img

সূচকে টানা চাপ, বিক্রির দাপট শেষে লালাবৃত্ত—কাল ঘুরে দাঁড়াবে কোন খাত?

প্রকাশিত :  ১৬:৪২, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

✍️ রেজুয়ান আহম্মেদ

দিনভর দোলাচলের পর বিক্রির চাপে শেষ পর্যন্ত নেতিবাচক সুরেই শেষ হলো দেশের প্রধান পুঁজিবাজারের লেনদেন। লেনদেনের শেষ ঘণ্টায় দরপতনের গতি বাড়ায় সূচক নেমে আসে মনস্তাত্ত্বিক এক গুরুত্বপূর্ণ স্তরের কাছাকাছি। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা ও বড় মূলধনের শেয়ারে বিক্রির চাপই আজকের পতনের মূল কারণ।

ডিএসইএক্স সূচক দিনশেষে ৫১ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫১৯ দশমিক ১৪ পয়েন্টে, যা শতাংশের হিসেবে শূন্য দশমিক ৯২ শতাংশ পতন। শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস ও ব্লু-চিপ ডিএস-৩০ সূচকও যথাক্রমে ১ দশমিক ০৬ ও শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে। সারাদিনে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৯৩৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার, যা আগের কয়েক দিনের তুলনায় মাঝারি মানের। মোট ২৪৩ হাজারের বেশি লেনদেন সম্পন্ন হলেও দরপতন হয়েছে ২৮১টি কোম্পানির, বিপরীতে বেড়েছে মাত্র ৮১টির—সংখ্যার দিক থেকেই বাজারের চাপ স্পষ্ট।

কেন নেতিবাচক হলো বাজার?

চার্ট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সকালেই সূচক কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও ১২টার পর থেকে ধীরে ধীরে বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে শেষ এক ঘণ্টায় বড় মূলধনের খাতে ধারাবাহিক বিক্রি সূচককে ৫৫০০ পয়েন্টের ঘরে ঠেলে দিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দিন আগের উত্থানের পর স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নেওয়ায় এই চাপ তৈরি হয়েছে।

মার্কেট ম্যাপে ব্যাংক, ফার্মাসিউটিক্যালস অ্যান্ড কেমিক্যালস, টেক্সটাইল ও জ্বালানি খাতের অধিকাংশ শেয়ার লালে রঙিন ছিল। অর্থাৎ, সূচক পতনের পেছনে বড় ও মাঝারি মূলধনের শেয়ারের সম্মিলিত প্রভাব কাজ করেছে।

এ ছাড়া কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সতর্ক অবস্থান এবং খুচরা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতার আভাসও লেনদেনের গতিতে প্রভাব ফেলেছে। বাজারে লেনদেনের পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকার নিচে থাকায় ক্রেতাদের শক্ত অবস্থান তৈরি হয়নি।

কোন খাতে ছিল আপেক্ষিক স্থিতি?

\'টপ সেক্টর বাই গেইনার\' চিত্রে দেখা গেছে, প্রকৌশল ও কিছু বিমা কোম্পানিতে ছিটেফোঁটা দরবৃদ্ধি ছিল। যদিও সামগ্রিক চিত্র নেতিবাচক, তবু কয়েকটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি কোম্পানিতে ক্রয়চাপ লক্ষ করা গেছে।

অন্যদিকে \'টপ সেক্টর বাই ভ্যালু\' বিশ্লেষণে ব্যাংক খাতেই সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে। এর পরেই ছিল ওষুধ ও প্রকৌশল খাত। অর্থাৎ, বাজারে তারল্য প্রধানত বড় খাতগুলোকেই ঘিরে ছিল।

আগামীকাল কোন খাত ভালো করতে পারে?

কারিগরি বিশ্লেষকদের মতে, ৫৫০০ পয়েন্টের কাছাকাছি সূচক একটি স্বল্পমেয়াদি সাপোর্ট জোনে রয়েছে। এই স্তর ধরে রাখতে পারলে আগামীকাল ব্যাংক ও ফার্মাসিউটক্যালস খাতে টেকনিক্যাল রিবাউন্ড দেখা যেতে পারে। কারণ, আজ এসব খাতে অতিরিক্ত বিক্রি হয়েছে—যা অনেক ক্ষেত্রে \'ওভারসোল্ড\' পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

এ ছাড়া প্রকৌশল ও বিমা খাতে আজ যে সীমিত ক্রয়চাপ ছিল, সেটি অব্যাহত থাকলে সেসব খাতেও ইতিবাচক গতি দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব কোম্পানির লেনদেন বেড়েছে কিন্তু দরপতন তুলনামূলক কম, সেগুলোতে স্বল্পমেয়াদি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, লেনদেন এক হাজার কোটি টাকার ওপরে না গেলে টেকসই উত্থান কঠিন হবে। বিনিয়োগকারীদের আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত না নিয়ে মৌলভিত্তি ও কারিগরি সূচক বিবেচনায় বিনিয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, আজকের পতন আতঙ্কের বার্তা নয়; বরং উত্থানের পর স্বাভাবিক সংশোধন বলেই দেখছেন অনেকে। এখন দেখার বিষয়, ৫৫০০ পয়েন্টের প্রাচীর ভেঙে পড়ে নাকি সেখান থেকেই বাজার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ায়।

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণায় কমল তেলের দাম

প্রকাশিত :  ১৭:২৭, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের তীব্র উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার পর ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।

\r\n

ইরানের পক্ষ থেকে এই সমুদ্রপথ উন্মুক্ত করার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই রুটটি কার্যত বন্ধ ছিল, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায়। ফলে তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে এখন এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি পুনরায় চালু হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হবে—এমন জোরালো প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা তেলের মজুত ছাড়তে শুরু করেছেন।

আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়। এটি খুলে যাওয়া মানেই বিশ্ববাজারে জ্বালানির সংকট কেটে যাওয়া। 

এই স্বস্তিদায়ক খবর আসার পরপরই তেলের দামের গ্রাফ দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।