপজেলার খয়েরপুর হাওরে কৃষক স্বাধীন মিয়া ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নিহত হন।

নেত্রকোনায় শিশু ও শিক্ষক নিহত

নেত্রকোনার মদন ও খারনৈ এলাকায় বজ্রপাতে দুইজন নিহত হয়েছেন। ভোরে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে বজ্রপাতে মারা যায় ১০ বছর বয়সী শিশু আরাফাত। আগের রাতে বৃষ্টির মধ্যে খারনৈ ইউনিয়নে বজ্রপাতে প্রাণ হারান মাদ্রাসাশিক্ষক দিদারুল হক (২৫)।

হবিগঞ্জে এক কৃষক নিহত

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ ও বানিয়াচং এর হাওরে বজ্রপাতে এক কৃষক নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকালে ঝড়বৃষ্টির সময় এই ঘটনা ঘটে।

জেলার ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আজাদুর রহমান জানান, সোমবার সকালে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হলে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার আড়িয়ামুগুর গ্রামের কালবাসী দাসশর ছেলে দূর্বাসা দাশ (৩৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। আহত হয় তার ভাই ভূষণ দাশ (৩৪) ও বোন সুধন্য দাশ (২৮)।

এছাড়াও বজ্রপাতে বানিয়াচং উপজেলার বাগহাতা গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে বায়েজিদ মিয়া (১৩) আহত হয়।

সুনামগঞ্জে কলেজছাত্রের মৃত্যু

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার কালিকোটা হাওরে গরু চরাতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন কলেজছাত্র রিমন তালুকদার। নিহতের সঙ্গে তার একটি গরুও মারা গেছে।

img

বৃষ্টিতে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা

প্রকাশিত :  ০৭:৫১, ০১ মে ২০২৬

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়কে ভারী বৃষ্টির ফলে পানি জমে গেছে। আজ শুক্রবার (০১ মে) ভোর ৫টার কিছু পর থেকে সকাল ৭টার আগ পর্যন্ত অঝোরে বৃষ্টি হয়। এতে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে কয়েক ফুট পর্যন্ত জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৃষ্টির কারণে ঢাকার বিভিন্ন সড়ক, অলিগলিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে রাজধানীর- মালিবাগ, শান্তিনগর, রাজারবাগ, সায়াদাবাদ, শনির আখড়া, পুরান ঢাকা, বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড, ধানমন্ডি, মিরপুর ১৩, হাতিরঝিলের কিছু অংশ, আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেট যেতে নতুন রাস্তায়, খামারবাড়ি থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট-তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা, মোহাম্মদপুরের কিছু অংশ, মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায়, মোহাম্মদপুর, ইসিবি, কালশিসহ বিভিন্ন সড়ক ও অলগলিতে বেশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। 

অবশ্য ধীরে ধীরে পানি নেমে যাওয়ায় অনেক সড়কে জলাবদ্ধতার পরিমাণ কমে আসতে শুরু করেছে। তবে সকাল থেকেই বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহনগুলো ধীর গতিতে চলছে। পায়ে হেঁটে মানুষের যাতায়াতও কম দেখা গেছে।

ছুটির দিন হওয়ায় সকালে যানবাহন তুলনামূলক কম ছিল, তাই দুর্ভোগ কিছুটা সীমিত ছিল। তবে সকাল ৮টার পরও অনেক সড়কে পানি আটকে থাকতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মুখপাত্র রাসেল রহমান বলেন, বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট অস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে ভোর থেকে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মীরা। আশা করছি খুব অল্প সময়ে সব সড়ক থেকে পানি নেমে যাবে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য দেশের ছয় বিভাগে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। বিভাগগুলো হলো- ময়মনসিংহ, ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট। এসব বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কবার্তায় বলা হয়।

গত রোববার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে অন্তত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা তাপপ্রবাহ কমে আসে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৬° সেলসিয়াস, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

বৃহস্পতিবার সারা দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টি রেকর্ড করা হয় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে, ৬০ মিলিমিটার। আগের দিন সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছিল পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ১২১ মিলিমিটার।

বাংলাদেশ এর আরও খবর