img

ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৬:১৯, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি ঘোষিত ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর করার লক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়।

ট্রাম্পের সই করা এই আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘ভারত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ‘। বিনিময়ে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নিয়ে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে ওয়াশিংটন ভারতীয় পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্কের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনবে। তবে এই শুল্ক হ্রাস প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। শুক্রবার সই হওয়া নির্বাহী আদেশের ফলে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি স্থানীয় সময় আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিট (ইস্টার্ন টাইম) থেকে কার্যকর হচ্ছে।

ভারত এখন থেকে রাশিয়ার বদলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পণ্য কিনবে। আগামী ১০ বছর ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি রূপরেখা তৈরিতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে নয়াদিল্লি। ভারত আগামী ৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ৫০ হাজার কোটি ডলারের জ্বালানি, উড়োজাহাজ, প্রযুক্তিপণ্য, মূল্যবান ধাতু ও কয়লা আমদানির পরিকল্পনা করছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভারত এতদিন সস্তায় রুশ তেল কিনে আসছিল। এ নিয়ে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে দীর্ঘ কয়েক মাস কূটনৈতিক উত্তেজনা চলছিল। ট্রাম্পের দাবি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যক্তিগত আলোচনার মাধ্যমে রুশ তেল কেনা বন্ধের এই নিশ্চয়তা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত পৃথক বিবৃতিতে ভারতের নির্দিষ্ট কিছু উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশের ওপর থেকেও শুল্ক তুলে নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

গত বছরের শেষ দিকে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্কের হার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। বর্তমান সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের রপ্তানি খাতে স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন্ডি কাটলার বলেন,‘১৮ শতাংশ শুল্কহারের কারণে ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় বিশেষ সুবিধা পাবেন। কারণ দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ১৯ থেকে ২০ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হচ্ছে।’

এই পদক্ষেপকে ট্রাম্প ও মোদির ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক সম্পর্কের বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প ইতিপূর্বেও মোদিকে তাঁর ‘অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক উত্তেজনার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

img

ইইউ-যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডেনিম রপ্তানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ০৯:০৯, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

জিন্স রপ্তানি শুরুর চার দশক পর বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডেনিম পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষস্থান দখল করেছে বাংলাদেশ। কয়েক বছর আগেই এই সাফল্যের মুকুট অর্জন করে দেশটি, এবং প্রতি বছরই ডেনিম রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

গত বছর এই দুই বৃহৎ বাজারে বাংলাদেশ প্রায় ২৬০ কোটি মার্কিন ডলারের ডেনিম পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি।

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) ও ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৯৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি। দেশটিতে ডেনিম রপ্তানিতে প্রায় ২৬ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি হয়েছে ১৬৪ কোটি ডলার, যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২১ শতাংশ। ইইউ বাজারেও বাংলাদেশ শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে।

বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে অনুসরণ করছে মেক্সিকো, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, তুরস্ক ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মেক্সিকো দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে ৬৪ কোটি ডলারের ডেনিম রপ্তানি করেছে। অন্যদিকে ভিয়েতনাম ও পাকিস্তান উভয়ই প্রায় ৫০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। ইইউ বাজারে বাংলাদেশের পরেই রয়েছে পাকিস্তান, যারা ১০৩ কোটি ডলারের ডেনিম রপ্তানি করেছে। এছাড়া তুরস্ক, তিউনিসিয়া ও চীনও এই বাজারে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ডেনিম শিল্পের বিকাশে গত দেড় দশকে ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছে। একসময় যেখানে দেশে ডেনিম কাপড় উৎপাদনকারী মিলের সংখ্যা ছিল ১০-১২টি, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৫০টির কাছাকাছি পৌঁছেছে। এখন দেশীয় মিলগুলোই মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ ডেনিম কাপড় সরবরাহ করছে, যা আগে আমদানিনির্ভর ছিল।

এছাড়া উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়াও বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়িয়েছে। গ্যাস ও পানির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়। পাশাপাশি বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে চীন থেকে ক্রয়াদেশ সরেও বাংলাদেশে আসছে, যা রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ঢাকায় নিয়মিত আন্তর্জাতিক ডেনিম প্রদর্শনী আয়োজনের মাধ্যমেও বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশের ডেনিম শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে আরও পরিচিতি পেয়েছে। উদ্যোক্তাদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ওয়াশিং প্ল্যান্ট ও উৎপাদন সুবিধা বাড়ায় পণ্যের মানও উন্নত হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দৈনিক প্রথম আলোয় এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।


অর্থনীতি এর আরও খবর