img

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

প্রকাশিত :  ০৫:৫৯, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:১৮, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। সকাল সাড়ে ৯টা থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৯ হাজার ৭৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭১ হাজার ১১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে, বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

এর আগে, সবশেষ ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০ টা থেকেই।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩০ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ১৮ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ১২ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

স্বর্ণের দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৯০৭ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১৭ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ১০ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ৭ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।


অর্থনীতি এর আরও খবর

img

হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণায় কমল তেলের দাম

প্রকাশিত :  ১৭:২৭, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের তীব্র উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার পর ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।

\r\n

ইরানের পক্ষ থেকে এই সমুদ্রপথ উন্মুক্ত করার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই রুটটি কার্যত বন্ধ ছিল, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায়। ফলে তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে এখন এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি পুনরায় চালু হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হবে—এমন জোরালো প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা তেলের মজুত ছাড়তে শুরু করেছেন।

আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়। এটি খুলে যাওয়া মানেই বিশ্ববাজারে জ্বালানির সংকট কেটে যাওয়া। 

এই স্বস্তিদায়ক খবর আসার পরপরই তেলের দামের গ্রাফ দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।