img

সালমান এফ রহমান, শায়ান ও শিবলী রুবাইয়াত পুঁজিবাজারে আজীবন নিষিদ্ধ

প্রকাশিত :  ১৩:০৭, ৩০ জুলাই ২০২৫

সালমান এফ রহমান, শায়ান ও শিবলী রুবাইয়াত পুঁজিবাজারে আজীবন নিষিদ্ধ

আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস-চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, তার ছেলে আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে দেশের পুঁজিবাজারে আজীবনের জন্য অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে বিএসইসি।

বুধবার (৩০ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে বিএসইসি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৪ জুন ৮৭১ তম কমিশন সভায় \'আইএফআইসি গ্যারান্টেড শ্রীপুর টাউনশিপ গ্রিন জিরো কুপন বন্ড\'- শীর্ষক ১৫০০ কোটি টাকার মূল্যের এবং ও ১০০০ কোটি টাকা ইস্যু মূল্যের বন্ড অনুমোদিত হয়েছিল। ওই বছরের ১২ জুলাই ওই বন্ডের সম্মতি পত্র ইস্যু করা হয়েছিল।

বন্ডটির ইস্যুয়ার ছিল শ্রীপুর টাউনশিপ লিমিটেড; যা ২০২৩ সালের ২ মার্চ প্রতিষ্ঠিত একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি। কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরপরই ১১ এপ্রিল ওই বন্ড ইস্যুর আবেদন করেছিল।

ওই কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ছিল ৫০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ছিল ৩৩৫ কোটি টাকা। যার মধ্যে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে ২৪৮ কোটি টাকার নগদ অর্থ ভূমি ক্রয়/উন্নয়ন সংক্রান্ত কারণে উত্তোলন করা হয়েছিল; যেটি কমিশনের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। 

এছাড়াও বন্ডটির জামিনদার (গ্যারান্টর) হিসেবে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি, অ্যাডভাইজার অ্যান্ড অ্যারেঞ্জার হিসেবে আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড, ট্রাস্টি হিসেবে সন্ধানী লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেড, ক্রেডিট রেটিং প্রদানকারী হিসেবে এমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল), নিরীক্ষক হিসেবে এম.জে. আবেদীন অ্যান্ড কো. চার্টার্ড অ্যাকাউন্টস দায়িত্ব পালন করেছে।

আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি ওই বন্ড ইস্যু করেনি, মূলত রিয়েল এস্টেট কোম্পানি শ্রীপুর টাউনশিপ রিমিটেড (এসটিএল) ওই বন্ডের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেছে। কিন্তু বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে বন্ডের নাম হিসেবে \'আইএফআইসি আমার বন্ড\' নামটি ব্যবহার করা হয়েছে। যা বিনিয়োগকারীকে ধারণা দেয় যে, এই বন্ড আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি; কিন্তু আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি ছিল মূলত বন্ডটির জামিনদার।

এভাবে বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা হয়। এ বিষয়ে \'পুঁজিবাজার অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি\' কর্তৃক অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালিত হয়েছে এবং এর প্রতিবেদন কমিশনে জমা হয়েছে। এ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ বিবেচনায় নিয়ে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তসমূহ কমিশন কর্তৃক গৃহীত হয়েছে।

১. আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি\'র তৎকালীন চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানকে ১০০ কোটি টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করার এবং পুঁজিবাজারে আজীবন অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

২. আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি\'র তৎকালীন ভাইস-চেয়ারম্যান আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানকে ৫০ কোটি টাকা অর্থদন্ডে দণ্ডিত করার এবং পুঁজিবাজারে আজীবন অবাঞ্চিত ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

৩. আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের তৎকালীন সিইও মো. ইমরান আহমেদকে ৫ বছরের জন্য পুঁজিবাজার সংক্রান্ত সকল ধরণের কাজে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

৫. আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি\'র তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব শাহ আলম সারওয়ারের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।


img

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস

প্রকাশিত :  ০৫:৪২, ২৪ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে বড় ব্যবধানে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবার ভরিতে ৫ হাজার ৪৮১ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। 

আজ বুধবার (২৪ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। 

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার (২২ জুন) সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৮০ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৪০ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৩৯ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।


অর্থনীতি এর আরও খবর