বছরের প্রথম দিনে সব বই পায়নি মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা
শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও বছরের প্রথম দিনে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই পায়নি মাধ্যমিক স্তরের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পরিকল্পনা ছিল প্রথম দিনেই সব শিক্ষার্থীর হাতে অন্তত এক থেকে দুটি করে হলেও বই তুলে দেওয়া। কিন্তু সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির একটি বইও যায়নি অনেক বিদ্যালয়ে, এমন বিদ্যালয় রাজধানীতেও আছে।
তবে এবার কোনো সংকট নেই প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই নিয়ে। আরও দুই সপ্তাহ আগেই প্রাথমিকের শতভাগ পাঠ্যবই মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যতিক্রম ছাড়া প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বছরের প্রথম দিনে সব পাঠ্যবই হাতে পেয়েছে।
যদিও প্রথম দিনেই সব শিক্ষার্থীর হাতে অন্তত এক থেকে দুটি করে হলেও বই তুলে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি)। কিন্তু সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর একটি বইও যায়নি অনেক বিদ্যালয়ে।
এনসিটিবির তথ্য বলছে, এবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৩০ কোটি ২ লাখের বেশি বিনামূল্যের বই ছাপিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ কোটি ৫৯ লাখ পাঠ্যপুস্তক ছাপানো হয়েছে। বিতরণের তারিখের অনেক আগেই সব বই উপজেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনসিটিবির কর্মকর্তারা।
এনসিটিবির সূত্রমতে, এবার মাধ্যমিক স্তরে (ইবতেদায়িসহ) পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ২১ কোটি ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ২৭৪টি। এর মধ্যে ৩১ ডিসেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত মাধ্যমিকের ৭২ দশমিক ৮৫ শতাংশ পাঠ্যবই মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কম সরবরাহ হয়েছে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর বই। ইবতেদায়ি স্তর ব্যতীত সপ্তম শ্রেণীতে ৫৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ ও অষ্টম শ্রেণীতে প্রায় ৪৫ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়গুলোতে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা কিছু বই পেলেও অনেক বিদ্যালয়ে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর কোনো বই পৌঁছায়নি। এনসিটিবির কর্মকর্তাদের দাবি, বছরের শুরুতে মাধ্যমিকের সব শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে না দেয়া গেলেও জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে পৌঁছে দেয়া হবে।
বিগত কয়েক বছর ধরেই মাধ্যমিকে শিক্ষার্থীরা বছরের প্রথম দিনে শতভাগ বই পাচ্ছে না। গত দুই বছরে শিক্ষার্থীদের সব বই হাতে পেতে প্রায় বছরের অর্ধেক পার হয়ে গিয়েছিল। বিগত বছরের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার পাঠ্যবই ছাপার প্রক্রিয়া আগেভাগেই শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ সময়ে (নভেম্বর) ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর পাঠ্যবই ছাপার দরপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ফলে আবার দরপত্র আহ্বান করে এখন বই ছাপানো হচ্ছে। এছাড়া কর্মকর্তাদের দাবি, ছাপার কাজে মন্ত্রণালয় ও ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অনুমোদন পেতেও দেরি হয়েছে।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আবুল বাশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। এ সময় তিনি জানান, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বছরের প্রথম দিনেই শতভাগ বই পেয়েছে। এ বছর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর চলমান রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে জাঁকজমকপূর্ণ উদযাপন ছাড়াই শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, ‘এ বছর পাঠ্যপুস্তকের মান অতীতের তুলনায় মানসম্মত। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি বড় সাফল্য।’
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য এবার অভিভাবক নির্দেশিকা ছাপার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আপনাদের জন্য বই তৈরি করছি অভিভাবক নির্দেশিকা এবং সেটা শিগগির আপনাদের হাতে পৌঁছাবে। শিশুরা কীভাবে বড় হয়ে ওঠে, তার জন্য আপনাদের করণীয় কী, সেসব বিষয়ে খুব সহজ ভাষায় ছবির মাধ্যমে আমরা বর্ণনা করেছি। আমরা মনে করি শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর তিনটি—আমাদের শিক্ষার্থী, শিক্ষক আর অভিভাবক। এ তিনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শুধু প্রাথমিক শিক্ষা সফল হতে পারে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যদি শিশুদের শিক্ষিত করে তুলতে চাই, সত্যিকার অর্থে তাদের মানুষ করে তুলতে চাই, তাহলে প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্বটাই সবচেয়ে বেশি। সেটা ঠিকমতো না হলে পরবর্তী সময়ে কিছু হয় না।’



















