টঙ্গীতে ঘর থেকে ছেলের, রেললাইন থেকে বাবার লাশ উদ্ধার
প্রকাশিত :
০৭:০২, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
নিজ ঘর থেকে ছেলের এবং বাড়ির পাশের রেললাইন থেকে বাবার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রবিবার (২৬ এপ্রিল) গাজীপুরের টঙ্গীতে উত্তর বনমালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন উত্তর বনমালা গ্রামের মোস্তফা দর্জির ছেলে সোহেল রানা (৪৮) এবং তার ছেলে সাকিবুর রহমান শোয়েব (১৭)। সে ঢাকার উত্তরা প্রথম বর্ষের ছাত্র।
এ ঘটনায় সোহেল রানার অপর ছেলে সাইফুর রহমানকে (২৭) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীরা জানায়, স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল হোসেন একসময় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াপ্রবাসী ছিলেন। বছরখানেক আগে তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে মারা যান। এর পর থেকে বাড়িতে দুই ছেলেকে নিয়েই তিনি বসবাস করতেন।
সাকিব রাজধানীর উত্তরা আনোয়ারা মডেল ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি চাকরিও করতেন।
পুলিশ জানায়, গতরাতে সোহেল রানা তার দুই ছেলে সাকিবুর রহমান ও সাইফুর রহমানকে নিয়ে একই ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। ভোররাতে চিৎকার চেচামেচি শুনে আশপাশের মানুষ জড়ো হয়।
এরপর ঘরের ভেতরে সাকিবুরের লাশ এবং পাশে রেললাইনে বাবা সোহেল রানার লাশ পাওয়া যায়। সাকিবুর রহমানের লাশের বিভিন্ন অংশে কাটা দাগ ছিল। তার মুখের ভেতর কাপড় গুঁজে দেওয়া ছিল, যাতে তিনি চিৎকার করতে না পারেন। এরপর দুই হাতের রগ কেটে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মাদক সেবন নিয়ে পরিবারের অভ্যন্তরে দীর্ঘ কলহ বিদ্যমান ছিল।
ঘটনার রাতে সোহেল রানা তার দুই পুত্র—সাকিব (ভিক্টিম-১) ও সাইফুর রহমানের সঙ্গে একই ঘরে অবস্থান করেন।
হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা ও আঘাতের ধরণ : তদন্তকালে ১নং ভিক্টিম সাকিবের মরদেহে জখমের যে ধরণ পাওয়া গেছে, তা সাধারণ পারিবারিক কলহ থেকে ভিন্ন। সাকিবের মাথার পেছনে গভীর জখম, ডান হাতের কব্জি এবং বা পায়ের গোড়ালির ওপরের অংশ অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁতভাবে কাটা হয়েছে। এ ধরনের জখম সাধারণত কোনো পেশাদার অপরাধী বা ঠাণ্ডা মাথার পরিকল্পনাকারীর কাজ বলে প্রতীয়মান হয়, যা ঘটনাটিকে একটি ‘সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে সন্দেহের অবকাশ তৈরি করেছে।
পিতার রহস্যজনক মৃত্যু : সাকিবের মরদেহ উদ্ধারের পর পার্শ্ববর্তী রেললাইন থেকে পিতা সোহেল রানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এটি অনুশোচনা থেকে আত্মহত্যা, নাকি হত্যার পর রেললাইনে ফেলে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে, তা নিয়ে পুলিশী তদন্ত চলছে।
তদন্তের মূল ফোকাস ও সন্দেহের ক্ষেত্রসমূহ
বড় ভাই সাইফুর রহমানের ভূমিকা : একই ঘরে অবস্থান করা সত্ত্বেও সাইফুর রহমানের অক্ষত থাকা এবং তার দেওয়া বক্তব্যে অসংগতি থাকায় তার ভূমিকা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
তৃতীয় পক্ষের সংশ্লিষ্টতা : মাদকাসক্ত পিতাকে ব্যবহার করে অন্য কেউ বা সাইফুর নিজে এই নৃশংসতায় জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জিএমপির অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, পিতা-পুত্র খুনের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অপর পুত্র সাইফুর রহমানকে আটক করে জিজ্ঞাস্যবাদ করা হচ্ছে। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
প্রকাশিত :
১৫:১৩, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১৫:২৩, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
সারাদেশে বজ্রপাতের ঘটনায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
এর মধ্যে গাইবান্ধায় ৫ জন, সিরাজগঞ্জে ২ জন, জামালপুরে ২ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জন, নাটোরের সিংড়ায় ১ জন, বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় ১ ও পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সব ঘটনায় অনেকে আহত হয়েছে।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া, সুন্দরগঞ্জের ধোপাডাংগা ও ফুলছড়িতে বজ্রপাতে দুই শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে পৃথক বজ্রপাতে এ ঘটনা ঘটে।
মৃতরা হলেন- সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শিশু ফুয়াদ, তার চাচাতো ভাই শিশু রাফি, সাদুল্লাপুর উপজেলার আলী আকবর। অন্যজনের নাম জানা যায়নি।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাংগা ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান মণ্ডল জানান, রোববার দুপুরে দক্ষিণ ধোপাডাংডার বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সুজা চৌধুরীর বাড়ির বারান্দায় খেলা করছিল সুজা চৌধুরীর শিশু পুত্র ফুয়াদ ও মুজাহিদের শিশুসন্তান রাফি। দুপুরে বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ বজ্রপাত হলে বারান্দায় অবস্থানরত ফুয়াদ ও তার চাচাতো ভাই রাফি গুরুতর আহত হয়। পরিবারের লোকজন দুজনকে নিয়ে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ধোপাডাংগায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।
সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়ায় জমিতে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয় মিজানুর রহমান নামের এক যুবক। তাকে গাইবান্ধা হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বুলবুলির চরে আলী আকবর নামে একজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে সাঘাটা উপজেলায় নম্বর আলী ও ফুলছড়ি উপজেলায় অজ্ঞাত একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় এক কৃষক ও এক যুবক মারা গেছেন। রোববার বিকালে এ ঘটনা ঘটে।
তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বজ্রপাতে আব্দুল হামিদ (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত গফুর আলীর ছেলে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম জানান, বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশে মাঠে কাজ করছিলেন আবদুল হামিদ। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি।
তাড়াশ থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, বজ্রপাতে কৃষক মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
একই দিন বিকাল ৫টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচাঁন এলাকায় বজ্রপাতে হাসান শেখ (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। মৃত হাসান শেখ ওই এলাকার আব্দুল হালিম শেখের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজ জমিতে ধান কাটছিলেন হাসান। এ সময় হঠাৎ আকাশে মেঘ জমে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
ধানগড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বজ্রপাতে হাসান শেখের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। আকস্মিক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক গৃহবধূ ও এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকালে উপজেলার কোষারাণীগঞ্জ ও সৈয়দপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
মৃতরা হলেন- উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের রশিদুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা আক্তার এবং কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকালে হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তন হয়ে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় পৃথক দুটি স্থানে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
সৈয়দপুর ইউনিয়নের গৃহবধূ সেলিনা আক্তার দুপুরে মাঠের কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষক ইলিয়াস আলী বিকালে নিজের ফসলি জমি দেখতে গিয়েছিলেন। এ সময় বজ্রাঘাতে তিনি প্রাণ হারান। পরে স্থানীয়রা তাকে জমিতে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্বজনদের খবর দেন।
পীরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হাকিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জামালপুরে বজ্রপাতে এক গৃহবধূ ও এক কৃষক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরও দুইজন।
জামালপুরের মেলান্দহ থানার ওসি উবায়দুর রহমান জানান, রোববার বিকালে মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী পৌর এলাকার কড়ইচুড়া গ্রামের রাজিব হোসেনের স্ত্রী মর্জিনা বেগম বাড়ির উঠানে রান্নার সময় বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন একই এলাকার হারুনের স্ত্রী শেফালী বেগম।
জামালপুর সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, জামালপুর সদরের চর যথার্থপুরে হাবিবুর রহমানের পুত্র হাসমত আলী হাসু নামে এক কৃষক ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা গেছেন। আহত হয়েছেন একই এলাকার নুর আলীর পুত্র কৃষক আনোয়ার হোসেন।
আহত শেফালী বেগমকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং সদর উপজেলার নুর আলীর পুত্র কৃষক আনোয়ার হোসেনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করা হয়েছে।
সিংড়ার চলনবিলে ধান কাটতে এসে বজ্রপাতে সম্রাট (২৬) নামের এক ধান কাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকাল সাড়ে ৪টায় উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের ঠেঙ্গাপাকুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত ব্যক্তি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের নগরডালা গ্রামের সাজা ফকিরের ছেলে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা একই গ্রামের আলম হোসেন (৩৫) ও আফজাল হোসেনর (৪০) নামের আরও দুই ধান কাটা শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদের নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে একই সময়ে উপজেলা কৈগ্রাম মাঠে ধান আনতে গিয়ে ফিরোজ হোসেন (২৫) নামের এক কৃষক আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল এর ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঠেঙ্গাপাকুরিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আউয়ালের বাড়িতে দু’দিন আগে ধান কাটার উদ্দেশ্যে ২০ থেকে ২২ জন ধান কাটা শ্রমিক আসেন। ঠেঙ্গাপাকুরিয়া মাঠে ধান কাটতে গিয়ে আকাশে কালো মেঘ দেখে কাজের বিরতি দিয়ে তাদের নির্ধারিত টিনের ছাপড়া ঘরে উঠেন শ্রমিকরা। হঠাৎ আকস্মিক বজ্রপাত ঘটলে টিনের ছাপড়াসহ আশপাশের দুটি গাছ পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় শ্রমিক সম্রাটসহ তার সঙ্গে থাকা আরও দুইজন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সম্রাটকে মৃত ঘোষণা করেন।
সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাতে একজন শ্রমিক নিহত ও পৃথক স্থানে আরও তিনজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পেয়েছি।
বগুড়ার গাবতলীতে বৃষ্টির মধ্যে ধান গাছে পলিথিন দেওয়ার সময় বজ্রাঘাতে সুমন মিয়া (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সোনারায় ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রাজা মণ্ডল জানান, মৃত সুমন মিয়া উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে। রোববার বেলা ২টার দিকে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় সুমন জমিতে থাকা ধান রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়ার জন্য বাড়ির কাছে মাঠে যান। তখন হঠাৎ বজ্রপাত হলে সুমন অচেতন হয়ে পড়ে যান।
মৃতের ভাই ও সোনারায় ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) রঞ্জু মিয়া জানান, আহত ভাই সুমনকে উদ্ধার করে বগুড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতউল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, সুমন লেখাপড়া বাদ দিয়ে চাকরির চেষ্টা করছিলেন। পাশাপাশি জমি ও সংসার দেখাশোনা করতেন।
এছাড়া পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় বজ্রপাতে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।